দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ১১ মাস পর আবারও দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে।
শনিবার (২৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই ট্রাক চাল ভারত থেকে দেশে প্রবেশের মধ্য দিয়ে আমদানি শুরু হয়। দুটি ট্রাকে ৭৪ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। নওগাঁর একে ট্রেডিং নামের এক আমদানিকারক এসব চল আমদানি করেছেন।
আমদানিকারকের এজেন্ট রাশেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নওগাঁর আমদানিকারক মেসার্স একে ট্রেডিং চাল আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর এলসি খুলেছিলেন। শনিবার ভারত থেকে দুই ট্রাকে ৭৪ টন চাল দেশে ঢুকেছে। প্রতি টন চাল ৩০০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হয়েছে। এর সঙ্গে প্রতি কেজি চালে কাস্টমসে সরকারের শুল্ক ও বন্দর খরচ মিলিয়ে ১০ টাকার মতো পড়বে। সব খরচ মিলিয়ে পরে চালের দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে আজ এসব চাল খালাস করা হবে না। রবিবার কাগজপত্র পেলে কাস্টমসে বিল অব অ্যান্ট্রি সাবমিট করা হবে। এরপর শুল্ক পরিশোধ করে এসব চাল খালাস নেওয়া হবে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘চাল আমদানিতে বাড়তি শুল্ক আরোপ থাকায় গত ৩১ আগস্ট থেকে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি সরকার চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে নতুন করে চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ায় আবারও আমদানি শুরু হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বাড়বে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় বাড়বে। সেইসঙ্গে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের আয়ও বাড়বে। কাস্টমসের প্রক্রিয়া শেষে আমদানিকারকরা যাতে চাল দ্রুত খালাস করে নিতে পারেন সে জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেখেছি আমরা।’
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চাল আমদানিতে ৬২.৫ ভাগ শুল্ক আরোপ থাকায় বন্দর দিয়ে এতদিন আমদানি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি শুল্ক কমিয়ে রেয়াতি হারে চাল আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে চালের আমদানি শুল্ক ২৫ ভাগ করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র যারা সরকারের কাছ থেকে চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছেন তারাই এ শুল্কে আমদানি করতে পারবেন। অন্য কেউ চাল আমদানি করলে তাকে ৬২.৫ ভাগ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।’
প্রসঙ্গত, দেশে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক ৬২.৫ ভাগ থেকে কমিয়ে ২৫ ভাগ নির্ধারণ করে দেয় সরকার। সেইসঙ্গে বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানির জন্য ৩০ জুন প্রথম ধাপে ও পরবর্তী সময়ে কয়েক ধাপে সারা দেশের ৩৮০ জন আমদানিকারককে কয়েক লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে হিলি স্থলবন্দরের ১০ জন আমদানিকারক ৩০ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পান।









