বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও পাকিস্তান উচ্চশিক্ষা কমিশন (এইচইসি) উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কার্যক্রম জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান এইচইসি’র একটি প্রতিনিধিদল ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সোমবার (১ ডিসেম্বর) এ আগ্রহ প্রকাশ করে।
সভায় ইউজিসির সদস্য অদ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জেসমিন পারভিন, হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রকল্প পরিচালক জেহানজেব খানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে জেহানজেব খান পাকিস্তানের ‘নলেজ করিডোর’ উদ্যোগসহ শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘চিকিৎসা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নতুন পথ খুলে দিতে পারে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘নলেজ করিডোর শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে উভয় দেশের জন্যই একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।’’ পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের দক্ষতা উন্নয়ন ও বাজার চাহিদা ভিত্তিক কোর্স বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক চাকরিতে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিনিধি দল স্নাতক পর্যায়ে (নন ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল ও অ্যালাইড হেলথ সায়েন্স) বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ প্রদানের ঘোষণা দেন। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে তারা জানান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দু’দেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।
সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফায়েজ বলেন, ‘‘বাংলাদেশে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউজিসি ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। উচ্চশিক্ষায় পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। তাদের বেশকিছু স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ালে গবেষণা, শিক্ষার্থী বিনিময় ও একাডেমিক উৎকর্ষে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।’’
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘‘নলেজ করিডোর উদ্যোগ বাংলাদেশ–পাকিস্তান শিক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিক সুযোগ বাড়াতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’’ ইউজিসি’র উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে নলেজ করিডোর নিয়ে সেশন পরিচালনা করা হবে বলে তিনি জানান।
সভা শেষে দুই পক্ষ ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে। এছাড়া, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে একমত হন।









