বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে (ইমপ্রুভ) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর ভুল প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অস্থির হওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা আমাদেরই সন্তান। আমরা কাউকে বঞ্চিত করবো না। কোথাও প্রয়োজন হলে পুনঃপরীক্ষাও নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যেন পড়ার টেবিলে ফিরে যায়। সরকারই শিক্ষার্থীদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। কোথাও পরীক্ষা গ্রহণে সমস্যা হলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। এজন্য ওই দুই প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা চলাকালে সরকার সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। কোথাও পরীক্ষাকেন্দ্রে পানি ওঠার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব স্থানে পরীক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেসব ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম বোর্ডে এমন সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ৬৪ জেলার প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও আবহাওয়া অধিদফতরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা অনুকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়ায় পরীক্ষা বহাল রাখা হয়। তবে পরদিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র প্লাবিত হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি জানান, ওই কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে কাপড় এনে দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের হাতে প্রয়োজন হলে কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা স্থগিত বা স্থানান্তরের ক্ষমতা রয়েছে। ভবিষ্যতেও পরীক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে পাবলিক পরীক্ষাগুলো ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার, যাতে বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নিতে না হয়।
এ ছাড়া পাবলিক পরীক্ষার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হওয়া কমাতে পৃথক স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী।








