মুগাবের পদত্যাগের আগেই জিম্বাবুয়ের রাস্তায় জনতার উল্লাস

বিদেশ ডেস্ক
১৮ নভেম্বর ২০১৭, ২১:৩৪আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ২১:৩৫

জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারের রাস্তায় প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া  মিছিল এখন উৎসবে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মনে করছেন, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা আকঁড়ে থাকা মুগাবেকে এবার সরে যেতে হবে। বিভিন্ন পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। 

জিম্বাবুয়ের রাস্তায় জনতার উল্লাস

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের স্থানীয় সংবাদদাতার বরাত দিয়ে জানায়,  আন্দোলনকারীরা সেনা সদস্যদের জড়িয়ে ধরে উল্লাস করছেন। এটা একটা ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মুগাবের আর ক্ষমতায় ফিরে আসার সুযোগ নেই। এমনকি দেশটির সাবেক সেনা সদস্যরাও মনে করছে মুগাবের পদত্যাগ করা উচিত। যদিও গত বছরও তারা মুগাবের পক্ষে ছিলেন।

মিছিলে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি জানান, জিম্বাবুয়ের নাগরিক হিসেবে এমন শান্তিপূর্ণ হস্তক্ষেপের জন্য সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখন মুগাবেকে অবশ্যই ক্ষমতা ছাড়তে হবে। আমরা তার আবার ফিরে আসা দেখতে চাই না। আমাদের কাছে এটা একনায়কতন্ত্র শাসনের অবসান। এখন আমরা আমাদের জিম্বাবুয়ে ফিরে পেতে যাচ্ছি।

মুগাবের পদত্যাগের দাবিতে মিছিলে তার নিজের ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ দল ও সেনাবাহিনীর সমর্থন রয়েছে। লন্ডনে জানু-পিএফ দলের প্রতিনিধি নিক মাংগওয়ানা বিসিসি রেডিও ফোরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘মুগাবের বাড়ির সামনে তার দলের আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিয়েছে। তারা পদত্যাগপত্র ছাড়া সেখান থেকে যাবে না। এটা ২০ মিনিটেই সম্ভব ছিল। লোকজন আসবে, তিনি পদত্যাগ করবেন আর মানুষ চলে যাবে। ঘটনা শেষ।’

এর আগে গত বুধবার সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে প্রেসিডেন্ট মুগাবে গৃহবন্দি ছিলেন। এরপর শুক্রবার তাকে প্রথম জনসম্মুখে দেখা যায়। তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেন্সর হিসেবে সমাবর্তনে বক্তব্য দেন। এ সময় তার স্ত্রী গ্রেস উপস্থিত ছিলেন না। ধারণা করা হচ্ছিল তিনি দেশ থেকে পালিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার জানা গেছে, তিনি মুগাবের সঙ্গে তার বাড়িতেই আছেন।  

দেশটিতে প্রেসিডেন্ট মুগাবের উত্তরাধিকারী নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে সেনাবাহিনী এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্ত্রী গ্রেসের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথ পরিষ্কার করতে মুগাবে গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট এমারসন মানানগাগওয়াকে বহিষ্কার করেন।

১৯৮০ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে মুগাবে দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

/আরএ/এএ/
সম্পর্কিত
হাজার বছরের ‘পবিত্র’ গাছ মৃত্যুযাত্রায়, মর্মাহত পুরো গ্রাম
তলিয়ে যেতে পারে খুলনা ও কলকাতাসহ বিশ্বের ১৫ শহর
বিশ্বের সবচেয়ে ‘অপছন্দনীয়’ দেশ কোনগুলো
সর্বশেষ খবর
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম