X
বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২
২৬ শ্রাবণ ১৪২৯
বিনোদন বিশেষ

হলে গিয়ে সিনেমা দেখা মাগুরাবাসীর কাছে এখন স্মৃতি

মাজহারুল হক লিপু, মাগুরা
০৪ মে ২০২২, ১৫:১৮আপডেট : ০৪ মে ২০২২, ১৭:১৯

ঈদে আর মানুষের মিছিল নেই মাগুরার পূর্বাশা সিনেমা হলে। করোনার তোপে বন্ধ হয়ে গেছে হলটি। অথচ একসময় ঈদের দিন সকাল থেকে হলটির সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন থাকতো। সেসব এখন শুধুই স্মৃতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাগুরা জেলায় তিনটি সিনেমা হল ছিল। এর মধ্যে দুটি বন্ধ। আরেকটি বন্ধের পথে। করোনা ও দর্শক সংকটে লোকসানের কারণে হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন হল মালিকরা।

এখন মাগুরায় শুধু মধুমতি সিনেমা হল চালু আছে। এবার ঈদে এই হলে চলছে শাকিব খান ও বুবলী জুটির ‘বিদ্রোহী’।

স্বাধীনতার অনেক আগে থেকে মধুমতি হলের কার্যক্রম শুরু হলেও তা যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর আবারও মধুমতি নামে এটি চালু হলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মাগুরা টাউন হল ক্লাব হলটির মালিক হলেও এটি লিজ নিয়ে চালান কয়েকজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা সফল হলটি লিজ নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা লেগে থাকতো একসময়। ৯০’র দশক পর্যন্ত হলটি ছিল ব্যবসা সফল। পরবর্তী সময়ে টাউন হল ক্লাব এটি ভেঙে বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করে। দোতলায় হলের কার্যক্রম শুরু হলেও আর ফিরে আসেনি জৌলুস। মূলত ২০০০ সাল পরবর্তী সময় থেকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হলটি। এখনও হলটি চালু থাকলেও যে কোনও সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানা গেছে। 

শহরের অপর জনপ্রিয় হল পূর্বাশা ভবনটি এখনও থাকলেও দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে কার্যক্রম। একসময় টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইন পড়তো যে হলের সামনে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা।

আশির দশকে মাগুরার ছায়াবাণী সিনেমা হলটি ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। ৯০’র দশকে অজ্ঞাত কারণে হলটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে হলের অস্তিত্ব নেই। 

জেলার সংস্কৃতিকর্মী জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘বাংলা ছায়াছবি আমাদের সংস্কৃতির প্রধান একটি অংশ। সিনেমা হলে দর্শক না এলে আমাদের সিনেমা শিল্প বন্ধ হয়ে যাবে। সেটি কাম্য নয়।’

শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা রুবায়েত ফিরোজ বলেন, ‘এমনও ঈদ গেছে যেদিন তিন হলে তিনটি ছবি দেখেছি। এখনকার ছবিগুলো কেন জানি টানে না আমাদের। তবে হলগুলো টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগ দরকার।’

পূর্বাশা সিনেমা হলের মালিক মাজেদ মোল্লা ইন্তেকাল করলে তার সন্তানরা আর সিনেমা হলটি চালাতে আগ্রহ দেখাননি। তার ছেলে আশরাফুল আলম শিমুল বলেন, ‘হলটি মাগুরার ঐতিহ্য। বাবার আমল থেকে আমি এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। বাবার মৃত্যুর পরও আমি চেষ্টা করেছি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু কতদিন আর লোকসান দেওয়া যায়। তাই ধীরে ধীরে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।’

শহরের নতুন বাজারের শিক্ষিকা চন্দনা দাস বলেন, ‘আমরা অপেক্ষায় থাকতাম ঈদে কি ছবি আসবে সেজন্য। ঈদে একটা ছবি তিনবার পর্যন্ত দেখেছি। সেই পরিবেশ ফিরিয়ে আনা দরকার।’

হলে কেন দর্শক আসে না এমন প্রশ্নের জবাবে পূর্বাশা সিনেমা হলের অন্যতম মালিক আশরাফুল আলম শিমুল বলেন, ‘আমি জানি না কেন আসে না। তবে মনে হয় ডিজিটাল দুনিয়া হাতে পেয়ে সিনেমা হলে এসে সময় দেওয়ার মতো মানুষ কমে যাচ্ছে। হলে বসেও দর্শক মোবাইলে ব্যস্ত থাকে। তবে আমি চাই দর্শক হলে ফিরে আসুক। জানি না আমার চাওয়া কোনোদিন পূরণ হবে কিনা।’

মধুমতি হলের মালিক মাগুরা টাউন হলের সাধারণ সম্পাদক জায়েদ বিন কবির নিশান বলেন, ‘একটা সময় ঈদের আগে থেকে জেলায় সাড়া পড়ে যেতো কোন হলে কোন ছবি আসবে। এখন কেউ খবরও রাখে না। আগে হল লিজ নেওয়ার প্রতিযোগিতা লেগে থাকতো। এখন হল মালিক ভাড়া পরিশোধ করতে পারেন না। এবারের ঈদেও ছবি চলবে মধুমতিয়। কিন্তু দর্শক না হলে যখন তখন হল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আমরা পরিকল্পনা করছি, একটা মাল্টিস্টোরেজ কমপ্লেক্স তৈরি করার। সেখানে হয়তো একটা সিনেপ্লেক্স থাকতে পারে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব।’

/এএম/এমএম/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রুশ পর্যটকদের নিষিদ্ধ করুন, পশ্চিমাদের জেলেনস্কি
রুশ পর্যটকদের নিষিদ্ধ করুন, পশ্চিমাদের জেলেনস্কি
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আবু তাল্লাহর খোঁজে আসাম পুলিশ
নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আবু তাল্লাহর খোঁজে আসাম পুলিশ
এ বিভাগের সর্বশেষ