দিনাজপুরের হিলিতে মাঘ মাসের হঠাৎ বৃষ্টিতে ২৫০ হেক্টর আলুর ক্ষেতে পানি জমেছে। এতে ক্ষেতে আলুতে পচন ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সরিষার ক্ষেতেও পানি জমেছে। এ কারণে লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে হিলিতে বৃষ্টি শুরু হয়, যা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বিকালে কিছুটা কমলেও রাত ৮টার পর আবার শুরু হয় এবং রাতভর বৃষ্টি হয়। এদিকে শনিবার সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে।
একই গ্রামের অপর কৃষক মোস্তাক আলী বলেন, ‘এখন আমাদের আলু তোলার মৌসুম। আর কয়েক দিনের মধ্যেই আলু তোলা শুরু হয়ে যেতো। কিন্তু বৃষ্টিতে আমাদের আলুর ক্ষেতে পানি জমে গেছে।’
অপর কৃষক আব্দুল আলিম বলেন, ‘বাবা ও ছেলে মিলে আলুর জমি থেকে পানি সেচে ফেলছি। যদি নতুন করে বৃষ্টি না হয় এবং আগামী দুই-তিন দিন টানা রোদ হয়, তাহলে পানি সেচে কিছুটা রক্ষা হতে পারে।’
একই গ্রামের সরিষা চাষি বাবুল হোসেন বলেন, ‘আমি এবার সরিষা চাষ করেছি। এগুলো পরিপক্ব হতে আরও কিছুদিন সময় লাগতো। কিন্তু বৃষ্টি কারণে আমার সরিষার ক্ষেতে পানি জমে গেছে। গাছগুলো হেলে পড়েছে, ভেঙে গেছে। এ কারণে সরিষার ভালো ফলন পাওয়া যাবে না। লাভের আশায় সরিষা চাষ করেছিলাম। এখন লোকশান গুনতে হবে।’
হাকিমপুর উপজেলার কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা বলেন, ‘মাঘ মাসের হঠাৎ বৃষ্টিতে উপজেলায় ২৫০ হেক্টর আলুর ক্ষেতে পানি জমেছে। এ ছাড়া কিছু সরিষা ও গমের ক্ষেতে পানি জমে আছে। ওই ক্ষেতগুলো থেকে দ্রুত পানি অপসরণ করতে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। এসব জমি থেকে দ্রুত পানি বের করলে এবং আবহাওয়া ভালো হয়ে গেলে সমস্যা হবে না। রোদ হলে ও পানি কমে গেলে কিছু হেলে পড়া সরিষা দাঁড়াতে পারে। আর যেগুলো দাঁড়াতে পারবে না সেগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তবে পরবর্তী সময়ে আলুর লেটব্রাইট রোগ দেখা দিতে পারে।’
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘শনিবার ৫ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৫ শতাংশ এবং গতি ঘণ্টায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার। দিনাজপুরে বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে ৫৯ মিলিমিটার।’









