রংপুরের কাউনিয়ায় মাদ্রাসা সুপার ফখরুল আলম রতন হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ তিন ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকালে আসামিদের আদালতে আনা হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনরা তাদের লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন। এ সময় আসামিদের ফাঁসি দাবিতে করে স্লোগানও দেন তারা।
পরে কঠোর পুলিশি পাহারায় আসামিদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। আগামীকাল রবিবার (৮ নভেম্বর) আসামিদের রিমান্ড শুনানি হবে।
পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর দুপুরে পার্শ্ববর্তী পীরগাছা উপজেলার নটাবাড়ি শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট মাদ্রাসার সুপার ফখরুল আলম রতন মোটরসাইকেল যোগে তার নিজ বাড়ি রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হরিনচরন লস্কর গ্রামে আসছিলেন। বাড়ির কাছে একটি চায়ের দোকানের সামনে এলে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আসামি কাউনিয়া ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মজনু মিয়ার নেতৃত্বে ৯ আসামি রতনের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
আসামিরা ভুক্তভোগীর নিহত হয়েছে নিশ্চিত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শাম্মি আখতার বাদী হয়ে ৯ আসামির নাম উল্লেখ করে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কাউনিয়া ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মজনু মিয়া, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রিজু মিয়া ও ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা হায়দার আলীকে গ্রেফতার করে।
শনিবার বিকালে তিন আসামিকে পুলিশি পাহারায় রংপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে আনা হয়। এ সময় আসামিদের আদালতে তোলার সময় এলাকাবাসী ও বিক্ষুব্ধ স্বজনরা তাদের লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করতে থাকেন। কয়েকটি জুতা আসামিদের শরীরে আঘাত করে। পরে পুলিশ ঘিরে ধরে তাদের আদালতে নিয়ে আসে।
এদিকে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়। বিচারক রিমান্ড ও জামিন শুনানির জন্য রবিবার দিন ধার্য করেন। পরে পুলিশি পাহারায় আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী জুয়েল রহমান রানা বলেন, আসামিরা প্রকাশ্য দিবালোকে মাদ্রাসা সুপার রতনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশ প্রধান আসামি মজনু মিয়াসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আসা,ওদের পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়েছে। আমরা আদালতে রিমান্ডের পক্ষে ও জামিনের বিপক্ষে আমরা বক্তব্য দিয়েছি। বিচারক রবিবার রিমান্ড ও জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
অন্যদিকে নিহতের বড় ভাই মিলন আসামিদের ফাঁসি দাবি করে বলেন, তারা আমাদের জমি জবরদখল করার চেষ্টা করছিল। আমরা বিষয়টি উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করায় আসামিরা অভিযোগ করার ফল দেখাবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে ছোট ভাইকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।
নিহত রতনের স্ত্রী মামলার বাদী শাম্মি আখতার আসামীদের ফাঁসি দাবি করে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে শোকাবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়।