ক্যামেরুনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট পল বিয়া ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আগামী ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অষ্টম মেয়াদের জন্য প্রার্থী হচ্ছেন। ৯২ বছর বয়সী বিয়া বিশ্বের প্রবীণতম বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
রবিবার এক্স-এ পল বিয়া লিখেছেন, আমি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছি। নিশ্চিত থাকুন, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমি আপনাদের সেবা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসা বিয়া চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করছেন। এবার নির্বাচিত হলে তিনি প্রায় ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারেন। গত বছর ৪২ দিন জনসমক্ষে না থাকায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। যদিও রবিবারের ঘোষণার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়নি।
২০১৮ সালেও তিনি প্রথমবারের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত বছর থেকে ক্ষমতাসীন ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (সিপিডিএম) ও সমর্থকরা তাকে আরও এক মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল।
তবে বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের কিছু গোষ্ঠী দাবি করছে, বিয়ার দীর্ঘ শাসন অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক উন্নয়নকে ব্যাহত করেছে। ক্ষমতাসীন জোটের দুই সাবেক মিত্র আলাদাভাবে নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী এনকোঙ্গো ফেলিক্স আগবর মার্কিন বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, বিয়ার পুনঃপ্রার্থিতা ক্যামেরুনের রাজনৈতিক স্থবিরতার ইঙ্গিত। ৪০ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকার পর দেশের প্রয়োজন নতুন নেতৃত্ব, নয়তো পুরনো চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।
বিয়ার স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক আবারও শুরু হতে পারে। তিনি প্রায়ই জনসভা এড়িয়ে যান এবং দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট অফিসের প্রধান কর্মকর্তার ওপর ছেড়ে দেন। গত অক্টোবরে ৪২ দিন অনুপস্থিতির পর ফিরে স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ করে সরকার।
২০০৮ সালে বিয়া মেয়াদসীমা বাতিল করেন। যা তাকে অনির্দিষ্টকাল ক্ষমতায় থাকার পথ করে দেয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ৭১.২৮ শতাংশ ভোট পেলেও বিরোধীরা ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলে।
ফ্রান্স ও ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার পর থেকে ক্যামেরুনে মাত্র দুজন প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় ছিলেন। বিয়ার অসুস্থতা বা মৃত্যু হলে উত্তরাধিকার নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
বিয়ার পাশাপাশি বিরোধী নেতা মরিস কামতো, জোশুয়া ওসিহ, আকেরে মুনা ও কাব্রাল লিবিও প্রার্থী হয়েছেন। তারা বিয়ার দীর্ঘ শাসনের সমালোচনা করে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের দাবি জানিয়েছেন।
কোকো ও তেলসমৃদ্ধ এই মধ্য আফ্রিকান দেশটি বিয়ার শাসনামলে অর্থনৈতিক সংকট, ইংরেজিভাষী অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত ও উত্তরে বোকো হারামের হামলার মুখোমুখি হয়েছে।







