তালাকের টাকা না দেওয়ায় স্ত্রীকে ৭ টুকরা করে জুয়েল

হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ
০৮ মার্চ ২০২১, ১৮:২৫আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ২০:১৪

ঢাকার গাজীপুরে স্বামীর হাতে খুন হওয়া গৃহবধূ রেহানা আক্তারের বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পশ্চিম মেরুয়াখলা গ্রামে। চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় স্বামী জুয়েলের ফাঁসির দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিন জানা যায়, কিছু দিন আগে রেহানার স্বামী জুয়েল সলুকাবাদ ইউনিয়নের কাজীরগাঁও গ্রামের তাছলিমা আক্তারকে বিয়ে করে। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় স্ত্রী রেহানার বড় বোন নূরজাহানের মাধ্যমে পরিবারের কাছে নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করে সে। এই টাকা দিতে না পারায় রেহানাকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ সাত টুকরো করে স্বামী জুয়েল।

রেহানা

সোমবার (৮ মার্চ) দুপুরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ধনপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মেরুয়াখলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় স্বজনরা রেহানার লাশের অপেক্ষা করছেন। পশ্চিম মেরুয়াখলা গ্রামের রাজমিস্ত্রি আব্দুল মালেক ও দিলারা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে যমজ হোসেন শহীদ ও রেহানা আক্তার। একই উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের কাঁচিরগাতি গ্রামের জুয়েলের বড় ভাইয়ের সঙ্গে রেহানার বড় বোন নূরজাহানের বিয়ে হয় কয়েক বছর আগে। আত্মীয়তার সূত্রে এক সন্তানের জনক তালাতো ভাই জুয়েল রেহানাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের লোকজন তাদের এ সম্পর্ক থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানায়। কিন্তু কারও কথা না শুনে রেহানা ও জুয়েল সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে।

৮ মাস আগে রেহানা এক সন্তানের জনক জুয়েলের হাত ধরে পালিয়ে যায়। পরে তারা ঢাকায় বিয়ে করে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। রেহানার বড় বোন নূরজাহান বেগম জানান, জুয়েল ফোন করে বলে বড় বউকে তালাক দেওয়ার জন্য মোহরানা বাবদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ টাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে সে। রেহানার বাবা মা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরপর কারও সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেনি রেহানা ও তার স্বামী জুয়েল।

স্বজনদের আহাজারি

রেহানার লাশ গ্রহণ করতে ঢাকার গাজীপুর রয়েছেন তার যমজ ভাই হোসেন শহীদ। তিনি জানান, ময়নাতদন্ত শেষে তারা লাশ গ্রহণ করে বাড়ি নিয়ে আসবেন।

উল্লেখ্য, গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর এলাকার ভাড়া বাসায় গত ৪ মার্চ দুপুরে কলহের জের ধরে প্রথমে জুয়েল রেহানাকে মারপিট করে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে মারা গেছে ভেবে ছুরি দিয়ে দেহ ৭ টুকরো করে বস্তায় ভরে ময়লার স্তূপে ফেলে দেয়। জুয়েলের আচরণে এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ জুয়েলকে আটক করে। এরপর তার দেওয়া তথ্যে রেহানার বিচ্ছিন্ন দুই পা, মাথা, হাত উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রেহানার ভাই হোসেন শহীদ বাদী হয়ে দায়ের করেছেন। পুলিশ জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, ঘটনাস্থল গাজীপুরে। সেখানে সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এখানে বিশেষ কিছু করার নেই।

/এমআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম