বিচ্ছিন্নতা মানুষের কাছে একটি ভয়াবহ রাজনৈতিক শব্দ। উপমহাদেশ ভাগ থেকে শুরু করে আফ্রিকা কিংবা ইউরোপ ভাগ পৃথিবীর মানুষের কাছে যে দাগ ফেলেছে তা মানুষের স্মৃতিতে কিংবা আচরণে এখনো বয়ে চলছে। নিজের অস্তিত্বের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে ‘টর্ন এপার্ট’ সেশনটি আজ ৫ জানুয়ারি ঢাকা লিট ফেস্টের উদ্বোধনী দিনে আবুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোমালিয়ান ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন ফারাহ, বুকারজয়ী শ্রীলঙ্কান ঔপন্যাসিক শিহান কারুণাতিলাকা এবং বুকারজয়ী ভারতীয় ঔপন্যাসিক গীতাঞ্জলি শ্রী। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেছেন বারবারা এপলার।
সঞ্চালক বারবারা এপলার শুরুতেই বলেন, ‘আমার কাছে বিচ্ছিন্নতা বা টর্ন এপার্টকে সব সময় সত্য হারিয়ে যাওয়া মনে হয়।’ ঔপন্যাসিক নুরুদ্দিন ফারাহ বলেন, ‘টর্ন এপার্ট শব্দটি খুব ভয়ংকর একটি শব্দ। নিজের শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মানে নিজের অস্তিত্বের কাছ থেকে হারিয়া যাওয়া। রাজনৈতিকভাবে যারা নিজের দেশ, নিজের ভিটে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে তারা ভয়ংকরতম নির্মমতার শিকার।’ নুরুদ্দিন ফারাহ এই বিচ্ছেদকে জন্মের সময় মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছন্নতার সাথে তুলনা করেন।
শিহান করুণাতিলাকা বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের শেষে আমরা মনে করেছিলাম আমরা এখন এক থাকতে পারবো। তাদের সকলকে নিয়ে তাদের গল্প বলতে পারবো। কিন্তু নৈরাজ্যের কারণে যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছিলো, তা কখনোই শেষ হয়ে ওঠেনি।’
শিহানের সাথে যুক্ত হয়ে গীতাঞ্জলি শ্রী বলেন, ‘আমাদের মানসিকতাই হয়ে গেছে বিচ্ছিন্নতার। আমরা ভয়াবহ সময়ে বাস করছি, যেখানে কোনও মানবিকতা নেই।’ সঞ্চালক বারবারা আলোচকদের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সত্য মিথ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা কেউ ই সোশ্যাল মিডিয়া সেভাবে ব্যবহার করি না। নুরুদ্দিন ফারাহ বলেন, ‘আমি আমার জীবনকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত করি না।’








