নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সুলতানার স্বপ্ন’ অবলম্বনে নির্মিত স্প্যানিশ ভাষার অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ঢাকায় মুক্তি পাচ্ছে। স্পেনের ইসাবেল হারগুয়েরা পরিচালিত এই ছবিতে বাংলার মুসলিম নারীদের তথা পুরো নারী সমাজের পরিবর্তনে বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের গল্প পর্দায় তুলে ধরা হয়েছে।
অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রটির স্প্যানিশ নাম ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’, ইংরেজিতে “সুলতানা’স ড্রিম”। আগামী ১৬ জানুয়ারি স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে এটি। ফলে বাংলাদেশের দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন এই আলোচিত ছবি।
২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্পেনে অনুষ্ঠিত সান সেবাস্তিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটির প্রিমিয়ার হয়। একই বছরের ১৭ নভেম্বর স্পেনের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছবিটি। সান সেবাস্তিয়ান ছাড়াও ইউরোপিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব, ভারতের গোয়ায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (আইএফএফআই), ফিল্মফেস্ট হামবুর্গ, লিডস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে এটি।
১৯০৫ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের “সুলতানা’স ড্রিম”। ১৯২২ সালে তিনি নিজেই কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে উপন্যাসটি ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে সর্বপ্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন। পুরো ভারতবর্ষে বিশেষ করে বাংলায় নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একটি বৈপ্লবিক কল্পকাহিনী হিসেবে “সুলতানা’স ড্রিম” বিখ্যাত। ২০১২ সালে ভারতের দিল্লিতে গিয়ে একদিন প্রচন্ড বৃষ্টিতে একটি আর্ট গ্যালারিতে আটকা পড়ে বইটি খুঁজে পান নির্মাতা হারগুয়েরা। তিনি বলেন, ‘এত বছর আগে লেখা একটি গ্রন্থে নারীদের অন্য এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। বইটি পড়ে আমার বিস্ময়ের শেষ ছিল না। একেবারে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মতো। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এটা নিয়ে সিনেমা বানাবো।’
“সুলতানা’স ড্রিম” প্রযোজনা করেছে স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। এটি ইসাবেল হারগুয়েরার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তার সঙ্গে যৌথভাবে এর চিত্রনাট্য লিখেছেন জিয়ানমার্কো চেরা। বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও বাস্কসহ ছবিটিতে পাঁচটি ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ভারতীয় সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গান আছে। তাজদির জুনায়েদের সংগীতায়োজনে এটি গেয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য।









