সুদানে সংঘাতরত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী রবিবার মানবিক করিডোর স্থাপনে সম্মত হয়েছে। এর ফলে মানবিকতার খাতিরে কয়েক ঘণ্টা বিরতি পালন করা হবে। এই সময়ে সংঘাতের দ্বিতীয় দিনে আহতদের সরিয়ে নেওয়া হয়। জাতিসংঘের তিন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিরতি চলাকালেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষমতার লড়াইয়ে দ্বিতীয় দিনে অর্ধ শতাধিক বেসামরিক নিহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নিন্দা শুরু হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তিন কর্মী নিহত হওয়ার পর জাতিসংঘ দেশটিতে কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন বলেছেন, রাজধানী খার্তুমে বিকট বিস্ফোরণ ও তীব্র গোলাগুলি চলছে। রাজপথে ট্যাংক নেমেছে। আকাশে সামরিক উড়োজাহাজ চক্কর দিচ্ছে।
কয়েক সপ্তাহের ক্ষমতার লড়াইয়ের পর শনিবার সশস্ত্র সংঘাতে জড়ায় দেশটির সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)। সংঘাত শুরুর জন্য একে অপরকে দায়ী করে আসছে।
সুদানের চিকিৎসকদের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি জানিয়েছে, তারা ৫৬ জন বেসামরিকের মৃত্যুর ঘটনা নথিবদ্ধ করেছেন। নিরাপত্তাবাহিনীর কয়েক শ’ নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা প্রায় ৬০০।
রবিবার দুপুরের শেষ দিকে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জাতিসংঘের প্রস্তাবে একটি মানবিক করিডোর স্থাপনে তারা রাজি হয়েছে। গ্রিনিচ মান সময় ১৪০০ টা থেকে তিন ঘণ্টার এই মানবিক বিরতি শুরু হয়।
পৃথক বিবৃতিতে আরএসএফ জানিয়েছে তারাও একই পদক্ষেপে রাজি হয়েছে। তবে তারা বলেছিল, এই মানবিক অস্ত্রবিরতি চার ঘণ্টা স্থায়ী হবে।
প্রস্তাবিত বিরতির সময়ের মধ্যেই খার্তুমে বিমানবন্দরের কাছে ভারী গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে।
উভয় পক্ষ দাবি করছে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। আরএসএফ বলেছে, তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবন, খার্তুম বিমানবন্দর ও অপর কৌশলগত অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সেনবাহিনী দাবি করেছে, এসব স্থাপনার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তাদের হাতে।
চিকিৎসাকর্মীরা আহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের যাতায়াতের জন্য নিরাপদ করিডোর ও অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সড়ক এখন অনেক বিপজ্জনক।
সূত্র: এনডিটিভি








