X
মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১

পেখম মেলেছে খুশির ময়ূর, আছে অভিযোগও!

বিনোদন রিপোর্ট
১০ মার্চ ২০২৩, ১৫:১৯আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৩, ১৬:৫৫

দেশের সিনেমায় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। তাই এর প্রাপ্তিতে আনন্দের অন্ত থাকে না বিজয়ীদের মনে। তার ওপর প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ; ফলে খুশির মাত্রা থাকে দ্বিগুণ। করোনা মহামারির কারণে অবশ্য গত দুই আসরে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। এবার তাই শিল্পী, নির্মাতা, কুশলীদের মনে খুশির ময়ূর পেখম মেলেছে দ্বিধাহীন উচ্ছ্বাসে।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে বিজয়ীদের হাতে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রাপ্তির পর শিল্পী-কুশলীদের প্রতিক্রিয়া কেমন, সেটাই এক ঝলকে জেনে নেওয়া যাক...

একবাক্যের মুগ্ধতার কথা বলতে হয় প্রথমে। শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক ক্যাটাগরিতে (দলগত) পুরস্কার পেয়েছেন মাজহারুল ইসলাম রাজু। ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’তে কাজের সুবাদে এই স্বীকৃতি। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটি সোশাল হ্যান্ডেলে পোস্ট করে শুধু বললেন, ‘সিনেমা, আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছো প্রধানমন্ত্রীর সামনে!’

পর পর দুইবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পেলেন তরুণ নায়ক সিয়াম আহমেদ। তবে এই প্রথম তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ট্রফি ও মেডেল নিলেন। ওই একমুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথাও হয়েছে তার। তিনি সিয়ামকে পরামর্শ দিয়েছেন আইন নিয়ে চর্চা করতে। কেননা, সিয়াম একজন ব্যারিস্টার।

অনুভূতি প্রকাশে সিয়াম সোশাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “মৃধা বনাম মৃধা’ ছবির জন্য ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২১’-এ সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেলাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। এটি আমার দ্বিতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আমি আমার পরিবার, আমার দর্শক, আমার সহকর্মী, আমার ইন্ডাস্ট্রির কাছে কৃতজ্ঞ। ‘মৃধা বনাম মৃধা’ আমার জন্য, আমাদের জন্য খুবই স্পেশাল একটা ছবি। ১৮ দিন শুটিং করেছি আমরা একসঙ্গে, এর আগে-পরে আরও কত দারুণ সময় যে কাটিয়েছি একসাথে! এই সিনেমাটির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেককে আমার অভিবাদন। বিশেষ করে, সিনেমাটির পরিচালক রনি ভৌমিক, চিত্রনাট্যকার রায়হান খান ও আমার সহশিল্পী নোভা ফিরোজের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

যদিও সিয়ামের খুচরো আক্ষেপ, যদি এই সিনেমার জন্য তারিক আনাম খান পুরস্কারটি পেতেন, তাহলে তিনি আরও বেশি খুশি হতেন। সিয়ামের ভাষ্য, ‘তারিক স্যার যদি এই পুরস্কারটি পেতেন, তাহলে আমি সবচেয়ে খুশি হতাম। আমার বিশ্বাস, ছেলের এই প্রাপ্তিতে বাবা (তারিক আনাম খান- ছবিতে বাবার ভূমিকায় ছিলেন) ভীষণ খুশি হবেন। এই অ্যাওয়ার্ডটা তারও!’

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন মীর সাব্বিরও। ‘রাত জাগা ফুল’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের সুবাদে তিনি জিতেছেন। পুরস্কার গ্রহণের সময় তাকে প্রধানমন্ত্রী উপদেশ দিয়েছেন, ‘আরও সুন্দর সুন্দর কাজ তোমার কাছ থেকে চাই’।

মীর সাব্বির নিজের অনূভুতি প্রকাশ করলেন এভাবে, “দিনটি আমার কাছে খুবই স্মরণীয় হয়ে থাকবে সারা জীবন। ‘রাত জাগা ফুল’ চলচ্চিত্রে শিল্পী-কুশলী যারা জড়িত ছিল, সবার অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই এটি নির্মাণ করতে পেরেছিলাম। তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবো না। পুরস্কার দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী পরম মমতায় হাত বুলিয়ে দিলেন, পরামর্শ দিলেন, ওই কথা আমার জীবনে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আমি চেষ্টা করবো আমার পরবর্তী যেকোনও কাজ সুন্দর এবং সুচারুরূপে করার জন্য।”

অসামান্য এই প্রাপ্তিতে বাবাকে অনেক বেশি মনে পড়ছে মীর সাব্বিরের। বললেন, ‘আমার বাবা মীর মাহবুবুল আলম আজকে বেঁচে নেই। তিনি থাকলে হয়তো অনেক খুশি হতেন। ঈদের নামাজ ছাড়া হয়তো আরও একবার কোলাকুলি করার সুযোগ পেতাম। আফসোস সেটা আর হলো না। পরিবারের সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ, তারা সবাই আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। যে উৎসাহ না থাকলে একজন শিল্পীর জন্য সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন।’

শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কৃত হয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমার হাত ধরে তিনি বিখ্যাত কান উৎসবে পর্যন্ত প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সেই সিনেমার জন্যই এবার পেলেন দেশসেরা পুরস্কার। বেশি কিছু বললেন না। বাবা ও কন্যাকে নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে গিয়েছিলেন। পুরস্কার গ্রহণের পর তাদের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হলেন। সেই ছবি শেয়ার করে শুধু এটুকু বললেন, ‘আমাদের হাসিই সব বলে দিচ্ছে’। এমন প্রাপ্তির পর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের হাসির চেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া আর কিই বা হতে পারে!

‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ পেয়েছে যৌথভাবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার। এই প্রাপ্তিতে ছবিটির প্রযোজক মাতিয়া বানু শুকু কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পুরস্কারের জুরি বোর্ড, সেন্সর বোর্ড, তথ্য মন্ত্রণালয়, সিনেমার নির্মাতা, শিল্পী, কুশলী, দর্শক, সমালোচক এবং শুভাকাঙ্ক্ষী সবার প্রতি।

শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন ইদিলা কাছরিন ফরিদ। ‘নোনা জলের কাব্য’ সিনেমার জন্য তার হাতে পুরস্কার উঠেছে। একবাক্যে প্রকাশ করলেন নিজের অনুভূতি, ‘কত চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে এই মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছি! আমার পরিবারের সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা!’

এবারের আসরে সর্বোচ্চ সাতটি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে ‘নোনাজলের কাব্য’ ছবিটি। এটি নির্মাণ করেছেন তরুণ নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। তিনি একাই পেয়েছেন তিনটি পুরস্কার- শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ নির্মাতা ও শ্রেষ্ঠ কাহিনিকার। প্রাপ্তির উচ্ছ্বাসে না ভেসে সংক্ষেপে বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করা অনেক বড় সম্মান। হ্যাটট্রিকের জন্য চমৎকার একটি দিন! আমি আমার পুরো টিমের প্রতি কৃতজ্ঞ। কী অসাধারণ এক জার্নি ছিল এটি।’

কৌতুক চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হয়েছেন মিলন ভট্টাচার্য্য। তিনি বললেন, ‘প্রথমবারের মতো কোনও পুরস্কার প্রাপ্তি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আমি কখনোই কোনও পুরস্কার এখন পর্যন্ত পাইনি। তাই এই অনুভূতি প্রকাশ করবার নয়। সবাই আশীর্বাদ করবেন।’

শ্রেষ্ঠ গায়কের পুরস্কার জিতেছেন মুহিন খান। ‘পদ্মাপুরাণ’ ছবিতে ‘শোনাতে এসেছি আজ’ শিরোনামের গান গেয়ে সেরা হয়েছেন তিনি। পুরস্কার প্রাপ্তিতে আনন্দিত হলেও অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনায় কষ্ট পেয়েছেন তিনি। তার অভিযোগ, অনুষ্ঠানস্থলে পানির ব্যবস্থা ছিল না। ফলে শিল্পী-কুশলী থেকে শুরু করে তাদের পরিবার-পরিজন, সন্তান সকলেই পিপাসায় কষ্ট পেয়েছেন।

মুহিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনাকে ধন্যবাদ, আপনার ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করেছে। কিন্তু আমি আগামী কিছু দিন এই পুরস্কার নিয়েই কথা বলবো। শিল্পীরা টাকার চাইতে সম্মান বেশি আশা করেন। এমন পানির কষ্ট শিল্পী ও উপস্থিত ছোট-বড় সকলে পেয়েছেন। সব কষ্ট সহ্য করা যায়, পানি বা জলের কষ্ট ভয়ংকর। মাত্র ৩১-৩২ জনের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অযাচিত মানুষ বর্জন করে শুধু মাত্র চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষ দাওয়াত পেলে বেশি ভালো হয়। ৯০ শতাংশ মানুষকে এত সিকিউরিটির মধ্যে দেখেছি, যারা অধিকাংশ বাইরের দাওয়াতি মানুষের মতো। তবু প্রধানমন্ত্রী তার ব্যবহারে আমাকে মুগ্ধ করেছেন, যতটা কষ্ট পেয়েছি নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে।’

মুহিন জানান, অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে আগামী কয়েক দিন তিনি ধারাবাহিকভাবে ফেসবুকে লিখবেন। তুলে ধরবেন বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটের কথা। তার ভাষ্য, ‘কেউ কষ্ট পেলে বলতে  চায় না, আমি বলে ফেলি। কার সঙ্গে কী ঘটেছিল নিজে দেখেছি। চারদিকে পানির হাহাকার, ৩-৪ হাজার মানুষের পানির বন্দোবস্ত করতে পারেননি! বিস্ময়! আমার সঙ্গে আমার ১০ বছর ও ৭ মাসের দুই বাচ্চা ছিল, একজন বাবা হিসেবে আমি মানতে পারিনি, পারবো না। পানির এই তীব্র সমস্যা মরুভূমির আকার ধারণ করেছে। আর নিরাপত্তা অবশ্যই দিতে হবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে, কিন্তু তারপরও যারা পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন, মানে যাদের পুরস্কার দিলেন তাদের ও তাদের পরিবারকে আলাদা করে ওই দিনের জন্য হাজারো ক্লিয়ারেন্স করে দুর্ব্যবহার কাম্য নয়। কাউকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরে যেতে না দেওয়া বা পানি না পাওয়ার বেদনায় খুব দ্রুত বেরিয়ে গেছি।’

উল্লেখ্য, এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৩ সদস্যের জুরি বোর্ড গঠন করে। ২০২১ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ২১টি পূর্ণদৈর্ঘ্য, ১৭টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও ৭টি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রসহ মোট ৪৫টি চলচ্চিত্র থেকে বাছাই করা হয় বিজয়ীদের।

/কেআই/এমওএফ/
সম্পর্কিত
রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিবন্ধীদের স্মারকলিপি
১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিবন্ধীদের স্মারকলিপি
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ডকুমেন্টারি ‘কলকাতায় মুজিব’র খসড়া দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ডকুমেন্টারি ‘কলকাতায় মুজিব’র খসড়া দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
‘জংলি’র সব গানে প্রিন্স মাহমুদ
‘জংলি’র সব গানে প্রিন্স মাহমুদ
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
পলাশের উপহারে আপ্লুত তারিক আনাম খান
পলাশের উপহারে আপ্লুত তারিক আনাম খান
মায়ের মৃত্যুর পর ধর্মে আস্থা বেড়ে গেছে: জাহ্নবী
মায়ের মৃত্যুর পর ধর্মে আস্থা বেড়ে গেছে: জাহ্নবী
ওটিটিতে আসছে ‘রাজকুমার’
ওটিটিতে আসছে ‘রাজকুমার’
ফাতিমা: সাধারণ এক নারীর ‘অসাধারণ’ সংগ্রামের ছবি
সিনেমা সমালোচনাফাতিমা: সাধারণ এক নারীর ‘অসাধারণ’ সংগ্রামের ছবি
কান নিয়ে হুমার ‘খোঁচা’ ও প্রত্যাশা
কান নিয়ে হুমার ‘খোঁচা’ ও প্রত্যাশা