সিঙ্গাপুরে যেভাবে সংগঠিত হয় বাংলাদেশি ‘জঙ্গি’রা

বিদেশ ডেস্ক
০১ জুন ২০১৬, ০৯:১০আপডেট : ০১ জুন ২০১৬, ১৬:০৬
image

জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার অভিযোগে সিঙ্গাপুরে অভিযুক্ত ৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৪ জন আদালতে যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন; সেই স্বীকারোক্তি থেকে জানা গেছে বাংলাদেশি ওই জঙ্গি গ্রুপের গড়ে ওঠার অজানা কাহিনী। সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমসের এক প্রতিবেদনে, অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশি ওই জঙ্গি গ্রুপ গড়ে ওঠার কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।

আদালতে স্বীকারোক্তি দেন জঙ্গি অর্থায়নে অভিযুক্ত চার বাংলাদেশি

স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত  ৬টি বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংগঠিত হয়েছেন বাংলাদেশি 'জঙ্গি'রা। ২০১৫ সালে তাদের সঙ্গে অপর এক বাংলাদেশির যোগাযোগের ভিত্তিতেই তারা ইসলামিক স্টেট সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে সিঙ্গাপুরে এসে ৬ টি বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংগঠিত হন। তারা কাজ করতেন সিঙ্গাপুরে এক জাহাজ নির্মাণ কারখানায়। চলতি বছরের এপ্রিলে তাদের জঙ্গি অর্থায়নে মদদ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় ছয়জনকে। জঙ্গি অর্থায়নে অভিযুক্ত ওই ছয় বাংলাদেশির মধ্যে চারজন অপরাধ স্বীকার করেছেন। এই চার বাংলাদেশি হলেন-রহমান মিজানুর (৩১), মিয়া রুবেল (২৬)  নুরুল ইসলাম সওদাগর (৩০) এবং সোহেল হাওলাদার (২৯)। একই অভিযোগে অভিযুক্ত মামুন লিয়াকত আলী (২৯) এবং জামান দৌলত (৩৪) নামের অপর দুই বাংলাদেশি জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, আদালত এই দুইজনের শুনানির পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত করেছেন ৯ জুন। 

আদালতের নথিতে বলা হয়, রহমান ২০১৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশে অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক ‘জাহাঙ্গীর আলম’-এর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার কাছ থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কিত কাগজপত্র পান। আর এভাবেই তিনি স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন আইএস-এ যুক্ত হওয়ার। কিন্তু ভিসা জটিলতায় তিনি তুরস্ক এবং আলজেরিয়ায় যেতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে, রহমান ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সিঙ্গাপুরে আসেন। আসার সময় তার সঙ্গী ছিলেন জামান এবং অপর এক বাংলাদেশি নাগরিক সোহাগ ইব্রাহিম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে আইএস-এ যোগ দিতে রাজী করান।

জানুয়ারি থেকে মার্চের ২৯ তারিখ গ্রেফতার হওয়ার আগে পর্যন্ত সামবাওয়াং এলাকায় তারা অন্তত ছয়টি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকগুলোতে ইসলামিক স্টেট বাংলাদেশ (আইএসবি) গড়ে ওঠে। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে বেশ কয়েকটি বৈঠকের পর হোসেন শামীমসহ অন্যদের দলে নেওয়া হয়। রহমান ‘সশস্ত্র জিহাদ’-এর কথা উল্লেখ করে অন্যদের বলেন, তারা বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে অবিশ্বাসীদের হত্যা করবেন। তারা এজন্য একটি তালিকাও তৈরি করেন। যাতে পুলিশ সহ হিন্দু, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নাম ছিল।

বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা থেকেই তাদের অভিযান শুরুর পরিকল্পনা ছিল। এসব অভিযানে খাবার, ছুরি, অস্ত্রের জন্য অনেক অর্থ দরকার। নিজেদের বেতনের একাংশ এ কাজে ব্যয় করতে তারা সম্মত হন। আদালতের নথি অনুসারে, রহমান নজরদারি এড়াতে নিজের পরিচয় গোপন করে ভিন্ন ভিন্ন নামে বৈঠকগুলোতে যোগ দিতেন। তিনি গোয়েন্দা নজরদারি এড়ানোর বিষয়ে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি লেখাও অন্যদেরকে পড়তে দেন।

স্ট্রেইট টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই গ্রুপের প্রতিটা সদস্যেরই ছিল নির্দিষ্ট ভূমিকা। গ্রুপটির নেতৃত্বে ছিলেন রহমান আর তার সহকারি হিসেবে ছিলেন মামুন। অর্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি তদারকি করতেন মিয়া এবং সোহাগ আইনী প্রক্রিয়া নজরদারি করতেন। জাবাথ এবং ইসলাম প্রচারণার কাজ করতেন। জামান নিরাপত্তার দায়িত্বে এবং এবং সোহেল নতুন জঙ্গি সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। আদালতের নথিতে বলা হয়, আইএসবি ১ হাজার ৩৬০ ডলার সংগ্রহ করতে পেরেছিল।

মঙ্গলবার প্রসিকিউশন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য তিন সপ্তাহের সময় চান। ধারণা করা হচ্ছে তাদের আগামী ২১ জুন আবারও আদালতে হাজির করা হবে। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ওই অভিযুক্ত ছয় বাংলাদেশি এখনও নিজেদের আইনজীবী নিয়োগ দেননি।  

সূত্র: স্ট্রেইট টাইমস।

আরও পড়ুন:

টুইন টাওয়ার হামলার ‘প্রমাণ লোপাট’ করেছেন সেনা বিচারকরা

থাইল্যান্ডের মন্দিরে মন্দিরে বাঘ, অভিযানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ

দুর্নীতির অভিযোগে ফেঁসে যাচ্ছেন নেতানিয়াহুর স্ত্রী!

/এসএ/বিএ/

সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম