ইয়েমেনের তাইজে ১৫ মাস ধরে আটকে আছেন ২ লক্ষ মানুষ

বিদেশ ডেস্ক
০৩ জুলাই ২০১৬, ১২:০৪আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৬, ১২:১০

ইয়েমেনের দ্বিতীয় বৃহত্তর নগর তাইজে গত ১৫ মাস ধরে আটকে আছেন ২ লক্ষ মানুষ। হাউথি বিদ্রোহী যোদ্ধারা প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ প্রবেশ করতে দেয় তাইজ নগরীতে।

ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ দখলের ক্ষেত্রে তাইজ নগরী একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সেখানে দুই লক্ষ মানুষ খাদ্য, পানীয় জল ও চিকিৎসা সেবার অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ইয়েমেনের তাইজে ১৫ মাস ধরে আটকে আছেন ২ লক্ষ মানুষ

তাইজ নগরের ৪০টি হাসপাতালের মধ্যে ৩৭টিই প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।কেননা, অক্সিজেন ও অ্যানেসথেসিয়ার অভাবে গুরুতর রোগীকেও অস্ত্রোপচার করতে পারছিলেন না চিকিৎসকরা।

হাউথি যোদ্ধারা অনেকদিন দাতা সংস্থাগুলোকে ত্রাণ নিয়ে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। তাইজের এনজিও সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আল-জুনায়েদ বলেন, ‘এনজিওগুলো সাহায্য করার চেষ্টা করছে, কিন্তু সংকট সমাধানের ক্ষমতা তো তাদের নেই। তারা মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করে জনগণের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে পারে মাত্র।’    

ইয়েমেনের তাইজে ১৫ মাস ধরে আটকে আছেন ২ লক্ষ মানুষ

দাতা সংস্থাগুলো ত্রাণ বিতরণের জন্য নগরীতে প্রবেশ করলে নগরবাসীকে ৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় জ্বলন্ত সূর্যের নিচে দীর্ঘ সাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

তাইজ নগরের বাসিন্দা নাজিব হাসান আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ভোগান্তির মাত্রা সম্পর্কে কারো কোন ধারণাই নেই। কিন্তু আমরা কী করতে পারি? এই পরিস্থিতি থেকে পালিয়ে কোথায় যেতে পারি আমরা।’

আরও পড়ুন: 'জর্ডানে ৩০ হাজার শরণার্থী শিশুর দিন কাটছে অনাহারে'

তাইজের আরেক বাসিন্দা জাহরা মাহদি বলেন, ‘তাইজের বাসিন্দারা অবিরাম যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভীতির মধ্যে বসবাস করছে। ক্রমাগত বোমা বর্ষণের মধ্যে তাদের বাড়ি বসে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।’

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের মার্চ মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে বিমান অভিযান শুরু হয়।তখন থেকে এই যুদ্ধে নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ হাজার মানুষ। এ ছাড়াও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ। বর্তমানে ইয়েমেনের অর্ধেক জনগণ খাদ্য, পানীয় জলসহ জীবন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত মর্মান্তিক জীবন কাটাচ্ছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

/ইউআর/        

সম্পর্কিত
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু কি এখন দুই পথের পথিক?
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বশেষ খবর
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের