যুক্তরাষ্ট্র থেকে লম্বা ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরে শুটিং ইউনিটে ব্যস্ত হওয়ার কথা। অথচ তিনি দৌড়ঝাঁপ করছেন আইন-আদালত নিয়ে। বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ইউনিটে দায়ের করেছেন গুরুতর অভিযোগ। তার অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশও মাঠে নেমেছে। এরমধ্যে তিনজনকে নিয়েছে আইনের আওতায়। অব্যাহত রেখেছে অভিযান!
৭ মাস পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে বাসায় গিয়ে প্রথমেই চমকে দেন একমাত্র সন্তান জায়ান ফারুক আয়াশকে। বাড়িতে ফিরে সরাসরি ছেলের রুমে প্রবেশ করেন এই অভিনেতা। দেখেন, আয়াশ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তখন বাবার স্নেহমাখা স্পর্শে ঘুম ভাঙতেই চোখ মেলে প্রিয় মানুষকে দেখে আবেগে ভেসে যায় আয়াশ। খুশির কান্নায় সে বাবাকে জড়িয়ে ধরে।
বাবা-ছেলের সেই নিখাদ ভালোবাসার মুহূর্তটি সামাজিকমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন অপূর্ব। পরে এই আবেগঘন ভিডিওকে ঘিরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে শুরু হয় নোংরা প্রচারণা। ভুয়া শিরোনাম ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিষয়টি সুরাহার জন্য নিয়েছেন আইনি পদক্ষেপ।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাসে অপূর্ব লেখেন, ‘কিছু মানুষের সত্য-মিথ্যার বোধ নেই, ন্যূনতম সম্মানবোধও নেই। কিছু মানুষের গসিপ আর মিথ্যার কারখানা সমাজকে বিষাক্ত করে। সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা নিয়েও চলে নোংরা বিচার ও আজেবাজে মন্তব্য। এটা শুধু লজ্জাজনক নয়, চরম অমানবিকও।’
যোগ করে বলেন, ‘‘যাদের মস্তিষ্ক ও হৃদয়ে নেগেটিভিটির ক্যান্সার, তাদের কাছে বাবা-মায়ের ভালোবাসা প্রমাণ করার দরকার নেই। প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে তার সন্তান জীবনের সবচেয়ে বড় অংশ—তার প্রতিটি হাসি, কান্না ও অর্জন পিতা-মাতার জীবনকে অর্থবহ করে তোলে। তাই অন্যের সন্তান নিয়ে মনগড়া মন্তব্য করার আগে ভেবে নিন। সত্য না জানলে নীরব থাকুন। কারও সন্তানের জীবন আপনার কনটেন্ট তৈরির ‘আইটেম’ নয়।”
অপূর্ব বলেন, ‘যারা পিতা-পুত্রের ভালোবাসার মধ্যেও অন্য কিছু খুঁজে, তারা শুধু মানুষ নয়, সমাজের জন্যও বিপজ্জনক। মিথ্যা গল্প বানিয়ে ভিউ পাওয়ার জন্য সাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে এসব ভুঁইফোড় ইউটিউব চ্যানেল ও পেজ। বাংলাদেশ সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রতি কৃতজ্ঞতা, এত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
সবশেষে অপূর্ব সবাইকে আহ্বান জানান একটি সুস্থ ও ইতিবাচক সমাজ গড়ে তোলার জন্য। তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে একটা সুস্থ সমাজ গড়ে তুলি, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিই। সকলে সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। যারা আমাদের ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে পাশে আছেন—আপনাদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা ও অশেষ কৃতজ্ঞতা।’








