লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির সোহেল রানাকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুরোনো তিনটি হত্যা মামলায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে পাটগ্রামের ব্র্যাক অফিসের সামনের সড়ক থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর সোহেল রানা বলেছেন, ‘২০১৩ সালের মামলায় আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব মামলা ষড়যন্ত্রমূলক করা হয়েছিল। আমাকে গ্রেফতারের পেছনে লালমনিরহাট-১ আসন আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য হাসান রাজিব প্রধানের হাত আছে।’
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, পাটগ্রাম থানায় হওয়া ২০১৩ সালে দুটি ও ২০১৪ সালে একটি হত্যা মামলায় বিকালে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি মামলার বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘ঘটনা অনেক দিন আগের। আমি তখন এখানে কর্মরত ছিলাম না।’
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির আবু তাহের বলেন, ‘গত রবিবার পাটগ্রামে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীদের ফোন করে কৌশলে ডেকে নিয়ে বিএনপি নেতারা হামলা ও মারধর করেন। পরদিন পুলিশ জামায়াত ও শিবিরের পাঁচ কর্মীকে আটক করে। এর প্রতিবাদে পাটগ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জামায়াত। সেখানে নেতৃত্ব দেন সোহেল রানা। এ কারণে প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে আজ তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।’
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফিরোজ হায়দার বলেন, ‘২০১৩ সালের ডিসেম্বরে পাটগ্রামে পুলিশের গুলিতে আমাদের দলের দুজন মনিরুল ইসলাম ও সাজু মিয়া শহীদ হন। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে করা হত্যা মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়। সেই মামলায় পুলিশ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে। পাটগ্রাম থানার ওসি ২০১৩ সালে দুটি ও ২০১৪ সালে একটি হত্যা মামলায় সোহেল রানাকে গ্রেফতারের কথা বলেছেন। তার এ বক্তব্য সঠিক নয়। মামলা ২০১৩ সালের, ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে কোনও হত্যা মামলা নেই।’
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘পাটগ্রাম পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আদলতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’









