একইসঙ্গে ইহুদিবাদ এবং ইহুদিবিদ্বেষের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা জেরেমি করবিন। ইহুদিবাদ-ইহুদিবিদ্বেষ-ইসলামফোবিয়াসহ সব ধরনের বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ জনগণকে লড়াইয়ের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
লেবার পার্টিতে ইহুদি বিদ্বেষ থাকা-না থাকার প্রশ্নে বৃহস্পতিবার লিবার্টি পরিচালক সামি চক্রবর্তীর লেখা এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রকাশনা অনুষ্ঠানেই বক্তব্য দিচ্ছিলেন করবিন। বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি বিদ্বেষে চালিত নয়। ইহুদি, মুসলিম ও জাতিগত বিতৃষ্ণা লেবার পার্টির চালিকাশক্তি নয় বলে দাবি করেন তিনি। করবিন বলেন, ‘লেবার পার্টি যুক্তরাজ্যের সকল জাতিগোষ্ঠীর সমান অধিকারে আইন প্রবর্তন করেছে।’
তবে ইহুদি বিদ্বেষের সংস্কৃতি যে এখনও জারি আছে, তা অস্বীকার করেননি করবিন। তিনি বলেন, ‘আধুনিক ইহুদিবিদ্বেষ সবসময় সহিংসতার পথে পরিচালিত হয় না। যদিও সহিংস বাস্তবতা হরহামেশাই দেখা যায়। এ ধরনের বিদ্বেষকে স্থূল করে দেখা যাবে না। এর ব্যক্তিকরণ ঘটিয়ে একে কোনও ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যা আকারেও দেখা যাবে না। এই প্রাচীন ঘৃণা যেন দুর্ঘটনাবশতও আমাদের ফাঁদে ফেলতে না পারে সে ব্যাপারে আমাদের সবসময় সজাগ থাকতে হবে।’
আরও পড়ুন: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে থাকছেন না জনসন
ইহুদিবিদ্বেষ নিয়ে বলতে গিয়ে বর্ণবাদী ঘৃণার অন্যান্য ক্ষেত্র নিয়েও কথা বলেন করবিন। তিনি ইহুদিবিদ্বেষের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে ইহুদিবাদেরও সমালোচনা করেন। উল্লেখ্য, ইহুদিবাদ (জায়নিজম) শব্দটি ইহুদি ধর্মমত নয়, ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দর্শনকে নির্দেশ করে। আর ইহুদিদের ধর্মমত বোঝোতে ‘জুদাইজম’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। বক্তব্যে তিনি পরোক্ষভাবে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের জায়নবাদী ভূমিকার নিন্দা জানিয়েছেন।
তবে রাষ্ট্র আর সেখানকার মানুষকে এক করে দেখতে রাজি নন করবিন। তিনি তাই বলেন,‘আমাদের ইহুদি বন্ধুরা যেমন করে ইসরায়েল বা নেতানইয়াহুর কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী নন, ঠিক তেমনি করে মুসলিম বন্ধুরা ইসলামিক স্টেট বা এ ধরনের সংগঠনের সন্ত্রাসী তৎপরতার দায় নিতে বাধ্য নন।’ সব ধরনের বর্ণবাদের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এই সমাজে বর্ণবাদের কোনও স্থান নেই। সূত্র: আল জাজিরা, ইন্ডিপেনডেন্ট, হাফিংটন পোস্ট
/ইউআর/বিএ/







