কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ অনন্তপুর নাজিরহাট সীমান্তে দিনভর পুশইন-পুশব্যাক নাটকীয়তার পর বাংলাদেশি শিশুকে (৯) শনিবার (১৩ জুন) রাতে ফেরত নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শিশুটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ির নিকটবর্তী সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করে বলে জানা গেছে।
শনিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিশুটিকে ফেরত নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি।
শিশুটি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মধ্য কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। উপজেলা মধ্যকাশিপুর ঘগোয়ারপাড় গ্রামে তার পরিবারের বসবাস।
দক্ষিণ অনন্তপুর সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, শনিবার দুপুরে ১টার দিকে উপজেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার-৯৪৩ এর সাব পিলার-৩ এর কাছাকাছি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এক কন্যা শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিএসএফের এমন প্রচেষ্টার বিপরীতে শক্ত অবস্থান নেয় বিজিবি। শিশুটিকে কেন্দ্র করে দুপুর গড়িয়ে বিকাল পর্যন্ত চলে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পুশইন-পুশব্যাক নাটক। পরে শেষ বিকালের দিকে বিএসএফ শিশুটিকে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে শিশুটির মা খুঁজতে খুঁজতে সীমান্ত এলাকায় জানতে পারেন বিএসএফের হাতে এক মেয়ে শিশু আটক রয়েছে। পরে তিনি নিশ্চিত হন ওই শিশুটি তারই। বিষয়টি বিজিবিকে জানালে ফের বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজিবি। পরে রাতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিশুটিকে ফেরত দেয় বিএসএফ।
শিশুটির মা জানান, সকাল ১০টা দিকে স্কুলে পাঠানোর সময় খাবারের বায়না ধরে। কিন্তু খাবার না দিয়ে তাকে স্কুলে পাঠিয়ে দেন। পরে দুপুর ১২টায় খাবারের জন্য বাড়ি আসে। স্কুল থেকে বাড়ি আসার কারণে শিশুটির বাবা ফের রাগ করে। মেয়েকে স্কুল শেষ করে খাবার খেতে বলেন। এতে শিশুটি অভিমান করে ওই সীমান্তের ওপারে ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার সেউটি এলাকায় ঢুকে পড়ে।
ওই সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিএসএফ শিশুটিকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু পুশইন ভেবে বিজিবি শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তাকে ফের নিজেদের জিম্মায় নেয় বিএসএফ।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগের পর পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেয় বিজিবি। শনিবার বৈঠক শেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিজিবির কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বিজিবি প্রথমে শিশুটিকে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে তার বাংলাদেশি পরিচয় নিশ্চিত হলে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানায়। বৈঠক শেষে শিশুটিকে রাতেই তার বাবা-মায়ের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে শিশুটির সঙ্গে অযাচিত রাগারাগি না করে সে বিষয়ে তার বাবা-মাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








