তীব্র যানজটের শহর কায়রোর চাপ কমাতে মরুভূমির বুকে এক নতুন প্রশাসনিক রাজধানী গড়ে তুলেছে মিসর সরকার। এবার যাতায়াত সহজ করতে সেখানে চালু হলো আফ্রিকার প্রথম চালকবিহীন মনোরেল। পুরো প্রকল্প শেষ হলে এটি হবে বিশ্বের দীর্ঘতম মোনোরেল নেটওয়ার্ক।
গত মে মাসে ৫৬.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট নাইল রুটটি চালুর মাধ্যমে এই বৈদ্যুতিক ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে গিজার সঙ্গে সংযোগকারী আরও ৪৩.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়েস্ট নাইল লাইনের নির্মাণকাজ চলছে। দুটি রুট মিলে মোট ১০০.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নেটওয়ার্কটি চীনের চংকিংয়ের (৯৮.৫ কিমি) বিশ্বরেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। ১ একমুখী পূর্ণ লাইনের টিকিট ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০ মিসরীয় পাউন্ড (১.৫১ ডলার)। প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ যাত্রী এই মনোরেলে যাতায়াত করতে পারবেন।
কায়রোর তীব্র যানজট সামাল দিতে ২০১৯ সালে ফরাসি কোম্পানি আলস্টম-এর সঙ্গে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের চুক্তি করা হয়। ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন এই স্বয়ংক্রিয় ট্রেনগুলো প্রতি ঘণ্টায় এক দিকে ৪৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। মানুষের কোনও হস্তক্ষেপ ছাড়াই রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে ট্রেনের চলাচল, দরজা খোলা-বন্ধ ও জরুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হয়। এছাড়া এটি ব্রেকিং এনার্জির ৯৯ শতাংম পুনরুদ্ধার করতে পারে, যা পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী।
অবশ্য অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে অবকাঠামো খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের কারণে মিসরের বৈদেশিক ঋণ গত বছর ১৬৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। তবে আলস্টম মিসরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামি সালাহ এলদিন বলেন, এই মনোরেল মিসরের ‘ভিশন ২০৩০’ অর্জনে একটি বড় মাইলফলক।
এই প্রকল্পে ৯৮ শতাংশ কর্মীই স্থানীয় এবং নির্মাণকাজ শেষে আগামী ৩০ বছর এই নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়াম।
সূত্র: সিএনএন








