X
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
সিনেমা সমালোচনা

লিডার: স্বস্তি আর অস্বস্তির পাঁচ-ছয়

শেরিফ আল সায়ার
শেরিফ আল সায়ার
২৬ এপ্রিল ২০২৩, ১০:০২আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২৩, ০২:০০

করোনার ধাক্কা সামলে বাংলাদেশের সিনেমাপাড়া ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’র মাধ্যমে। যদিও ঈদকে ঘিরে করোনা মহামারির পর এবারই প্রথম বাংলা সিনেমার পালে হাওয়া লেগেছে। ৮টি চলচ্চিত্র মুক্তি পেলো, তার মধ্যে শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’ দর্শক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে যে থাকবে তাতে কোনও সন্দেহ ছিল না। শাকিব-বুবলীর সম্পর্কের উত্থান ও পতনের গুঞ্জন সবই মেশানো আছে এই আগ্রহে। যাইহোক, দর্শকের কাছে যে শেষ পর্যন্ত সিনেমাটাই গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলে গেলেই টের পাওয়া যায়। দর্শকে পরিপূর্ণ। সবার চোখে মুখে বাংলা সিনেমার প্রতি প্রেম টের পাওয়া যায়। তবুও কিছু কথা তো থেকেই যায়।

শুরুটা হোক স্বস্তি দিয়ে-

১. বাংলা সিনেমার বিরুদ্ধে দর্শকের বড় অভিযোগের তীরটা ছিল কাট-কপি-পেস্ট ঘিরে। অর্থাৎ পার্শ্ববর্তী দেশের দু’চারটা গল্প জোড়া তালি মেরে একটা গল্প দাঁড় করিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণেই আমাদের মুনশিয়ানা ছিল। সেই খোলসে আটকে পড়েছিলেন খোদ বাংলা সিনেমার ‘কিং খান’ শাকিব খান।

বলা হয়, শাকিব খান একাই বাংলা সিনেমার দর্শক আটকে রেখেছেন বহু বছর। কথাটা ভুল নয়। সত্যি সত্যিই ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত আমাদের কিং খান। খুব নিশ্চিত করে বলতে হয়, এবার আর শাকিব তার ভক্তদের নিরাশ করলেন না। খাঁটি মৌলিক গল্প নিয়ে হাজির হলেন তিনি। নিজের দেশের আদলে, নিজেদের সমস্যার গল্পই তুলে ধরেছেন তরুণ পরিচালক তপু খান। যার নায়ক শাকিব খান এবং নায়িকা বুবলী।

২. পুরো গল্পজুড়েই শাকিবের চরিত্র নাফিজের শাসন জারি ছিলো। তাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’। শাকিব নিজের অভিনয়গুণকে ধরে রাখতে পেরেছেন শতভাগ।

৩. এই চলচ্চিত্রের আবহ সংগীত নিপুণ হাতে পরিচালনা করেছেন বাপ্পা মজুমদার। তাছাড়া এই চলচ্চিত্রের প্রাণই ছিল গান। গল্পের বাঁকে বাঁকে সুরের যে মূর্ছনা তৈরি হয়েছে সেখানে ‘লিডার’ সত্যিই উতরে গেছে। এক্ষেত্রে বাপ্পা মজুমদারের পাশাপাশি সুরকার শুভ্র রাহা ও নাভেদ পারভেজসহ পুরো মিউজিক ইউনিটকে ধন্যবাদ দেওয়া যেতে পারে।

৪. ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’- সিনেমার মূল শক্তির জায়গা হলো সংলাপ। পরিচালক যেভাবে বাংলাদেশকে দেখাতে চেয়েছেন এক মহল্লার মাধ্যমে– সেই চেষ্টা অনবদ্য। তার সাহসের প্রশংসা না করে পারা যাবে না। যেমন, শাকিব খানের চরিত্র নাফিজ বেশ কয়েকবার বলেছেন, আমাদের সব সমস্যা সমাধান সরকারকেই কেন করতে হবে? আমরা কেন নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করি না? আবার সর্বশেষ সংলাপে নাফিজ বললেন, ‘আমি চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে এমন একজন মানুষ গড়ে তুলতে, যারা রাজনীতি না করেও একেকজন এক একটা লিডার হবে’। কিংবা, ‘আমি আমার দেশকে নিজের মহল্লা মনে করি, আর মহল্লাকে নিজের ঘর’, ‘অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতি দেখে প্রতিবাদ করুন’, ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস, আমরাই সরকার, আমরাই লিডার, আমরাই বাংলাদেশ’। এসব সংলাপের ওজনদার পাঞ্চ দর্শকের ভেতর বড় সড় ধাক্কা দিতে সক্ষম। যদিও বঞ্চনার শিকার এ দেশের জনগণ তা কতটা বুঝবে সেটা অবশ্য ভিন্ন বিতর্ক।

৫. গল্পের নানান বাঁকে বাংলাদেশের বর্তমান সমস্যাকে সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন পরিচালক। বিশেষ করে রাজনৈতিক দৈন্যতা নিয়ে আমাদের সমাজে যা চলছে সেটিও তুলে ধরেছেন। ভাবতে অবাক লাগে, বর্তমান সময়ের সেন্সর বোর্ডের এত কঠিন দৃষ্টির বেড়াজাল ভেঙেও তপু খান ঠিকই আম-জনতার মনের কথাগুলো বলতে পেরেছেন। একইসঙ্গে পরিচালক প্রমাণ রাখলেন– সীমানার মধ্যে থেকেও অনেক কিছুই বলা যায়, দেখানো যায়, দর্শকের কাছে তুলে ধরা যায়। দরকার শুধু ইচ্ছা। যেমন, ভিআইপি মন্ত্রী-এমপিরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের চলাচলের সুবিধার জন্য রাস্তা বন্ধ করে রাখেন। সাধারণ মানুষের ভোগান্তির এই নিদারুণ চিত্রটি নগরের পুরনো গল্প। এসব ঘটনা এখন সংবাদে বা সোশ্যাল হ্যান্ডেলে খুব একটা উঠে আসে না, সেটিও এবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন পরিচালক। একইসঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের যে দুর্নীতি সেটিও নিজ তুলিতে এঁকে দিলেন তপু খান। 

শবনম বুবলী, তপু খান ও শাকিব খান তবুও কিছু অস্বস্তি–

১. ভারতে ‘টয়লেট: এক প্রেম কথা’ কিংবা ‘প্যাডম্যান’ নিশ্চয়ই অনেকে দেখেছেন। সামাজিক সমস্যাকে তুলে ধরার জন্য ফিকশন ফিল্ম তৈরি করা হয়েছে। ‘লিডার: আমিই বাংলাদেশ’ যেন তেমনই একটি প্রচেষ্টা। পরিচালক বোঝাতে চেয়েছেন গল্পের মূল চরিত্র নাফিজ একজন সচেতন নাগরিক। সেটা বোঝাতে গিয়ে অর্ধেক সিনেমাজুড়ে মনে হচ্ছিল– সিনেমা দেখতে আসিনি, এসেছি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখতে!

কলার ছিলকা রাস্তায় না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলুন, বাইক চালাতে হেলমেট ব্যবহার করা উচিত, কেউ বিপদে পড়লে ফেসবুক লাইভ না করে সহযোগিতা করুন- এমন অনেক জনসচেতনতামূলক সংলাপ চলচ্চিত্রজুড়ে অনেক ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ দর্শক তো শেষ পর্যন্ত গল্পের টুইস্ট কিংবা নিরেট আনন্দটা খুঁজে বেড়ায়। গল্পের বাঁকে বাঁকে নিশ্চয়ই দর্শককে কোনও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক বার্তা দিতে পারেন পরিচালক কিন্তু যখন বার্তার বাঁকে বাঁকে গল্প দেখানো হয় তখন কিছুটা মন্দ তো ঠেকবেই।

২. গল্পে অনেক কিছুই কন্টিনিউটি ব্রেক আছে। এটি অবশ্য আরও গভীর বিশ্লেষণের জন্য চলচ্চিত্রটিকে কয়েকবার দেখা প্রয়োজন। যেমন, শাকিব খানকে একবার দেখা যায় বাইক চালিয়ে হেলমেট মাথায় দিয়ে বাসায় ফিরছেন। কিন্তু যখন বাসায় নামলেন তখন চোখে সানগ্লাস। যা আগের দৃশ্যে ছিল না। আবার বুবলী অর্থাৎ মিলি চরিত্রটি যখন নাফিজের বাসায় যায় তাকে খুঁজতে। সেখানে নাফিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। তখন নাফিজের বাবা-মা দাঁড়িয়ে ছিলেন। এর মধ্যে হুট করে ক্যামেরার পজিশন বদল হয়। বোঝা যায় ওই অংশের শুটিং পরে হয়েছে। সেখানেও কন্টিনিউটি ব্রেক। কারণ ক্যামেরার পজিশন বদলের পর দেখা যায় সোফায় নাফিজের বাবা-মা বসে আছেন। কিন্তু ঠিক আগের দৃশ্যে তারা ছিলেন দাঁড়িয়ে।

৩. ছবির সম্পাদনা ভালো হয়নি। এটা একবাক্যে বলে দেওয়া জরুরি।

৪. গল্পের মূল চরিত্র নাফিজ। গল্পের আরেকটি ‘মূল চরিত্র’ মিলি। অর্থাৎ বুবলী। বুবলী তিন বছর ইউনিভার্সিটিতে ফেল করেছে শুধুমাত্র ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি হবেন বলে। এই দুঃখ নাফিজের কাছে জানান মিলির বাবা। সঙ্গে বলেন, সে পুরুষ হতে চায়, সে জিন্স প্যান্ট আর টপস পরে থাকে! সে যে নারী সেটা সে ভুলে গেছে। তাকে যে বিয়ে সংসার করতে হবে সেটাও ভুলে গেছে।

মিলিকে আবার নারী বানানোর আশ্বাস দেয় নাফিজ! অর্থাৎ জিন্সপ্যান্ট আর টপস বদলে এবার তাকে শাড়ি পরার পরিস্থিতি তৈরি করে নাফিজ। কিন্তু একজন নারী যে তিন বছর ফেল করছে সেদিকটি নিয়ে অবশ্য চলচ্চিত্রে আর কিছু বলা হয়নি। নারীকে শাড়ি কিংবা সালোয়ার কামিজ পরতে হবে, তাকে বিয়ে করতে হবে, সংসার করতে হবে– এটাই নারীর পরিচয়। এমনকি নারীর রাজনীতি করতে চাওয়া, নেতা হতে চাওয়া– এসব আসলে একটি পুরুষালী আচরণ।

শুনতে খুব খারাপ শোনালেও বলতে হয়, পরিচালক দেশের মানুষকে সচেতন করতে যে লিডার তৈরি করতে চেয়েছেন, সেই লিডার অবশ্যই কোনও নারী নন। তিনি কি এমনটাই বোঝাতে চাইলেন?

৫. শাকিব খানের চরিত্র ছাড়া একটি চরিত্রও বিস্তার করা হয়নি। এমনকি বুবলীর মিলি চরিত্রটির প্রতিও অবিচার হয়েছে বলে মনে হয়েছে। বুবলীর সাম্প্রতিক কয়েকটি কাজ প্রশংসার যোগ্য। যেমন, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া ‘টান’ দেখে বুবলীর অভিনয় দক্ষতা যে কোনও অংশে কম নয় সেটি টের পাওয়া যায়। এমন একজন অসাধারণ অভিনয়শিল্পীকে চলচ্চিত্রে শুধুমাত্র অলঙ্কার হিসেবে ধরে রাখার কোনও মানে হয়নি। মনে হয়েছে, অযথা এই গল্পে বুবলীকে আনা হলো, তার চরিত্রকে জাস্টিফাই করার জন্য মাঝে ছোট্ট একটা নির্বাচনের অংশ জুড়ে দেওয়া হলো।

শাকিব খানের বোনের চরিত্রটিকেও বিস্তার হতে দেওয়া হয়নি। অথচ চলচ্চিত্রের শেষের দিকে এটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তার প্রেমের ছোট্ট একটা ঘটনা ছাড়া আর তেমন কোনও বিস্তারই নেই চরিত্রটির। এছাড়াও মিশা সওদাগর ভিলেন হিসেবে দুর্দান্ত হলেও তার চরিত্রটিও ছিল অবহেলায় মোড়ানো। তিনি হাসপাতালের মালিক। আবার একইসঙ্গে শিল্পপতি। যার রাজনীতিতেও প্রভাব আছে। কিন্তু কীভাবে কোথায় সেই ক্ষমতার উৎস সেটি তেমন স্পষ্ট হয়নি সিনেমায়।   

৬. বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভিপি নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছে প্রতিপক্ষ দলের প্রার্থীর পাড়ার বড় ভাই! সেই বড় ভাইকে আবার টাকা দিয়ে নিজের দলে নিচ্ছে মিলি! আবার নির্বাচনী প্রচারণায় পাড়ার বড় ভাই বক্তৃতাও দিচ্ছেন! গল্পের এসব বিষয় সত্যিই কটু লেগেছে দেখতে। মনে হয়েছে- এটা কোনও বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পাড়ার ক্লাব।

এতসব কিছুর পরও ছবিটির প্রশংসা করা যায় তার মৌলিকত্বের জন্য। আমাদের দেশের দুর্নীতি, অনিয়ম, অবিচার, ছিনতাই- এসব কিছু নিয়ে পরিচালক যে তার প্রথম ছবিতে হাজির করেছেন তাতে অবশ্যই দর্শক তালি বাজাতে বাধ্য। হয়েছেও তাই। সিনেমা শেষে দর্শক তালি বাজিয়েই হল ত্যাগ করেছেন। কারণ শেষ পর্যন্ত বাংলা সিনেমাকে তার অস্তিত্বের কাছে ফিরে যেতে হবে। তার গল্প হতে হবে বাংলাদেশের, দেশের মানুষের। যেখানে মানুষ খুঁজে ফিরবে নিজেকে। শেরিফ আল সায়ার

লিডার: রেটিং ৭/১০

পরিচালক: তপু খান

প্রযোজক:    সৈয়দ আশিক রহমান

চিত্রনাট্যকার: দেলোয়ার হোসেন দিল ও তপু খান

কাহিনিকারও সংলাপ: দেলোয়ার হোসেন দিল

অভিনয়ে: শাকিব খান, শবনম বুবলী, মিশা সওদাগর, শহীদুজ্জামান সেলিম প্রমুখ

সুরকার: বাপ্পা মজুমদার, শুভ্র রাহা ও নাভেদ পারভেজ

আবহসংগীত: বাপ্পা মজুমদার

চিত্রগ্রাহক: চন্দন রায় চৌধুরী

সম্পাদক: আরিফিন সরকার

দৈর্ঘ্য: ১৪৪ মিনিট

ব্যানার: বেঙ্গল মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড

পরিবেশক: টিওটি ফিল্মস

মুক্তি: ২২ এপ্রিল ২০২৩

লেখক: সমালোচক ও গবেষক

/এমএম/
সম্পর্কিত
এবারের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র
এবারের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র
মান ভাঙলো মিমির, এলো ‘তুফান’র দ্বৈত ঝলক
মান ভাঙলো মিমির, এলো ‘তুফান’র দ্বৈত ঝলক
পাঁচ ‘বুবলী’ নিয়ে থানায় অপু!
পাঁচ ‘বুবলী’ নিয়ে থানায় অপু!
আচমকা এলো দেড় মিনিটের উসকানিমূলক ‘তুফান’!
আচমকা এলো দেড় মিনিটের উসকানিমূলক ‘তুফান’!
বিনোদন বিভাগের সর্বশেষ
২৪-এ হচ্ছে না বনি-কৌশানির বিয়ে
২৪-এ হচ্ছে না বনি-কৌশানির বিয়ে
আমি পুরোপুরি সিঙ্গেল: শ্রুতি হাসান
আমি পুরোপুরি সিঙ্গেল: শ্রুতি হাসান
ইতিহাসের পাতায় পায়েল কাপাডিয়া
কান উৎসব ২০২৪ইতিহাসের পাতায় পায়েল কাপাডিয়া
ফারিণের অভিষেক, নিরব-স্পর্শিয়ার অভিমান!
এ সপ্তাহের ছবিফারিণের অভিষেক, নিরব-স্পর্শিয়ার অভিমান!
শিক্ষার্থী নির্মাতাদের বিভাগে ভারতীয় তরুণ-তরুণীর জয়
কান উৎসব ২০২৪শিক্ষার্থী নির্মাতাদের বিভাগে ভারতীয় তরুণ-তরুণীর জয়