অমিতাভ বচ্চনের নাতনি এবং অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কন্যা আরাধ্যা বচ্চনের স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ইউটিউবে ছড়ানো ভুয়া খবরের মামলার শুনানি পেছালো। আদালত জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে মামলাটির পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে এ মামলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন তুললো দিল্লি হাইকোর্ট। ব্যক্তিত্বের অধিকার ও সুরক্ষার মামলায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) শুনানি চলাকালীন আদালত প্রশ্ন তোলে, একটি পরিবারের নাম কি ট্রেডমার্কের মতো যুগের পর যুগ বংশপরম্পরায় সুরক্ষা পেতে পারে?
বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্বানির একক বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে ট্রেডমার্কের সঙ্গে ব্যক্তির ভাবমূর্তি ও পারিবারিক খ্যাতির পার্থক্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ভাম্বানি উল্লেখ করেন, কোনও পণ্যের সঙ্গে ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ডের নাম যুক্ত থাকে। কিন্তু কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিষয়টির প্রেক্ষাপট আলাদা। আদালত মূলত নিম্নলিখিত আইনি প্রশ্নগুলো বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করে:
পারিবারিক নামের স্বত্বাধিকারের সীমা: আদালত প্রশ্ন তোলে, ‘যদি কোনও পারিবারিক নামকে ট্রেডমার্কের মতো সমান সুনামের অধিকারী ধরা হয়, তবে কাজের সাফল্য বা খ্যাতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সেই সম্মান বংশপরম্পরায় কত দূর বা কত প্রজন্ম পর্যন্ত সুরক্ষার আওতায় থাকবে?’
আইপিআর লঙ্ঘন কি না: ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর খবর—তা যতই ‘কুরুচিকর বা নীতিহীন’ প্রকৃতির হোক না কেন—তা প্রকাশ করা আদৌ কোনও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি অধিকারের লঙ্ঘন কি না? এবং লঙ্ঘন হলে তা কোন আইপিআরের আওতায় পড়বে?
আরাধ্যা বচ্চনের পক্ষে আইনজীবী প্রবীণ আনন্দ আদালতে সওয়াল করে জানান যে, পুরো বচ্চন পরিবারের ছবি ও নাম ব্যবহার করে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে এবং এই ধরনের ভুয়া খবর তাদের অর্জিত সম্মান ও ‘গুডউইল’ নষ্ট করছে।
২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্ট বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলকে আরাধ্যার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ভুয়া খবর ও ভিডিও প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। একই সঙ্গে টেক জায়ান্ট গুগলকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে তাদের প্ল্যাটফর্মে এমন কনটেন্ট না ছড়ায়।
মামলার পেছনের প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালে বাবা অভিষেক বচ্চনের মাধ্যমে আরাধ্যা বচ্চন দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সে সময় কিছু ইউটিউব চ্যানেলে ভুয়া খবর প্রকাশ করা হয়েছিল যে আরাধ্যা গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি। এমনকি কিছু জায়গায় তার মৃত্যুর মতো কুরুচিকর গুজবও ছড়ানো হয়। বচ্চন পরিবার ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসার দেরি করছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব মিথ্যা খবরের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে আইনি সুরক্ষা চান আরাধ্যা।

আট বছর ধরে যে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নওশাবা






