প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন ব্যাংক কর্মকর্তা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
২০ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:০৫আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:০৫

‘ঋণ পেতে ১০ শতাংশ ঘুষই ছিল নিয়ম, আঙুল ফুলে কলা গাছ ব্যাংক কর্মকর্তা’ শিরোনামে গত ২৯ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউনে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তার কিছু অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংকের শ্রীমঙ্গল শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক বনমালী রায়।

সংবাদের একটি অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিপদের সময় ঋণ দিয়ে ১০ শতাংশ হারে ঘুষ নিতেন এই কর্মকর্তা। অর্থাৎ এক লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর হলে ১০ হাজার টাকা তাকে দিতে হতো। 

এ বিষয়ে বনমালী রায়ের বক্তব্য হলো- প্রকৃতপক্ষ এসব ঘুষের সঙ্গে আমার কোনও সম্পৃক্ততা নেই। যদি কোনও গ্রাহক বলে থাকেন তাহলে হয়তো ব্যক্তিগত আক্রোশে এসব কথা বলেছেন।’

সংবাদের আরেক প্যারায় উল্লেখ করা হয়েছে, শহরতলীর মৌলভীবাজার সড়কের ৪ নম্বর পুল এলাকায় (জেটি রোড) কয়েক কোটি টাকা খরচ করে বিশাল জায়গাজুড়ে একটি ট্রিপ্লেক্স বাড়ি গড়ে তুলেছেন। এ ছাড়া অবৈধ উপায়ে অর্জন করা টাকা নামে-বেনামে বিনিয়োগ করেছেন একাধিক রিসোর্টে। চষে বেড়ান লেটেস্ট মডেলের গাড়িতে। 

এ নিয়ে বনমালী রায়ের বক্তব্য- আসলে এসব তথ্য সঠিক নয়। আমি বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরেশন থেকে ঋণ নিয়ে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করিতেছি। এমপ্লয়ি কার লোন স্কিমের আওতায় লোন নিয়ে গাড়ি কিনেছি। অবৈধ উপায়ে টাকা-পয়সা উপার্জন করি নাই। নামে-বেনামে একাধিক রিসোর্টে বিনিয়োগের তথ্যটি সঠিক নয়। কোনও হোটেল-রিসোর্টে আমার কিংবা পরিবারের কোনও শেয়ার নেই।

সংবাদের আরেক অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, আল আমিন মার্কেটের দোতালা থেকে ব্রাঞ্চ স্থানান্তর করার নামে নতুন ভবনের মালিক স্বপন রায়ের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ শহরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে ওপেন সিক্রেটের মতো। 

বনমালী রায়ের বক্তব্য- আদৌ এসব তথ্য সঠিক নয়।

সংবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, বনমালী রায়ের পরিবারের সদস্যদের নামে শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগর এলাকায় ‘অরণ্যে দিন-রাত্রি’ রিসোর্টে শেয়ার রয়েছে। সেই রিসোর্টের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকাবস্থায় তিনি মৌলভীবাজার শাখা থেকে এক কোটি টাকার ঋণ দেন ওই জমি বন্ধক রেখে। রিসোর্টের মালিক কুমকুম হাবিবা ও শামিমা আক্তারের দুটি বুটিক হাউজের নামেও সিসি ঋণ দেওয়া হয়। জেন্সিস অ্যান্ড জেনিফার নামের বুটিক হাউজের ঠিকানা হিসেবে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের পোস্ট অফিস সড়কের এম সাইফুর রহমান মার্কেটের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়। এই নামে ওই মার্কেটে আদৌ তাদের কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নেই। ধারণা করা হচ্ছে, বড় অংকের উৎকোচের বিনিময়ে তিনি নাম-ঠিকানবিহীন প্রতিষ্ঠানের নামে এ ঋণ দেন।

এ নিয়ে বনমালী রায়ের বক্তব্য- মূলত ব্রাঞ্চের ঋণ মঞ্জুরি কমিটির কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে দোকান প্রতিষ্ঠান এবং বন্ধকী সম্পত্তি যাচাই-বাছাই পূর্বক রিপোর্টের আলোকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ঋণ দেওয়া হয়। অরণ্যের দিন-রাত্রি রিসোর্টে আমার শেয়ার অথবা অন্য কোনও সখ্যতা নেই। এমনকি এক কোটি টাকা লোন প্রদান করা হয়নি। কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন, তাও সঠিক নয়। আক্রোশে প্রতিবেদকের কাছে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তা মিথ্যা ও বানোয়াট।

সংবাদে আরও উল্লেখ করা ব্যাংকটির সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল শহরের সপ্তডিঙ্গা এন্টারপ্রাইজ, দুলাল হাজী, সিরাজ শেখ, হরিপুর অয়েল, অরণ্যের দিনরাত্রি ও জেন্সিস অ্যান্ড জেনিফার বুটিক হাউজসহ কয়েশ ব্যক্তিকে মোটা অংকের নানা স্কিমের ঋণ দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে এসব ঋণের অনেকগুলোরই প্রকৃত উপকারভোগী ব্যাংকের ম্যানেজার বনমালী রায় নিজেই। এভাবেই অল্পদিনে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন তিনি।

এক্ষেত্রে বনমালী রায়ের বক্তব্য- মূলত ব্যাংকের নীতিমালা অনুয়াযী লোন দেওয়া হয়। সেটা এককভাবে সম্ভব নয়। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় কৃর্তক কাগজপত্র ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেন পর্যলোচনা করে তারপর লোন দেওয়া হয়। প্রকৃত পক্ষে কোনও প্রকার লোনের উপকারভোগী সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সিলেট, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলসহ ন্যাশনাল ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় সুনামের সঙ্গে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছিলাম। একটি মহল আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। আমি কখনও কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নই। উল্লেখিত সংবাদের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন তথ্য সংযোজন করা হয়েছে, এসব কোনও বিষয়ের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র ছয়-নয় করার সুযোগ নেই। এজন্য প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: ঋণ পেতে ১০ শতাংশ ঘুষই ছিল নিয়ম, ‘আঙুল ফুলে কলা গাছ’ ব্যাংক কর্মকর্তা

/এএম/
সম্পর্কিত
ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের গুলি, জামায়াতের নিন্দা
আবারও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে জামায়াতের প্রতিবাদ
ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় ক্ষুব্ধ সাদা দল, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সর্বশেষ খবর
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী