রংপুরে চার খুন: এবার সিদ্ধার্থের বাবা-ভাই আটক

রংপুর প্রতিনিধি 
২৯ আগস্ট ২০২৬, ২২:১৭আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২২:১৭

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় এবার প্রধান আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় চন্দ্র দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাসুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চার খুনের ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বড় ভাই পার্থ দাস ব্যবহার করছিলেন। ওই ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড পরীক্ষা করে হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে সিদ্ধার্থ কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং গ্রেফতারের পর পার্থ দাস কার কার সঙ্গে কথা বলেছেন, তা যাচাই করে দেখবে পুলিশ। এজন্য পার্থ দাসকে আটক করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে গত কয়েক দিন ধরে ডাকা হলেও তারা ডিবি কার্যালয়ে আসেননি। এজন্য আজ সন্ধ্যায় তাদের বাসা থেকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। মূলত তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছে।’

জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে

রংপুর মহানগর ডিবি পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক দিন ধরে সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে কথা বলার জন্য ডেকেছিলাম। তারা আসেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের ডিবি অফিসে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা পরে জানানো হবে।’

সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ

এদিকে চার খুনের ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে প্রধান আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। শনিবার মাছুয়াপাড়ায় খবর সংগ্রহ করতে গেলে দৈনিক খবরের কাগজের রংপুর প্রতিনিধি সেলিম সরকারকে একদল ব্যক্তি ঘিরে ধরে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেওয়া এবং শরীর তল্লাশির নামে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সেলিম সরকারের অভিযোগ, পার্থ দাসের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি অজ্ঞাত কয়েকজন যুবকও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাকে হেনস্তা করেন। খবর পেয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। একই সময় মহানগর ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে পরে গণমাধ্যমকর্মীরা নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় সাংবাদিক সেলিম সরকারকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের সাংবাদিক ফারুকুজ্জামান ফারুক, কালবেলার প্রতিনিধি রেজওয়ান কবীর রনিসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সাংবাদিক সেলিম সরকারকে হেনস্তার অভিযোগের বিষয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’

গত শনিবার রাতে রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকার একটি তিনতলা বাড়ি থেকে চার জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারা হলেন- রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১৩)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রবিবার ভোরে দুজনকে আটক করার কথা জানায় পুলিশ। সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাস (২৩) নামের ওই দুই তরুণের বাড়ি গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির কাছে। এরপর রবিবার বেলা দেড়টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য জানায়। তখন বলা হয় ওই দুই যুবকই হত্যায় জড়িত।

সবশেষ গত বৃহস্পতিবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ গ্রেফতার দুই আসামিকে মূল খুনি হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি সম্ভাব্য কারণও উল্লেখ করেছেন তিনি। ওই দিন সকাল ৯টায় তার কার্যালয়ে ডাকা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। চার খুনের ঘটনায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও জাতদ্বন্দ্ব থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘নিহত গণপতি চক্রবর্তী গ্রেফতারকৃত সিদ্ধার্থের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জমি কিনে বাড়ি করার ঘটনাকে কেন্দ্র জমির শরিকরা প্রাপ্য টাকা পায়নি- এমন একটি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গণপতি চক্রবর্তী ব্রাহ্মণ ঘরের সন্তান। তিনি নাকি মাছুয়াপাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে দাস সম্প্রদায়ের মনে করতেন। তাই তাদের সঙ্গে দেখা হলে কথা হতো, তবে কাউকেই বাসায় অ্যালাউ করতেন না। মহল্লার লোকজনের গণপতির বাসায় যাতায়াত ছিল না বলে ক্ষোভ থাকতে পারে, যা হত্যার কারণ বলে মনে করছেন তিনি। পুলিশ কমিশনার বলেন, হত্যার ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার ভোরে হয়েছে, রাতের বেলায় নয়।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
কী ঘটেছিল সেদিন রাতে, থানায় এসে বিস্তারিত জানালেন ভাইরাল তরুণী
মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত পুলিশি কাঠামোর মধ্যে রাখলে ফল পাওয়া কঠিন: নূর খান
কনস্টেবলকে থাপ্পড় মেরে সাবেক ছাত্রদল নেতা বললেন ‘ক্ষমা চেয়েছি’
সর্বশেষ খবর
মিরাজ শেখ নিখোঁজের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিরাজ শেখ নিখোঁজের বিষয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন আরেক বিএনপি নেতা
ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধন করলেন আরেক বিএনপি নেতা
হকি দলের মিশন চায়না: জার্সি ও স্পন্সর পরিচিতি অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ স্বপ্ন
হকি দলের মিশন চায়না: জার্সি ও স্পন্সর পরিচিতি অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ স্বপ্ন
গুমের স্বাধীন তদন্ত চাইলেন সারা হোসেন
গুমের স্বাধীন তদন্ত চাইলেন সারা হোসেন
সর্বাধিক পঠিত
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে হচ্ছে কী
সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 
সারা দেশে বিশেষ অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর 
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন আইরিন খান
‘এরা আমাকে মেরে ফেলবে’; মৃত্যুর আগে তরুণীর আকুতি, সন্তানসহ মৃত্যু
‘এরা আমাকে মেরে ফেলবে’; মৃত্যুর আগে তরুণীর আকুতি, সন্তানসহ মৃত্যু
খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও বানানো সেই দুই তরুণ আটক
খেলনা বন্দুক হাতে ভিডিও বানানো সেই দুই তরুণ আটক