অনূদিত সাক্ষাৎকার

‘ধনীর প্রকৃত অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে’

অনুবাদ: উদিসা ইসলাম
২৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:৪৬আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮:৪৬

অমিতাভ ঘোষ ভারতীয় লেখক ও সাহিত্য সমালোচক। ঢাকা লিট ফেস্টের দশম আসরে আসছেন ২০০৭ সালে ভারতের সর্বোচ্চ পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হওয়া এই লেখক। ৬ জানুয়ারি দ্য হাংরি টাইড ( সকাল ১১.১৫) ও ৭ জানুয়ারি আ ওয়ার্ল্ড উইথদাউট আ সেন্টার (সকাল ১১.১৫) শীর্ষক দুটি সেশনে অংশ নেবেন অমিতাভ ঘোষ। দ্বিতীয় সেশনে তার সঙ্গে থাকবেন ২০২১ সালের নোবেলজয়ী লেখক আবদুলরাজাক গুরনাহ।

চীনের গণমাধ্যম বিজে নিউজকে তিনি একটি সাক্ষাৎকার দেন। ঢাকা লিট ফেস্ট উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করে প্রকাশ করা হলো।


প্রশ্ন: আপনার বইতে লিখেছেন জলবায়ু সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সঙ্গে কবিতার একটা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক আছে, আসলেই কি?

উত্তর: আসলে আমি যেটা উল্লেখ করতে চেষ্টা করছিলাম তা হলো, কথাসাহিত্যের মধ্যে গদ্যের সম্ভাব্যতা এবং প্রশংসার জায়গায় আছে, কবিতার ক্ষেত্রে তেমন নেই। যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য সংবলিত ঘটনাগুলোকে কবিতার মধ্য দিয়ে চিহ্নিত করা বেশ সহজ হতে পারে বলে মনে করি।

প্রশ্ন: গত বছর আমি একজন স্কলারের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, একজন উপন্যাসিকের সামনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ হলো– আবহাওয়া থেকে এটি যে ভিন্ন নাকি অভিন্ন– সেই সংযোগ তৈরি করা কঠিন, এটি কি আপনার ক্ষেত্রেও হয়?

উত্তর: দুটো বিষয় এক হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই বলে আমি মনে করি না। জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট ঘটনা আর ‘দূরের’ বিষয় নয়। শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলের কথা ভাবুন; অথবা ধরুন হারিকেন, যেগুলো নিউ ইয়র্ক এবং হিউস্টনে আঘাত হেনেছে। বিশ্বের এমন কোনও জায়গা নেই যা এসব ঘটনাগুলো থেকে ‘দূরে’।

কিন্তু একই সঙ্গে বলতে হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের মাপকাঠির বিশালতা প্রকৃতপক্ষে ঔপন্যাসিকদের জন্য একটি কঠিন সমস্যা তৈরি করে। ইয়ান ম্যাকওয়ানের উপন্যাস ‘সোলার’ সেই প্রেক্ষাপটে পড়া বেশ আকর্ষণীয়। কারণ, বিষয়ের যে বিশালতা, যা কিনা শেষ পর্যন্ত বইটিকে ব্যঙ্গাত্মক করে তোলে। আপনি দেখবেন ম্যাকওয়ান জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, তবু উপন্যাসের এই ধরন একটি নির্দিষ্ট দিকে নিতেই চেষ্টা করে। ‘সোলার’ একটি ব্যঙ্গাত্মক উপন্যাস। আপনি এটিকে ‘দ্য রিভেঞ্জ অব বুর্জোয়াস’ও ডাকতে পারেন।

প্রশ্ন: আমি শুনলাম সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর আপনার একটি উপন্যাস প্রকাশ হতে চলেছে। আপনি কি মনে করেন গ্রেট ডিরেঞ্জমেন্টে যে চ্যালেঞ্জগুলোর কথা বলেছেন, সেগুলোর প্রতি সফলভাবে সাড়া দিয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তবে কীভাবে?

 উত্তর: আসলেই এই বছর আমার একটি উপন্যাস আসছে, কিন্তু আমি এটিকে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের উপন্যাস’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইবো না। আমরা যে সময়ে বাস করি এটি কেবল সেই সময়ের একটি উপন্যাস মাত্র। চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি সফলভাবে সাড়া দিতে পারলো কিনা সেই সিদ্ধান্ত পাঠকের।

প্রশ্ন: আমি মনে করি বাস্তববাদ, পরাবাস্তববাদ, জাদুকরি বাস্তববাদ এসব বিষয়কে জলবায়ু পরিবর্তন চ্যালেঞ্জ করে। ঠিক যেমনটা আপনি উল্লেখ করেছিলেন– জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো সিরিয়াস সাহিত্যের চেয়ে সায়েন্স ফিকশনের সঙ্গে সম্পর্কিত।  বিষয়টি বিস্তারিত বলবেন?

উত্তর: আমরা একটি নতুন যুগের দিকে যাচ্ছি, যেখানে অতীতের নানা চিন্তার অভ্যাস এবং চর্চা অন্ধ হয়ে গেছে। যা আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি গ্রহণ করতে বাধা দেয়। এই নতুন যুগের চিন্তা বর্তমান সময়ের লেখক, শিল্পী ও চিন্তাবিদরা এই ধারণার সন্ধান পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। যা এই নতুন যুগের অভূতপূর্ব ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়া সম্ভব করে তুলতে পারবে। কিন্তু যুক্ত থাকার এই ধরনগুলো আবিষ্কারে সময় লাগে এবং এটিই আমাদের নেই।

প্রশ্ন: একটি সাক্ষাৎকারে আপনি বলেছিলেন­–সিরিয়াস কথাসাহিত্য বলে বিবেচিত হয় যা শোবার ঘরে ও ব্যক্তির মনের প্রসন্নতা নিয়ে আসতে পারে। আমি এখানে বুর্জোয়া মানসিকতা বা বুর্জোয়া নন্দনতত্ত্বের একটি বিস্তৃত ইস্যু দেখতে পাই। সেটা অনেকটা সাগর ও পানির কাছাকাছি ঘর বানানোর আগ্রহকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু বিপরীতভাবে টর্নেডো-সুনামির মতো জলোচ্ছ্বাসের বিষয়ে মধ্যবিত্তরা তাদের উদ্বেগ বেশ জোরেশোরে জানায়। ফলে, আপনি কি মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যা মোকাবিলা করতে হলে বুর্জোয়া মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে?

উত্তর: পুঁজিবাদী সংস্কৃতির সাধারণ আকাঙ্ক্ষা হলো বিজয়ী হওয়া। এটা এমন একটা অনুভূতি যেন বাহ্যিক বিশ্বকে পরাস্ত করে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই মনোভাব অবশ্যই, জাতিগত সমস্যাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে এই ধরনের মনোভাব বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

প্রশ্ন: আপনি যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ সামনে আনেন, সেটি আমাকে মুগ্ধ করে। যেভাবে লেখেন সেটা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিদ্যমান জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে।

উত্তর: বিংশ শতাব্দীতে, সব শিল্পকলা ক্রমশ মানুষের মন এবং মানুষের সংবেদনশীলতা এবং ক্রমবর্ধমানভাবে বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। বিগত শতকের সব প্রধান সাহিত্য ও শিল্পের কথা চিন্তা করলে আপনি দেখবেন সেগুলো একটা বিমূর্ততার দিকে ছুটছে। স্নায়ুযুদ্ধের আদর্শের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কারণ অবশ্যই ছিল, কিন্তু যেকোনও ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমানতার প্রভাব হলো, আমরা এর সঙ্গে সংযুক্ততা বোধ করি না। সেই অর্থে মানব-কেন্দ্রিকতা মূলত ‘আধুনিকতার’ প্রভাব। যেমন, বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের উপস্থিতি আমরা দেখতে পাই না।

প্রশ্ন: আপনি গ্লোবাল ওয়ার্মিং ইস্যুতে এশিয়ার সবার যুক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তারপর আবার উল্লেখ করেছেন, বর্তমান গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে ডিসকোর্স বৃহৎভাবে এখনও ইউরোকেন্দ্রিক। এটা এশিয়াকেন্দ্রিক হতে ব্যর্থ হলো কেন?  

উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তনের আলোচনা আরও ইউরোপ কেন্দ্রিক হতে চলেছে। কিন্তু আমাদের এশিয়ানদেরও দায় আছে, কারণ আমরা এই বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগ দিইনি।

প্রশ্ন: পশ্চিমা গণমাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে শত শত প্রতিবেদন দেখে আমি আসলেই বিভ্রান্ত। তার কেন এসব করছে? এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় পশ্চিমা বিশ্ব অতিসামান্য ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তাহলে কেন?

উত্তর: পশ্চিমা বিশ্ব কোনোভাবেই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রভাবিত নয়। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির কথা আসতে পারে, যারা গত কয়েক বছরে জলবায়ু বিষয়টি দ্বারা খুব খারাপভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। ফ্লোরিডার হিউস্টনে যে হারিকেন আঘাত হেনেছে, সেখানে কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলেও। ইতালিতেও আবহাওয়ার বৈষম্য ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

প্রশ্ন: আপনি কার্বন অর্থনীতিতে তীব্র আপত্তি করেন এবং গান্ধীকে উদ্ধৃত করে আপনি মত প্রকাশ করেন বলেন– এশিয়াকে তাদের উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণে বিরত থাকতে হবে। আমার মনে হয়, আপনার এই ধারণা চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোতে কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হবে। আপনি সেই মানুষদের জন্য কী বলবেন যারা যেকোনও মূল্যে ‘আমাদের ধনী হতেই হবে’ মনে করে।

উত্তর: আমি মনে করি আমাদের ‘ধনী’র প্রকৃত অর্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে। আপনি যদি এই আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে শ্বাস নিতে না পারেন, জল পান করতে না পারেন বা রাতে শান্তিতে ঘুমাতে না পারেন, তাহলে আপনি ধনী নন। প্রকৃতপক্ষে তাহলে আপনার জীবনমান খুবই খারাপ বলা যেতে পারে।

প্রশ্ন: আপনি যুক্তি দিচ্ছেন যে দরিদ্ররা বেশি স্থিতিস্থাপক হতে পারে, ভারতে বৈশ্বিক উষ্ণতাকে গুরুতর সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত না করতে পারার এটিই কি বড় কারণ?

উত্তর: ভারতে এমন অনেকেই আছেন যারা মনে করেন, আচ্ছা, এটার কারণে গরিবরা বেশি ভোগান্তিতে পড়বে। কিন্তু ভারতেও যা ঘটতে চলেছে তা হলো, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হবে মধ্যবিত্ত। মুম্বাই ও চেন্নাইতে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট আবহাওয়া পরিস্থিতি বিচার করলেই তা বোঝা যায়।

ভারতের শহুরে দরিদ্ররা অনেক বেশি জায়গা পরিবর্তন করে। তাদের গ্রামের সঙ্গে শক্ত যোগাযোগ থাকে। তারা প্রায়ই গ্রামে যায় এবং ট্রেনের যথাযথ ব্যবহার তারা জানে। একমুহূর্তের সিদ্ধান্তে তারা চলে যায়। মুম্বাইয়ের মতো শহরে দরিদ্ররা একটি ঘটনা ঘটলে চলে যেতে পারবে, যা মধ্যবিত্তের পক্ষে সম্ভব না।

শুধু তারা ছেড়ে যেতে পারবে না তা নয়, তারা যেতে চাইবে না। মধ্যবিত্ত অনেকের জন্য তাদের বাড়ি বা ফ্ল্যাটই সবচেয়ে বড় সম্পদ। তারা এটাকে অস্বীকার করে চলে যেতে পারে না। তাদের পুরো জীবনই এই ধরনের স্থাবর বিষয়াদিতে বন্দি। এটাই পুঁজিবাদীদের জীবন। কিন্তু এই নিশ্চয়তা আর কোথাও খুব বেশি দিন মিলবে না। আধুনিক রাষ্ট্র যে মৌলিক জায়গায় নিশ্চয়তা দেয়– স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা- সব ধোঁয়ায় মিশে যাবে।

প্রশ্ন: আপনি উল্লেখ করেছেন যে জলবায়ু পরিবর্তন ভারতে যতটা না আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পেরেছে তারচেয়ে জনগণের রাজনৈতিক শক্তি ক্রমশ এই ইস্যুতে সামনে এসেছে, যা কিনা পরিচয়, ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ অধিকারের প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমার মনে হয় ভিন্ন রকমের হলেও চীনেও একই বিষয় বিরাজমান। উদাহরণস্বরপ, চীনে মানুষ কুয়াশা নিয়ে বেশি চিন্তিত, কিন্তু আমরা মনে করি এটা বেইজিংয়ে বসবাসকারীদের সমস্যা। এবং বেইজিংয়ের প্রতি উপহাস করারও প্রবণতা আছে- যেমন, আহ, বেইজিং বসবাসের অযোগ্য একটি শহর! আমি বলতে চাচ্ছি, আমরা প্রায়ই হাসছি এ ধরনের ইস্যুতে, আমি মনে করি এটি জড়তার আরেকটি রূপ।

উত্তর: আমি চীনের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানি না, তবে ভারতের রাজনৈতিক আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে খুব কমই উল্লেখ করা হয়। সংবাদপত্র খুললে, টিভি ছাড়লে এরচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েক ডজন ইস্যু পাওয়া যাবে, যা খরা বা কৃষি সংকটের চেয়ে বেশি মনোযোগ টানতে পারে। ভারতীয় রাজনৈতিক শ্রেণির মধ্যে জলবায়ুর প্রতি ভয়ানক উদাসীনতা রয়েছে।

প্রশ্ন: যারা জলবায়ু পরিবর্তনের ধারায় পুঁজিবাদকে প্রধান ভুল হিসাবে চিহ্নিত করে তাদের সঙ্গে আপনি দ্বিমত করেন। আপনি মনে করেন রাজতন্ত্রও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রিজম। আপনি বলেছেন, ‘এমনকি যদি পুঁজিবাদ আগামীকাল জাদুকরিভাবে বদলেও যায়, রাজনৈতিক ও সামরিক আধিপত্যের অপরিহার্যতা এই প্রশমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের পথে বাধা হয়ে থাকবে। আপনি কি বিস্তারিত বলতে চান?

উত্তর: জলবায়ু পরিবর্তন প্রায়ই একটি অর্থনৈতিক সমস্যা হিসাবে সামনে আনা হয়, যা খরচ, উৎপাদন, বণ্টন এবং নির্গমন- অন্য কথায় 'পুঁজিবাদ'-এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই কাঠামোর প্রাধান্য অর্থনৈতিক চিন্তাধারার ফল হতে পারে যা সমসাময়িক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্তৃত। কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এ ধরনের ইস্যুকে অর্থনৈতিক অবয়বদানের মধ্যকার সামরিক প্রতিযোগিতা, আধিপত্যের সম্পর্ক এবং দেশের মধ্যে কিংবা দুদেশের মধ্যকার অধীনতার মতো বিষয়গুলো আড়াল করে ফেলে।

এই আড়ালে ফেলার বিষয়টি একাধিক স্তরে ঘটে এবং বিভিন্নভাবে ঘটে। ধরুন, উদাহরণস্বরূপ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান চালক পুঁজিবাদ- নাওমি ক্লেইন এবং অন্যান্য অনেকের দৃষ্টিতে। সমস্যা হলো– পুঁজিবাদ কোনও একক বা ধ্রুব জিনিস নয়: আমরা এখন জানি যে পূর্ব এশিয়ার পুঁজিবাদ সম্পদ-কেন্দ্রিক যতটা না তারচেয়ে শ্রম/শ্রমিক কেন্দ্রিক; বরং ব্রিটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুঁজিবাদের যে সংস্করণ প্রচলিত তারচেয়ে এটার পদচিহ্ন খুবই সামান্য। এখনও, এটি পুঁজিবাদের অ্যাংলো-আমেরিকান সংস্করণ যা বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে এবং সাম্রাজ্যবাদ এবং বিশ্ব বিজয়ের ইতিহাসকে বিবেচনায় না নিয়ে এসব বোঝা যাবে না।

এক নজরে অমিতাভ ঘোষ:

জন্ম কলকাতায় এবং তিনি বেড়ে উঠেছেন ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায়। তিনি দিল্লি, অক্সফোর্ড এবং আলেকজান্দ্রিয়াতে পড়াশোনা করেছেন। দ্য সার্কেল অব রিজন, দ্য শ্যাডো লাইনস, ইন অ্যান অ্যান্টিক ল্যান্ড, ডান্সিং ইন কম্বোডিয়া, দ্য ক্যালকাটা ক্রোমোজোম, দ্য গ্লাস প্যালেস, দ্য হাংরি টাইড তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।  

অমিতাভ ঘোষের লেখা ত্রিশটিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং তিনি লোকার্নো এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে জুরিতেও কাজ করেছেন। তার প্রবন্ধগুলো নানা সময়ে দ্য নিউ ইয়র্কার, দ্য নিউ রিপাবলিক এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো দ্য ইমাম অ্যান্ড দ্য ইন্ডিয়ান (পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউজ, ভারত) এবং ইনসেনডিয়ারি সার্কামস্টেন্সেস (হাউটন মিফলিন, ইউএসএ) শিরোনামে সংকলিত হয়েছে। দ্য গ্রেট ডিরেঞ্জমেন্ট: ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড দ্য আনথিঙ্কেবল প্রবন্ধের বইটি ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে তাকে পরিবেশ মানবিকতার জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। অমিতাভ ঘোষের রয়েছে দুটি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার এবং চারটি সম্মানসূচক ডক্টরেট।

 

/এসএএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
বলে নজর রাখো: গর্ডন গ্রিনিজ
সাক্ষাৎকারআগের চেয়ে মহামারির আশঙ্কা বেড়েছে: সারাহ গিলবার্ট
সাক্ষাৎকারলেখালেখির আনন্দ হলো ভাষার নানা সম্ভাবনা: আবদুলরাজাক গুরনাহ
সর্বশেষ খবর
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচে প্রথমবার থাকছে ভিএআর 
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম কমানোর দাবি এনসিপির
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
ভৈরবে রেলপথ অবরোধ: ৫টি ট্রেন মাঝরাস্তায় আটকা, চলাচল ব্যাহত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি