প্রতি ঈদেই শতাধিক টিভি অনুষ্ঠানমালার মধ্যে সর্বোচ্চ চমক নিয়ে হাজির হন হানিফ সংকেত তথা ‘ইত্যাদি’। এবারের আয়োজনটি ধারণ হয়েছে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উঠোনে।
বরাবরের মতো এবারও ‘ইত্যাদি’ শুরু করা হয়েছে-‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি দিয়ে। গত তিন দশক ধরেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের নিয়ে ঢাকায় ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই গানটি পরিবেশিত হচ্ছে। এবারে এই গানটি পরিবেশন করবেন ঘর থেকেও যাদের ঘর নেই। ঘরহারা এই মানুষদের সঙ্গে ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নেয়ার জন্যেই এবারের ঈদের গানটির ভিডিওতে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও এতিম শিশুদের সঙ্গে দর্শকের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল জুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিলো।
এবারের ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’র চমকানো সব বিষয়ের মধ্যে একটি বিশেষ পর্ব হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন নন্দিত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, আর তার সঙ্গে রয়েছে জনপ্রিয় ছয়জন কণ্ঠতারকা মনির খান, আগুন, রবি চৌধুরী, ফাহমিদা নবী, আঁখি আলমগীর ও প্রিয়াংকা গোপ। গানটির কথা লিখেছেন খ্যাতিমান গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, মূল সুর আলী আকবর রুপুর, সংগীত পরিচালনায় উজ্জ্বল সিনহা। আর গানটির নির্মাণে বৈচিত্র্য আনার জন্য ছিল এস কে জাহিদের পরিচালনায় অর্ধ শতাধিক নৃত্যশিল্পীর শৈল্পিক কোরিওগ্রাফি। নিয়মিত ‘ইত্যাদি’র তুলনায় ঈদের বিশেষ ‘ইত্যাদি’র একটি বড় অংশ জুড়েই থাকে বিভিন্ন ধরণের গান। আর গানগুলো বৈচিত্র্যময় ও চিত্তাকর্ষক করে তোলার জন্য নির্মাতা হানিফ সংকেত গানের শিল্পী-কথা-সুর ও নির্মাণ বৈচিত্র্য নিয়ে বিশেষভাবে পরিকল্পনা করেন। এবারের আয়োজনে তেমনই একটি ব্যতিক্রমধর্মী গান গেয়েছেন এই সময়ের জনপ্রিয় সংগীত তারকা হাবিব ওয়াহিদ। কথা লিখেছেন এস এ হক অলিক। গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন হাবিব ওয়াহিদ নিজেই।
এবার চমক হিসেবে থাকছে দুই ভুবনের দুই জনপ্রিয় তারকার দ্বৈত সংগীত। চলচ্চিত্র তারকা শবনম বুবলী এবং সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল। এই গানটির মাধ্যমেই নায়িকা বুবলীর গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটবে। হানিফ সংকেত জানান, পেশাদার সংগীতশিল্পী না হয়েও ইমরানের সঙ্গে খুব চমৎকারভাবে গানটি গেয়েছেন বুবলী। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল। সুর ও সংগীত করেছেন ইমরান মাহমুদুল।
আরেকটি আকর্ষণ বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় মনোমুগ্ধকর নৃত্য। এই নাচটিতে অংশগ্রহণ করেছেন দুই ভুবনের দুজন জনপ্রিয় অভিনয় তারকা। চলচ্চিত্র তারকা তমা মির্জা ও টিভি তারকা জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। তাদের সঙ্গে রয়েছে একদল নৃত্যশিল্পী। নৃত্য পরিচালনা করেছেন ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। এবারের ঈদে নানা শ্রেণি ও বিত্তের ঈদ কেনাকাটার সমস্যা নিয়ে থাকবে তিনটি মিউজিক্যাল ড্রামা। আর এতে অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনয় তারকা-তৌসিফ মাহবুব, সারিকা সাবরিন, সজল নূর, কুসুম শিকদার, আরফান আহমেদ ও নাসির উদ্দিন খান।
দলীয় সংগীতে অংশগ্রহণ করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শরীফুল রাজ এবং দর্শকপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী সাবিলা নূর। উপস্থিত দর্শকরা মুগ্ধ দৃষ্টিতে দেখেছেন তাদের এই চমৎকার কোরিওগ্রাফি সমৃদ্ধ নাচ। গানটির কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদী। কণ্ঠ দিয়েছেন রাজিব ও তানজিনা রুমা। নৃত্য পরিচালনা করেছেন মামুন।
প্রায় দুই যুগ ধরে ‘ইত্যাদি’তে বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণে লোকজ সংস্কৃতি, গ্রামীণ খেলাধুলা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে নিয়মিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশিদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে আমাদের সংস্কৃতি। নাচ-গান ও গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তুখোড় অভিনয় সমৃদ্ধ এবারের পর্বের বিষয় ‘লোভী ও সুবিধাবাদী দ্বিমুখী স্বভাবের মানুষ’ নিয়ে। দর্শকপর্বে অতিথি হিসেবে থাকছেন শক্তিমান অভিনেতা মোশাররফ করিম। তাৎক্ষণিকভাবে অভিনয় করেছেন দর্শকদের মধ্য থেকে নির্বাচিত চারজন দর্শকের সঙ্গে।
এছাড়াও রয়েছে ঈদকে ঘিরে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ডজনখানেক নাট্যাংশ।শিল্প নিদের্শনা করেছেন যথারীতি মুকিমুল আনোয়ার মুকিম। পরিচালকের সহকারী হিসাবে ছিলেন যথারীতি রানা সরকার ও মামুন মোহাম্মদ।
‘ইত্যাদি’ রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন, স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচার হবে ঈদের পরদিন রাত আটটার বাংলা সংবাদের পর।







