সিলেট নগরে একটি সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় নগরের চৌকিদিঘি এলাকার ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত দিপাঞ্জন ঘোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রতন কান্দি এলাকার কৃষ্ণ দুলাল ঘোষের ছেলে। বর্তমানে তার পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকে। দিপাঞ্জন বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকায় সহপাঠীদের সঙ্গে থাকতেন। তার লাশ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিপাঞ্জন ঘোষ ও তার সহপাঠীরা একসঙ্গে ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় সুইমিংপুলের ৯ ফুট গভীর জায়গা থেকে ডুবন্ত অবস্থায় পুলের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করেন। সিলেটের দরগা গেট–সংলগ্ন নুরজাহান হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নুরজাহান হাসপাতালের চিকিৎসক ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘হাসপাতালে আনার পর ইসিজি করা হয়েছে। ইসিজি রিপোর্টে ‘নো পালস’ আসে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা দিপাঞ্জন ঘোষের সহপাঠী একই বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইয়াজ নবী বলেন, আমরা প্রায় সময়ই সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যাই। এবার দিপাঞ্জন বলছিল তাকে নিয়ে যেতে। সে জানিয়েছিল, সাঁতার জানতো। আমাদের সাঁতার শুরু হয় ৫টায়। শেষ হওয়ার কথা ছিল ৬টায়। সাঁতার কাটার সময় সে এক–দুবার ৯ ফুট গভীর পানির দিকে গিয়েছিল, আবার ফিরেও আসে। পৌনে ৬টার দিকে সুইমিংপুলের কর্মচারীরা তাকে পানি থেকে উদ্ধার করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাসুদ আলম বলেন, আমরা দিপাঞ্জনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা অনুরোধ করেছে লাশ যথাযথ প্রক্রিয়ায় হিমঘরে যেন রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা সিলেটের উদ্দেশে রওনা করেছেন।
ব্রিটানিয়া সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আবু আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা সবাই সাঁতার কাটতে এসেছিলেন। একপর্যায়ে আমি ভেতরে চা বানাচ্ছিলাম। একজন কাঠমিস্ত্রি কাজ করছিল কাছেই। তিনি জানান, একজন ডুবে যাচ্ছে। পরে আমি গিয়ে সুইমিংপুল থেকে তুলে শিক্ষার্থীকে ঝাঁকুনি দিয়েছি। তিনি বমি করেন। এরপর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, আমরা এ দুর্ঘটনায় মর্মাহত। এ রকম ঘটনা আগে যা ঘটেছে, তা পর্যটন এলাকায় ঘটেছে। কিন্তু এবারের ঘটনা একটি অভিজাত এলাকার সুইমিংপুলে ঘটেছে। সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষের কোনও অবহেলা আছে কি না, তা দেখে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









