X
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

অনার্স-মাস্টার্স ও ডিগ্রির তৃতীয় শিক্ষকদের ‘ভাগ্য বিপর্যয়’ কাটবে কবে?

এস এম আববাস
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২২:২০আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২২:২০

বেসরকারি কলেজগুলোর অনার্স-মাস্টার্স স্তরের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষক দীর্ঘ আন্দোলনের পরও এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। একইসঙ্গে ডিগ্রি স্তরের তৃতীয় শিক্ষকদেরও (ডিগ্রি স্তরে প্রতি বিষয়ে দুই জন করে শিক্ষক নির্দিষ্ট থাকেন, তৃতীয় জন নেওয়া হয় এর বাইরে) একাংশ এখনও এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। তবে এসব শিক্ষকদের তথ্য নতুন করে সংগ্রহ করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই তথ্য চাওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষকদের ভাগ্য বিপর্যয় কাটবে কিনা তা নিয়ে উদ্বিঘ্ন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষকরা বলছেন, অর্থ বিভাগের বিমাতাসূলভ আচরণে তাদের ভাগ্যে বিপর্যয় নেমে এসেছে। দীর্ঘ ২৯ বছরের বঞ্চনার অবসান হচ্ছে না অর্থ বিভাগের কারণে।

অন্যদিকে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বলছে— এসব শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির প্রস্তাবে রাজি হয় না অর্থ বিভাগ।

গত ১২ জুন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিকল্প প্রস্তাবসহ এমপিওভুক্তির অনুরোধ জানান বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন নেতারা। কিন্তু অর্থ বিভাগ ছাড় না দেওয়ায় শিক্ষামন্ত্রী অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। কিন্তু কবে নাগাদ এই সমস্যার সমাধান হবে তা নিশ্চিত করতে পারছেন না শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের পর গত ২৫ অক্টোবর অধিভুক্ত সব বেসরকারি কলেজের নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তালিকা চেয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অধ্যক্ষদের কাছে তালিকা হাওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, অধিযুক্ত সব ডিগ্রি, অনার্স/মাস্টার্স কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে বর্তমানে পাঠদানরত এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তালিকা সংযুক্ত ছক মোতাবেক আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে অনলাইনে পাঠাতে অনুরোধ করা হলো।

চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বেসরকারি কলেজে কত শিক্ষক নন-এমপিও রয়েছেন তার একটি সঠিক পরিসংখ্যান দরকার। শিক্ষক নেতারা বলেন, কর্মরত শিক্ষকদের সংখ্যা কম, অধ্যক্ষরা যেসব শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে সবার তথ্য পাঠান। এ কারণে কর্মরত কত শিক্ষক নন-এমপিও রয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত হওয়া যায় না। অথচ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য প্রয়োজন হয়। 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চিঠির পর অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের মধ্যে প্রত্যাশা জন্মালেও অর্থ বিভাগের নেতিবাচক মনোভাবে তারা মোটেও সন্তুষ্ট নন। তাছাড়া সামনে জাতীয় নির্বাচন এই পরিস্থিতিতে এত কম সময়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন করে উদ্যোগ নেবে কিনা আর নিলেও অর্থ বিভাগ কী ভূমিকা রাখবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় শিক্ষকরা।  

বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি হারুন-অর-রশিদ বলেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের দুরবস্থার কথা জানিয়েছি। বিকল্প ব্যবস্থাসহ বিশেষ ব্যবস্থায় এমপিওভুক্তির আবেদন জানিয়েছি মন্ত্রীকে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হচ্ছে না। শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিতে মন্ত্রণালয় নতুন করে উদ্যোগ নিলেও অর্থ বিভাগ কী করবে তারও নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান সরকারের মেয়াদে আমরা চাই- বঞ্চনার অবসান।   

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা কামাল বলেন, মাদ্রাসার কামিল স্তরের একই পদের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত। অথচ বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের এমপিও না দেওয়া বৈষম্য। এটি বেসরকারি পর্যায়ের সাধারণ উচ্চশিক্ষর মান নিচে নেমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিল্টন মন্ডল বলেন, রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত না নিলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থাকলে অর্থ বিভাগ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে পারতো না। আমাদের এমপিওভুক্তি কত সময় লাগবে তা অনিশ্চিত, সে কারণে আমাদের ভাগ্য বিপর্যয় কাটছে না।  আমরা প্রত্যাশা করি সরকার দ্রুত এর ব্যবস্থা করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের জনবল কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের তো দূরের কথা, বেসরকারি কলেজের তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়নি অর্থ বিভাগ। ফলে বিশেষ ব্যবস্থায় তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া হাতে নেয় মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে অনার্স-মাস্টার্স স্তরে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অর্থ বিভাগ তা নাকচ করে দেয়।

এ বিষয়ে এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, আমরা বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকদের বেতন নিশ্চিত করতে চাই এবং মন্ত্রণালয়ও চায়। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় আটকায়।, তারা বলে এটা লাগবে কেন? অথচ মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে হলে শিক্ষায় বিনিয়োগ বেশি প্রয়োজন।

অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিখ্ষকদের এমপিওভুক্তির বিষয়ে এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। কিন্তু আমরা সব সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে পারি না। আমাদের জনপ্রশাসনে যেতে হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ে যেতে হয়। আমরা এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে যখন পাঠাই তারপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তৃতীয় শিক্ষকের পদটিই অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আমাদের আবারও অর্থ মন্ত্রণালরে সঙ্গে দেনদরবারে যেতে হবে। আমরা আশা করছি যে তারা বিষয়গুলো বিবেচনা করবে।

/এফএস/
সম্পর্কিত
দেশের ৩৫ লাখ শিক্ষার্থীকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে চায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর সুবিধা দিতে হাইকোর্টের রায়
প্রথমবার সরস্বতী পূজা উদযাপন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
সর্বশেষ খবর
জনগণের সংগ্রাম থামানো যাবে না: গণতন্ত্র মঞ্চ
জনগণের সংগ্রাম থামানো যাবে না: গণতন্ত্র মঞ্চ
মোহামেডানকে হারিয়ে ফাইনালে মেরিনার্সকে পেলো আবাহনী
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ‘হাতাহাতি’মোহামেডানকে হারিয়ে ফাইনালে মেরিনার্সকে পেলো আবাহনী
আর্জেন্টিনায় ম্যারাডোনার পরই মেসির অবস্থান: জামাল ভূঁইয়া
আর্জেন্টিনায় ম্যারাডোনার পরই মেসির অবস্থান: জামাল ভূঁইয়া
কৌতূহল থেকে খতনা, প্রাণ গেলো শিশুর
কৌতূহল থেকে খতনা, প্রাণ গেলো শিশুর
সর্বাধিক পঠিত
ডাল খেলে গ্যাস্ট্রিক হচ্ছে? জেনে নিন ৫ টিপস
ডাল খেলে গ্যাস্ট্রিক হচ্ছে? জেনে নিন ৫ টিপস
বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে জানালো বিসিবি
বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে জানালো বিসিবি
গাজায় যুদ্ধবিরতি: কী বলছে হামাস, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র
গাজায় যুদ্ধবিরতি: কী বলছে হামাস, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র
বিদ্যুতের বর্ধিত দাম কার্যকর হবে ফেব্রুয়ারি থেকেই
বিদ্যুতের বর্ধিত দাম কার্যকর হবে ফেব্রুয়ারি থেকেই
কেন চালু হচ্ছে না ফাইভ-জি?
কেন চালু হচ্ছে না ফাইভ-জি?