সেনা অভ্যুত্থানে আটক হওয়া মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি-র স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো আছে। তার দল ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক লিগ (এনএলডি)-এর একজন সিনিয়র নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এনএলডি-র কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক কমিটির একজন সদস্য কিয়াই টোয়ে। তিনি জানান, সামরিক অভ্যুত্থানে আটক হওয়া তার নেত্রী চলাফেরা করতে পারছেন না। তবে তিনি জানতে পেরেছেন সু চি-র স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনলডি-র একজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, রাজধানী নেপিদোতে রাষ্ট্রীয় কাউন্সেলরের সরকারি বাসভবনে তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তারা।
এদিকে অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো সু চি-কে তার প্রতিবেশীরা দেখতে পেয়েছেন বলেও জানান এনএলডি-র এই নেতা। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সীমানা প্রাচীরের মধ্যে সু চি-কে দেখা গেছে।
অন্যদিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে কিয়াই টোয়ে জানিয়েছেন, সু চি এবং মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টকে যেখানে রাখা হয়েছে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের নেই। তবে তিনি কিভাবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হলেন সে ব্যাপারে কোনও তথ্য দেননি কিয়াই টোয়ে।
সোমবার ভোরে অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের কোথায় রাখা হয়েছে তা নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। এরই মধ্যে সোমবার দেশটির ২৪ জন মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে সামরিক সরকার এবং সেনা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ১১ জন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়।
সেনা সরকার আমলে আটক থাকা অং সান সু চির জন্য নতুন কিছু নয়। সাবেক জান্তা সরকারের আমলে ইয়াঙ্গুনের একটি লেক পাড়ের বাড়িতে ১৫ বছর গৃহবন্দি থেকেছেন তিনি। সেখান থেকেই ১৯৯০ এর দশকে তিনি হয়ে ওঠেন গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা, জেতেন নোবেল শান্তি পুরস্কার। সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগে তাকে আটকের ঘটনা অনেককেই সেই স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়।
ইয়াঙ্গুনভিত্তিক বিশ্লেষক খিন জাও উইন বলেছেন, এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে সু চি নিরাপদে আছেন। সব খবরেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তিনি বিপদের মধ্যে নেই। তবে সামরিক সরকার তাকে আড়ালে রাখার কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন অস্ট্রেলিয়ার লোয়ি ইনস্টিটিউটের হার্ভে লেমাহিয়েও। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে খুব সম্ভবত পরিকল্পনা হলো তাকে জনগণের দৃষ্টি থেকে আড়ালে রাখা... তাকে নেপিদোতে রাখা হয়েছে... যেসব জায়গায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ হতে পারে তার থেকে অনেক দূরে। আমার মনে হয় এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে।’ সু চিকে ভালোভাবে রাখাতে সামরিক বাহিনীর স্বার্থ আছে বলেও মনে করেন এই বিশ্লেষক। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।









