আফ্রিকার শিশুদের দেওয়া হবে ম্যালেরিয়ার টিকা

বিদেশ ডেস্ক
০৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:২২আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:২২

আফ্রিকা মহাদেশের শিশুদের প্রাণঘাতী ম্যালেরিয়া রোগ থেকে রক্ষার জন্য টিকা দেওয়া হবে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর এই টিকা উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটিকে চিকিৎসা শাস্ত্রের বড় অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, আরটিএস,এস নামের এই টিকাটি কার্যকর বলে প্রমাণিত হয় ছয় বছর আগে। ঘানা,কেনিয়া ও মালাউয়িতে পাইলট টিকাদান কর্মসূচির সফলতার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, টিকাটি সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলে প্রয়োগ করা উচিত।

ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস বলছেন, এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শিশুদের জন্য ম্যালেরিয়া টিকা বিজ্ঞান, শিশু স্বাস্থ্য ও ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত ওষুধের পাশাপাশি এই টিকা প্রয়োগের ফলে প্রতি বছর লাখো শিশুর জীবন বাঁচানো যাবে।

বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, প্রতি বছর বিশ্বে ২৩০ মিলিয়ন মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং ৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ আফ্রিকায়। ২০১৯ সালে এই অঞ্চলে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

আফ্রিকায় শতাধিক ম্যালেরিয়া পরজীবী রয়েছে। আরটিএস,এস টিকায় আফ্রিকায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও সাধারণভাবে বিদ্যমান প্লাসমোডিয়াম ফ্যালসিপ্যারামকে টার্গেট করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে টিকাটি ১০টি কেসের মধ্যে ৪টি ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে বলে উঠেছে। এছাড়া গুরুতর আক্রান্ত ১০টি কেসের ৩টির ক্ষেত্রেও সফলতা এসেছে এবং শিশুদের মধ্যে রক্ত সঞ্চালনের হার এক-তৃতীয়াংশ কমেছে।

ডব্লিউএইচও’র বৈশ্বিক ম্যালেরিয়া কর্মসূচির পরিচালক ড. পেড্রো আলোনসো বলেন, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে এটি বড়ধরনের যুগান্তকারী ঘটনা, জনস্বাস্থ্যগত দিক থেকে এটি একটি ঐতিহাসিক কীর্তি। আমরা প্রায় শতাধিক বছর ধরে ম্যালেরিয়ার টিকার অনুসন্ধানে ছিলাম। এটি জীবন বাঁচাবে এবং আফ্রিকার শিশুদের আক্রান্ত হওয়া ঠেকাবে।

ফার্মা জায়ান্ট জিএসকে উদ্ভাবিত টিকাটি ম্যালেরিয়ার প্রচলিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করবে না। এগুলোর পাশাপাশিই টিকা দেওয়া হবে। লক্ষ্য হলো ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনা। ভিন্ন ধরনের ম্যালেরিয়া থাকায় আফ্রিকা ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে এটি প্রয়োগ করা হবে না।

/এএ/
সম্পর্কিত
হাজার বছরের ‘পবিত্র’ গাছ মৃত্যুযাত্রায়, মর্মাহত পুরো গ্রাম
তলিয়ে যেতে পারে খুলনা ও কলকাতাসহ বিশ্বের ১৫ শহর
বিশ্বের সবচেয়ে ‘অপছন্দনীয়’ দেশ কোনগুলো
সর্বশেষ খবর
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
টেইটের জায়গায় তালহা জুবায়ের, প্রশংসায় ভাসালেন হান্নান সরকার 
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের