পৌরসভা মসজিদে ইমামের চাকরি পেলেন আন্দোলনে নিহত সাজ্জাদের বাবা

নীলফামারী প্রতিনিধি
১৯ নভেম্বর ২০২৪, ১৭:৩৮আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৪, ১৭:৪২

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আলমগীর হোসেনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা। সোমবার পৌরসভার ওয়াক্তিয়া মসজিদের ইমাম হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। মাগরিবের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করেন তিনি। এ সময় পৌরসভার প্রশাসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে আজ আমরা মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে পারছি। স্বাধীনতার স্বাদ নতুন করে পেয়েছে সবাই। এজন্য কৃতিত্ব ছাত্র-জনতা ও শহীদ এবং আহতদের। সাজ্জাদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। লেখাপড়ার পাশাপাশি পোশাক কারখানায় চাকরি করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। ছেলে শহীদ হওয়ায় বিপাকে পড়ে বাবা-মা। তাই তার পরিবারকে সহযোগিতার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি। পৌরসভায় একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদটি নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আলমগীর হোসেনকে পৌরসভার ওয়াক্তিয়া মসজিদের ইমাম হিসেবে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

সাজ্জাদ হোসেনের বাবা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে সাজ্জাদের ইচ্ছে ছিল একটি মাদ্রাসা বা মসজিদ গড়ে তোলার। কখনও যদি আমার সামর্থ্য হয়, তাহলে ছেলের ইচ্ছা পূরণ করবো।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এহতেসামুল হক সানি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে দাবি করে আসছি শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন করার জন্য। সে লক্ষ্যে আমাদের ভাই শহীদ সাজ্জাদের বাবাকে পৌরসভার মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য পৌর প্রশাসককে ধন্যবাদ জানাই।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলার লক্ষণপুরের আলমগীর হোসেন ও শাহীদা বেগম দম্পতির তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে সাজ্জাদ ছিলেন বড়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজি (এএমটি) ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। কয়েক বছর ধরে পরিবার নিয়ে সাভারের কলমার দক্ষিণ আউকপাড়ার স্বপ্নপুরী হাউজিংয়ের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন আলমগীর। সাভার থেকেই মাঝেমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যেতেন সাজ্জাদ। পরিবারকে সাহায্য করতে গাজীপুরের মাওনায় একটি কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরিও নিয়েছিলেন। ৫ আগস্ট সকালে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে আন্দোলনে অংশ হতে বাসা থেকে বের হয়ে যান সাজ্জাদ। দুপুরে ভাইয়ের ফোন থেকে ছোট বোন নিশাতের কাছে ফোন করে অপরিচিত এক ব্যক্তি খবর দেন সাজ্জাদের শরীরে গুলি লেগেছে। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সাজ্জাদের বাবা মেয়েকে নিয়ে দ্রুত এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে দেখতে পান ছেলেকে। পরদিন ৬ আগস্ট সকালে মারা যান সাজ্জাদ। পরে সাভারের কলমায় প্রথম জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি সৈয়দপুরে নিয়ে আসা হয় লাশ। গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শহরের হাতিখানা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

/এএম/
সম্পর্কিত
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
দিল্লির রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ আগুন, বিদেশি নাগরিকসহ নিহত ২১
দুই মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের হাইকোর্টে জামিন আবেদন
সর্বশেষ খবর
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: সোহেল রানার জবানবন্দিতে যা উঠে এলো
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের