সিরিজ ‘আয়নাবাজি’: আজ থেকে একযোগে অনেক মাধ্যমে

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ১৪:৪৯, মে ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৪৮, মে ১২, ২০২০

‘আয়নাবাজি’ সিনেমার পোস্টার‘আয়নাবাজি’ সিনেমার ছায়া নিয়ে ওয়েব সিরিজ নির্মাণ প্রক্রিয়া শেষ। এবার অপেক্ষা মুক্তির। জানা গেছে, আজ (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে দশটায় এটি উন্মুক্ত হবে একযোগে, দেশের অনেক সম্প্রচারমাধ্যমে।

সেই লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর নাগাদ সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছেন প্রযোজক জিয়াউদ্দিন আদিল ও নির্মাতা অমিতাভ রেজার সৈন্যবাহিনী।
অমিতাভ রেজা চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার কাজ শেষ। তিন পর্বের শুটিং-সম্পাদনা করে ফেলেছি। ছবির পুরনো একটি গানের সুরের ওপর গানও লিখেছি। সব মিলিয়ে আমার হাতের কাজ আপাতত শেষ। এখন প্রচারের বিষয়টি প্রযোজক আদিল ভাই দেখছেন।’
প্রযোজক ও পরিবেশক জিয়াউদ্দিন আদিল জানান, এই সিরিজ সম্প্রচার হচ্ছে আজ, ১২ মে থেকে টানা তিনদিন, একই সময়ে (রাত সাড়ে ১০টা)। আর সম্প্রচারমাধ্যম হিসেবে থাকার কথা রয়েছে একাত্তর, যমুনা, ডিবিসি, জিটিভিসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি টিভি স্টেশন। একই সময়ে স্ট্রিমিং হবে ব্র্যাক, আয়নাবাজি, র‌্যাবিটহোল ও প্রথম আলোর ফেসবুক পেইজে।
জানা গেছে, সন্ধ্যা নাগাদ এই সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর সংখ্যা আরও বাড়বে।
জিয়াউদ্দিন আদিল বলেন, ‘সত্যি বলতে আমরা চাই এই সিরিজটি দেশের প্রতিটা প্রচারমাধ্যমে চলুক। ছড়িয়ে পড়ুক গোটা বাংলাদেশ, বাংলা ভাষার মানুষের কাছে। মানুষ সচেতন হোক। প্রতিরোধ করুক করোনাকে। সে জন্যই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রচারের পরিধি বাড়ানোর।’
জনপ্রিয় সিনেমা ‘আয়নাবাজি’র সূত্র ধরে তৈরি হলো বিশেষ এই ওয়েব সিরিজ ‘ঘরে বসে আয়নাবাজি’। যেখানে দেখা যাবে মূল সিনেমার প্রধান তিন চরিত্র চঞ্চল চৌধুরী, নাবিলা ও পার্থ বড়ুয়াকে।
সম্প্রতি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ‘আয়নাবাজি’র ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত হয় সিরিজের টিজার ও ‘এই শহর আমার’ শিরোনামের একটি গান। গানটির বক্তব্য এমন—একদিন সব আবার ঠিক হয়ে যাবে। এর দৃশ্যজুড়ে উঠে এসেছে ঢাকা শহরের করোনাকালের নিঃসঙ্গ চিত্র।
এর আগে প্রকাশিত টিজারে দেখা যায়, অমিতাভ রেজা ‘আয়নাবাজি’র আয়না, হৃদি আর সাবেরকে সঙ্গে নিয়ে শুটিং করছেন। এটি দেখার পর সিরিজটি নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে দর্শক মনে। যার ফলাফল মিলবে আজ (১২ মে) রাত সাড়ে দশটায় দিকে।
এই সিরিজে রয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এবং সুরক্ষা বজায় রাখতে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির বার্তা। সিরিজের জন্য চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন নাসিফ ফারুক।
প্রযোজক জিয়াউদ্দিন আদিল বলেন, ‘সংস্কৃতির একটা দায়বদ্ধতা থাকে। করোনার এই সংকটের সময়ে আয়নাবাজি চলচ্চিত্রের দলটি সচেতনতা তৈরির দায়বোধ থেকে এ উদ্যোগ নিয়েছে। এতে যুক্ত হওয়ার জন্য ব্র্যাক, অস্ট্রেলিয়ান এইডসহ অন্যান্য সম্প্রচারমাধ্যমকে ধন্যবাদ।’

‘ঘরে বসে আয়নাবাজি’ সিরিজে প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য হচ্ছে প্রায় ৮ মিনিট। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আয়না কীভাবে প্রতিকূলতাকে জয় করে আর সেখানে প্রতিবেশী এবং নিকটজনেরা কীভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন, সেটাই এই সিরিজে প্রকাশিত হবে। এখানেও আয়না চরিত্রে চঞ্চল চৌধুরীর রহস্যময় অভিনয় মানুষকে মুগ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করেন নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী।
কিন্তু এই লকডাউনের মধ্যে শুটিং প্রক্রিয়া বা গেটআপ-মেকআপ-সম্পাদনা কেমন করে শেষ হলো জবাবে অমিতাভ রেজা বলেন, ‘সবই যার যার ঘরে বসে হয়েছে। আমি কম্পিউটার প্যানেল নিয়ে নিজ ঘরে বসে শুটিং চালিয়েছি। টিজারে যেটা এরইমধ্যে দেখেছেন কীভাবে শুটিং করেছি। এটা আসলে বেশ কষ্টসাধ্য একটা প্রক্রিয়া। বাট কিছু তো আর করার নেই। জনস্বার্থে একটা ভালো কাজ করলাম, এটাই বড় কথা।’
এদিকে এ কাজটির মাধ্যমে সাড়ে তিন বছর পর ‘আয়নাবাজি’র একটা পুনর্মিলনী হচ্ছে বলে মনে করছেন আয়না চরিত্রের অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। একই প্রতিক্রিয়া অন্য দুই চরিত্র নাবিলা (হৃদি) ও পার্থ বড়ুয়ার (ক্রাইম রিপোর্টার)।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ