বাংলা থ্রিলারের নাম বললে বাংলাদেশ কাউন্টার টেরোরিজমের এজেন্ট মাসুদ রানার কথা সামনেই আসে।কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানা পড়ে অসংখ্য মানুষ যেমন থ্রিলার ভক্ত হয়েছেন তেমনি বই পোকাও হয়েছেন। ঢাকা লিট ফেস্টের প্রথম দিনে বাংলা একাডেমির কসমিক টেন্টে ‘বাংলা থ্রিলার: পাতায় ও পর্দায়’ শীর্ষক আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন থ্রিলার লেখক মোহাম্মদ নাজিমউদ্দীন, প্রযোজক মীর মোকারম শুভ, পশ্চিম বঙ্গের প্রকাশ মারুফ হোসেন এবং সাংবাদিক আলিম আজিজ। সঞ্চালনায় ছিলেন নির্দেশক পার্থ সরকার।
বাংলা থ্রিলার অনেকদিন ধরে বিচ্ছিন্নভাবে লেখা হলেও গত ২ দশক ধরে অন্য এক উচ্চতায় গিয়েছে। সেক্ষেত্রে সাহিত্যের অন্যান্য শাখার তুলনায় নাবালকই বলা চলে। থ্রিলার লেখক নাজিমউদ্দীন বলেন, ‘ইদানিং দেখা যাচ্ছে বাংলা থ্রিলারের পাঠকের সংখ্যা বেড়েই চলছে৷ আমাদের নিজেদের থ্রিলার একসময় পরিচয়হীন সংকটে ভুগছিলো কিন্তু বর্তমানের আমাদের নিজস্ব ধারা, নিজস্ব গল্প তৈরি হয়েছে।’
প্রকাশক মারুফ হোসেন বলেন, দুই বাংলায় বাংলা থ্রিলারের পথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে মোহাম্মদ নাজিমউদ্দীন এর ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি।’
বাংলা থ্রিলারের মৌলিকতা নিয়ে বলতে গিয়ে মীর মোকারক শুভ বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকে মাসুদ রানা, কুয়াশা পড়ে এসেছি। এই বইগুলোর গল্প বলার ভঙ্গি আলাদা হলেও গল্পগুলোর মৌলিকতা নিয়ে বেশ প্রশ্নই থেকে যায়। বইয়ের পাতা থেকে বাংলা থ্রিলার বর্তমানে বড় পর্দায় দেখা যাচ্ছে। কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, পরিচালক ও প্রযোজকের চেষ্টায় বইয়ের চরিত্রগুলো আজ চোখের সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে। বাংলা থ্রিলার বড় পর্দায় আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পাঠক থেকে দর্শকদের সামনে ভিজ্যুয়াল তৈরি করা। যেকোনো সাহিত্য বড় পর্দায় উপস্থাপন করতে গেলে সবচেয়ে বড় উপাদান হলো চিত্রনাট্য তৈরি করা। বাংলাদেশে দক্ষ চিত্রনাট্য লেখকের অভাবে অনেক সময় থ্রিলারগুলো পাঠকদের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে না।’
আলোচকরা মনে করেন উন্নত মানের প্রযুক্তি ও দক্ষ চিত্রনাট্য লেখকের মাধ্যমেই বড় পর্দায় বাংলা থ্রিলার তার নিজস্ব ধারায় ফিরে যাবে।








