নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নির্বাচন ব্যবস্থা ও দুর্নীতি প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে ব্রাসেলসভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) মনে করে, এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সহজ হবে না। তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা উঠে এসেছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে দেশের বিভিন্ন খাত সংস্কারের এক বিরাট সুযোগ রয়েছে। তবে পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন ও তার কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। আইসিজি তাদের প্রতিবেদনে এসব চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে।
আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর, ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণ করে নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। তারা দ্রুত এক সাহসী সংস্কার কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। সেই পরিকল্পনায় জনগণের ব্যাপক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা গেলেও বাস্তবে অনেক চড়াই উৎরাই পেরোতে হচ্ছে সরকারকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসমর্থন বজায় রাখা ও উচ্চ প্রত্যাশা সামলানো অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইসিজি পরামর্শ দিয়েছে, সরকারের উচিত প্রথমেই জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কিছু দৃশ্যমান সাফল্য অর্জনে মনোযোগী হওয়া। তারা মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ নতুন এক যুগে প্রবেশ করবে।
শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনকালে জনসমর্থনে ক্রমান্বয়ে ভাটা পড়তে থাকে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয় তার সরকার। তার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের তাই আপাতত কাজ হবে জনগণের আস্থা ধরে রাখা ও সংস্কার কার্যক্রম ঠিকমতো চালিয়ে যাওয়া।
বিশ্লেষণ বলছে, বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনে একটি বিরল সুযোগ এনেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে রাজনৈতিক বিভক্তি দূরীকরণ, দলগুলোর ঐকমত্য অর্জন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল কাজ।







