তেহরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করবে না ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মোহাম্মদ বাকার জোলকাদর এ ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (৮ আগস্ট) এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলায় ইরানের নীতি হলো—ইরানি জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, এমন কোনো ইস্যুতে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
ইরানের বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সংঘাত মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা এই সংস্থার প্রধান জোলকাদর বলেন, ‘যুদ্ধ হোক কিংবা আলোচনা—এসএনএসসি কখনও পিছু হটবে না।’
মার্চের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। বিশ্বের মোট তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং সার সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশ এই জলপথের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।
ইরানে সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে দেশটির গণমাধ্যমের উদ্দেশে দেওয়া ওই বার্তায় জোলকাদর বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের কাছে ৫টি প্রধান শর্ত রয়েছে।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. ইরানি জনগণের পবিত্র বিশ্বাসকে হুমকি বা অপমান করা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত থাকতে হবে।
২. ইরান ও দেশটির আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
৩. ইরানের ওপর নৌ অবরোধ ও সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দিতে হবে।
৫. আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এসএনএসসির প্রধান বলেন, এসব শর্ত মূলত লাখো ইরানির দাবি। ২৮ ফেব্রুয়ারি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে নিজেদের সরকার ও দেশের সমর্থনে এসব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন।
ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে ওমানের উপকূলের কাছাকাছি নতুন নৌপথ চালুর চেষ্টা করে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘন করেছে।
সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
ইরান চুক্তির নিজ অংশ বাস্তবায়ন করে বিধিনিষেধ শিথিল করেছিল এবং দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক চলাচলের ৬০ শতাংশে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন শুধু চুক্তির নিজ অংশ বাস্তবায়নেই ব্যর্থ হয়নি, বরং দেশটির ওপর আবারও বিমান হামলা শুরু করে।
এর জবাবে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করে। তবে এরপর কৌশলগত এই জলপথ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে আলাদা আলোচনা শুরু করেছে ইরান। দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসা ওমানের তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয়ের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
আলোচনায় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি আইনি কাঠামো ও ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে একটি অস্থায়ী নৌপথ নির্ধারণের বিষয়ও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে স্থায়ী ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
সূত্র: প্রেস টিভি









