সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত এক চেয়ারম্যানকে আওয়ামী লীগ নেতা আখ্যা দিয়ে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় লোকজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া এক ছাত্রদল নেতাকে উপজেলা পরিষদে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা ছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের দফায় দফায় বৈঠক হয়। পরে বিষয়টি সমাধান হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সভাস্থল থেকে মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে হেনস্তা করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনার জেরে কয়েক ঘণ্টা ইউএনও কার্যালয়ে জাফর আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। জাফর আহমদ জুলাইয়ের আন্দোলনে জকিগঞ্জে হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার বাদী। তিনি ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ১০৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে আবদুস শহীদের নাম নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউএনও মাসুদুর রহমান জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি জরুরি সভা আহ্বান করেন। সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হন। তারা মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা আখ্যা দিয়ে হেনস্তা করেন। একপর্যায়ে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মানিকপুর ইউনিয়নের সাধারণ লোকজন মিছিলসহ উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। এ সময় জাফর আহমদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আত্মরক্ষার্থে জাফর আহমদ ইউএনওর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এরপর সাধারণ মানুষ ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিকভাবে ইউএনও কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাসহ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলা ওই বৈঠকের সময় জাফর আহমদ কার্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে রাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বৈঠকের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুস শহীদকে আওয়ামী লীগের নেতা বলে দাবি করছেন জাফর আহমদ। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে বলে ইউএনওকে জানান জাফর। এর বিরোধিতা করে উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আবদুস শহীদ কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাও নন এবং জকিগঞ্জ থানার কোনও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও নন। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে দলীয় ট্যাগ দিয়ে মব সৃষ্টি করে ধরিয়ে দেওয়া ন্যক্কারজনক।’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ইউএনওর সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি চলছে। এ সময় জাফর আহমদ নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে পুলিশের একটি দল তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে নিরাপদে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে বাইরে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জাফর আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইউএনও মাসুদুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে কল রিসিভ করেননি তিনি।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল ইউএনও কার্যালয় থেকে ছাত্রদল নেতা জাফর আহমদকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আটক চেয়ারম্যানকে ১৬১ ধারায় আদালতে চালান দেওয়া হয়। শুনেছি, আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। পাশাপাশি ওই ছাত্রদল নেতাকে নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’









