করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে আগেভাগে মার্কিন অর্থনীতি সচল করে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি। হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্ক ফোর্সের অন্যতম এই সদস্য বলেছেন, আগেভাগে অর্থনীতি সচল হলে মার্কিন জনগণ অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ ও মৃত্যুর মুখোমুখি হবে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সিনেটের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশন বিষয়ক কমিটির কাছে এই সতর্কতা পৌঁছে দেওয়া হবে।
ড. অ্যান্থনি ফাউচি হুঁশিয়ারি দেওয়ার দিনে প্রায় একই ধরনের সতর্কতা উচ্চারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির জরুরি বিষয়ক প্রধান মাইকেল রিয়ান জানিয়েছেন, যেসব দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের হার কমে গেছে সেসব দেশ ধারাবাহিকভাবে লকডাউন শিথিলের উদ্যোগ নেওয়া আশাব্যঞ্জক। তবে এক্ষেত্রে চরম নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের সংক্রমণ এড়াতে নতুন আক্রান্ত শনাক্ত, তাদের চিহ্নিত করা এবং তার সংস্পর্শে আসা সবাইকে বিচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
করোনাভাইরাস সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন ড. অ্যান্থনি ফাউচি। হোয়াইট হাউসের করোনা টাস্ক ফোর্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথম বারের মতো সিনেট কমিটির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি। ভার্চুয়াল এই শুনানিতে তিনি আইনপ্রণেতাদের সামনে বক্তব্য রাখবেন।
ওই শুনানির আগে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে ড. ফাউচি বলেন, ‘আমেরিকা আবারও খুলে দিতে আমরা যদি চেকপয়েন্টগুলো এড়িয়ে যাই তাহলে দেশ জুড়ে একাধিক প্রাদুর্ভাবের বিপদের ঝুঁকিতে পড়বো। এতে কেবল অপ্রয়োজনীয় দুর্ভোগ ও মৃত্যু হবে তাই নয় বরং আমাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকাঙ্ক্ষাও বিলম্বিত হবে।’
উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের মহামারিতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুসারে মঙ্গলবার দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সবকটি অঙ্গরাজ্যেই করোনাভাইরাসে মানুষের মৃত্যু হলেও সংক্রমণের গতি কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ অঙ্গরাজ্যই আংশিকভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।








