নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে ১৬১ জন শিক্ষার্থী মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ৫৯, ২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৫৩ ও ২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ৪৯ জন।
ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী মেডিক্যাল কলেজ, বুয়েট, চুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকেন। গত ২২-২৩ শিক্ষা বর্ষে ৫২ জন শিক্ষার্থী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। এ নিয়ে ২১৩ জন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন।
সৈয়দপুরের সিনিয়র সাংবাদিক আমিরুজ্জামান জানান, ১৯৬৪ সালে দেশের চারটি শিল্পাঞ্চলে (টেকনিক্যাল) কারিগরি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সুবাদে একটি। টার্গেট ছিল ওই বিদ্যালয় থেকে কারখানার জন্য দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরু করা। পরে ১৯৭৭ সালে বিদ্যালয়টি মহাবিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।
স্কুল শাখার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিনহাজুল আবেদীন, হাসনাইন হাসিম রুমোন, জুনাইদ ইসলাম বলেন, এই কলেজের স্যাররা আমাদের যথেষ্ট ভালোবাসেন। তবে শিক্ষার ক্ষেত্রে যেমন ছাড় দেন না, তেমনি আদরের মধ্যদিয়ে ক্লাসের পড়া বুঝিয়ে নেন। এ কারণে প্রতিবছর আমাদের কলেজ থেকে মেডিক্যাল কলেজ, বুয়েট ও চুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। স্যারদের দিন রাত পরিশ্রমে এই সাফল্য পেয়ে থাকি আমরা।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাতের বাবা আল-আমিন বলেন, আমার ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। এবার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে। আমি ভাবতে পারিনি এই কলেজে ছেলেকে পড়াতে পারবো। এখানকার শিক্ষার মান ও পরিবেশ আমার ছেলেকে মুগ্ধ করেছে। স্কুলে যাওয়ার কথা বলাই লাগে না। বরং ওর মাকে সকালে ডেকে বলে, আমাকে রেডি করে দাও স্কুলে যাবো।
স্কুল শাখার সিনিয়র শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, ভিত মজবুত হলে শিক্ষার্থীরা ওপরের ক্লাসে ভালো ফলাফল করতে পারে। আমাদের বিদ্যালয়ে শরীর চর্চা থেকে শুরু করে সব ধরনের সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ রয়েছে। ক্লাসের ফাঁকে তাদের উৎসাহিত করতে আমরা বিনোদনের ব্যবস্থা করে থাকি। ফলে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সিংহভাগ শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। গত বছর দিনাজপুর বোর্ডে পঞ্চম স্থান লাভ করেছিল।
কলেজটির অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতি বছর বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষে ২১৩ শিক্ষার্থী মেডিক্যাল কলেজসহ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সফলতা অর্জন করেছে।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, কলেজের পূর্বে নাম ছিল সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় (টেকনিক্যাল কলেজ)। পরে ২০২০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক এর নাম পরিবর্তন করে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ করা হয়। কলেজটিতে কেবল বিজ্ঞান বিষয়ে কলেজ শাখায় ৪৪০ শিক্ষার্থী ও স্কুল শাখায় ৭০০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। এই উপজেলায় ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।









