ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পারিবারিক সম্পদ হস্তান্তরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিগত কয়েক দশকের আবাসন খাতের চাঙ্গা ভাব ও শেয়ারবাজারের প্রবৃদ্ধির বদৌলতে দেশটির গৃহস্থালি সম্পদের অর্ধেকেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছিল সবচেয়ে ধনী প্রজন্ম বেবি বুমাররা।
ধারণা করা হচ্ছিলো, আগামী দুই দশকে ৬৮ থেকে ৮৪ ট্রিলিয়ন ডলারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ সন্তানদের হাতে যাবে। তবে প্রবীণ বয়সের অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবা ও নার্সিং হোমের খরচে এখন নিঃস্ব হচ্ছেন তারা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শেষ বয়সে চিকিৎসাসেবার খরচ মেটাতে গিয়ে অধিকাংশ পরিবারের জমানো সঞ্চয় ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাচ্ছে। সন্তানদের হাতে সম্পদ তুলে দেওয়ার বদলে উল্টো বাবা-মায়ের সহায়তায় নিজেদের সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে অনেক সন্তানকে।
২০২৫ সালে কেয়ারস্কাউটের এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি প্রাক-সহায়ক বাসস্থানের গড় বার্ষিক খরচ ৭৪ হাজার ৪০০ ডলার এবং নার্সিং হোমে যা প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৭৫ ডলার। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত কোনও রোগীর ক্ষেত্রে সাত বছরের মোট বিল প্রায় ১০ লাখ ডলারে পৌঁছায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ আয়ু, পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং কেয়ারগিভার সংকটে সেবা খাতের আকাশছোঁয়া খরচ এর অন্যতম কারণ। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিমা মেডিকেয়ার-এ প্রবীণদের এই দীর্ঘমেয়াদি সেবার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে না। ফলে জীবন সায়াহ্নে এসে অসহায় হয়ে সরকারি অনুদান মেডিকেইড-এর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে সিংহভাগ পরিবারকে।
মেডিকেইড সেবা পাওয়ার শর্ত হিসেবে ব্যাংকে ২ হাজার ডলার বা তার কম থাকতে হয়, যার ফলে বাকি সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এমনকি মৃত্যুর পর সরকার ওই ব্যক্তির ঘরবাড়ি বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বকেয়া খরচ উসুলের চেষ্টা চালায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবীণ প্রজন্ম ও তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ চরম আর্থিক সংকটে রূপ নিচ্ছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

‘সব প্রস্তুতি শেষ’, ইরানে নজিরবিহীন হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
ইরানে হামলায় বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েন করলো যুক্তরাষ্ট্র







