সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ হাজার ঘরবাড়ি, মৃত্যু ১০ জনের

সিলেট প্রতিনিধি
০৪ জুলাই ২০২২, ০২:১১আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২২, ০২:১১

পাহাড়ি ঢল আর অতিবৃষ্টিতে সিলেট সিটি করপোরেশনসহ ১৩টি উপজেলার প্রায় ৩০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছিল। এছাড়া জেলার ৬৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই লাখ ৫২ হাজার ৭৮৪ জন আশ্রয় নিয়েছিল। চলমান বন্যায় সিটি করপোরেশন ছাড়া ৪০ হাজার ৯১টি ঘরবাড়ি আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার এসব তথ্য জানান সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। 

তিনি বলেন, গত ১৪ জুন শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী বন্যা এখনও চলছে। বন্যায় জেলার চার লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৩টি পরিবারের প্রায় ৩০ লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। বন্যাকবলিত ব্যক্তিদের মধ্যে এক কোটি ৯২ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত ৬৫ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা, গো খাদ্যের জন্য ১০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া এক হাজার ৬১২ মেট্রিক টন চাল এবং ২০ হাজার ২১৮ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এর বাইরে বেসরকারিভাবে পাওয়া ২৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৩ টাকার মধ্যে ২২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, বন্যায় জমির ফসল ও ঘরে সংরক্ষিত খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়াসহ বিভিন্নভাবে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এখনও জেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুর ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে আছে। বন্যাকবলিত পুরো জেলায় প্রায় তিন কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে প্রাপ্ত টাকা প্রায় পৌনে তিন কোটি, বাকি টাকা বেসরকারিভাবে পাওয়া গেছে। বন্যা চলমান থাকায় বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য আরও ৭০ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই টাকা বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, বন্যার প্রথম পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, সিটি করপোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং বোতলজাত পানি বন্যাদুর্গতদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। পরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাধ্যমে সাতটি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে আটটি উপজেলায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, সিলেট সদর ও ওসমানীনগর উপজেলায় এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জেলার ৫৫৬টি নলকূপ জীবাণুমুক্তকরণ, ২৩০টি নলকূপ মেরামত এবং ৩১৮টি নলকূপ উঁচু করা হয়েছে। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে তিন লাখ ৮০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ১৪০টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের লোকজন এসব কাজ দেখভাল করছেন।

/জেজে/এএম/
সম্পর্কিত
সাত নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা
বন্যা-জলাবদ্ধতায় ফসলহানি: হাওর রক্ষায় টেকসই পরিকল্পনার আহ্বান
‘পানিতে পচে গেলো কষ্টের ফসল, সারা বছর খাবো কী’
সর্বশেষ খবর
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
হবিগঞ্জে নারীর মুখে এসিড নিক্ষেপ, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় প্রেরণ
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
বগুড়ায় দই বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলেন ব্যবসায়ী 
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি