মৌলভীবাজারের রাজনগরে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে পরিবারের প্রায় এক লাখ টাকা হারিয়ে তা আড়াল করতে ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি নিজেই নিজের শরীরে ধারালো বস্তু দিয়ে একাধিক আঘাত করেন। রাজনগর থানা পুলিশের তদন্তে পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে রাজনগর থানাধীন ৪নং পাঁচগাঁও ইউনিয়নের হালদার গ্রামের বাসিন্দা সুজন মিয়া (২৬) নিজের সঙ্গে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন। পরে বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বললে তার বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি দেখা যায়। এরপর ভুক্তভোগীর গ্রামের পরিচিত ব্যক্তি ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত।
এসপি বলেন, একই সঙ্গে তার শরীরের আঘাতের ধরন এবং পরিহিত শার্ট পরীক্ষা করে পুলিশের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। আঘাতগুলো ব্লেড বা অন্যকোনও ধারালো বস্তু দিয়ে নিজেই করেছে বলে পুলিশের কাছে প্রতীয়মান হয়।
নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুজন মিয়া স্বীকার করেন যে, তিনি অনলাইনে জুয়া খেলে পরিবারের প্রায় এক লাখ টাকা হারিয়ে ফেলেন। বিষয়টি গোপন করতে তিনি পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইয়ের একটি নাটক সাজান। ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি একটি নেইল কাটারের ছোট ছুরি ব্যবহার করে নিজের শরীরে একাধিক আঘাত করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি আগে থেকেই এক বন্ধুকে জানিয়ে রাখেন যে, তিনি রাস্তার পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকবেন। আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে তার বন্ধুকে ফোন দিলে তিনি এসে উদ্ধার করার অভিনয় করবেন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী, তার বন্ধু মেদিনীমহল এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সুজন মিয়াকে উদ্ধার করে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটির প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। সাজানো ছিনতাইয়ের নাটকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।









