কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে আবারও চাহিদামতো সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন কৃষকেরা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় আমজাদের সারের দোকানের সামনে সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা সড়কে বাঁশ ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
ডিলার ও স্থানীয় কৃষকদের দাবি, চারটি ওয়ার্ডে সার বিতরণের কথা থাকলেও অন্যান্য ওয়ার্ডের কৃষকেরাও ডিলার পয়েন্টে সার নিতে ভিড় জমান। এতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অনেকে বিক্ষোভ করে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এগুলো পূর্ব পরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা ডিলার ও স্থানীয় প্রশাসনের।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সার না পেয়ে কৃষকেরা বিক্ষোভ করেছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, সারের কোনও সংকট নেই। কিন্তু কৃষকেরা বলছেন সার পাচ্ছেন না। সার থাকলে কৃষকেরা পাবেন না কেন? এটা কৃষি বিভাগ ভালো বলতে পারবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সারের কোনও সংকট নেই। প্রতি বছরের মতো এ বছরও চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু কিছু কৃষক সংকটের গুজবে কান দিয়ে অতিরিক্ত সার সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। এজন্য বিক্ষোভ করছেন। কিন্তু সারের সংকট নেই। প্রতি উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ রয়েছে।’
কৃষকদের সারের জন্য বিক্ষোভকে বাস্তবতার বিপরীত উল্লেখ করে এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমানে আমন এবং সবজি ক্ষেত ছাড়া আর সারের প্রয়োজন নেই। চলতি মাসের অর্ধেক সময় পার হলে আমন ক্ষেতেও আর ইউরিয়া দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তাহলে কৃষকেরা সারের জন্য মরিয়া কেন হচ্ছেন? এখানে তৃতীয় কোনও পক্ষের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। অনেকে সার সংকটের গুজবে কান দিয়ে শীত মৌসুমের জন্য আগাম মজুত করার জন্য সার কেনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাস্তবে জেলায় সারের কোনও সংকট নেই। এলাকাভিত্তিক মাসিক চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ রয়েছে। বরং কিছু এলাকায় বিগত বছরের চেয়ে বেশি সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপরও সারের জন্য বিক্ষোভ আসলে প্রশ্ন তৈরি করে।’
একই দিন সকালে রৌমারী উপজেলায় ডিলারের গুদামের বেড়া ও দরজা ভেঙে শতাধিক বস্তা সার নিয়ে গেছেন বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। উপজেলার সদর ইউনিয়নের রৌমারী মহিলা কলেজপাড়া এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজ নামের ডিলারের গুদামে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে ২৩ আগস্ট ভূরুঙ্গামারীতে ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে গেছেন কৃষকেরা। সারের কৃত্রিম সংকট এবং অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে এসব সার নিয়ে যান তারা। ওই দিন দুপুরের দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এবার রৌমারীতে ডিলারের গুদাম ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা







