করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার উদ্বেগ দূর করে কয়েক কোটি ভোটার মঙ্গলবার ভোট দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেনের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হবে আসন্ন দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি মোকাবিলা থেকে শুরু করে বর্ণবাদ কোন পথে এগিয়ে যাবে।
প্রথম ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয় ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে অনেকগুলো অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে যাবে। ব্যাটলগ্রাউন্ড ওহাইয়ো ও নর্থ ক্যারোলাইনাতে সাড়ে সাতটার মধ্যে এবং পরবর্তী পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ হবে বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র। সবশেষে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে আলাস্কাতে। সেখানে স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।
বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস-এর আগাম ফলাফলে ট্রাম্প ৫৫ ও বাইডেন ৮৫টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট জিতেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোটের দিনের আগেই ১০ কোটি ২ লাখ মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। যা ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মোট ভোটারের ৭৩ শতাংশ। ইলেকশন প্রজেক্টের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার অধ্যাপক মাইকেল পি. ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি হতে পারে ৬৭ শতাংশ। এমনটি হলে এক শতাব্দীর বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড হবে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ভোটের পরিবেশ ছিল উৎসাহপূর্ণ ও ইতিবাচক। বিশেষ করে দীর্ঘ বিভাজিত নির্বাচনি প্রচারণার পর পরিস্থিতি ছিল অনেক শান্ত।
বেশ কিছু জনমত জরিপে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এগিয়ে থেকে ভোটের দিনে প্রবেশ করেছেন জো বাইডেন। ট্রাম্প নির্বাচনি প্রচারের শেষ দিকে বাইডেনের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে এনেছেন কিন্তু এখনও ২৭০ ইলেক্টোরাল কলেজ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হওয়ারও সুযোগ রয়েছে। বাইডেন যদি জয়ী হন তাহলে ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতেও অন্তত তিনটি সিনেট আসনে জেতা আবশ্যক। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের থাবা মহামারি এখনও বিদ্যমান এবং ট্রাম্পের তা মোকাবিলা ছিল ২০২০ সালের সবচেয়ে আলোচনার বিষয়। ট্রাম্প দিন শুরু করেছিলেন আশাবাদের কথা শুনিয়ে। তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচনে ২০১৬ সালের চেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জয়ী হওয়া সহজ। আমার জন্য পরাজিত হওয়া কখনও সহজ নয়।
মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ হাতে রেখেছেন ট্রাম্প। এমনকি যদি রাতে কারও বিজয় নিশ্চিত নাও হয় তিনি ভাষণ দিতে পারেন। বাইডেন ডেলাওয়ারে নিজ শহরে রাতে একটি ভাষণের সূচি রেখেছিলেন। কিন্তু পরে তা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, আজকের রাত নিয়ে কিছু বলার যদি থাকে তাহলে আমি কথা বলব। যদি কিছু না থাকে তাহলে পরের দিন ভোট গণনা পর্যন্ত অপেক্ষা করব।
সকাল থেকে বিভিন্নকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল। করোনায় ভোট ব্যবস্থায় পরিবর্তন হওয়ায় দীর্ঘ লাইনের আশঙ্কা উপক্ষো করে ভোটাররা হাজির হন। ধারণা করা হচ্ছে, চার আগের ১৩৯ মিলিয়ন ভোটার উপস্থিতির রেকর্ড সহজেই ছাড়িয়ে গেছে।
ভোটের দিনে বড় ধরনের কোনও অঘটন ঘটেনি। কয়েকটি স্থানে ভোটকেন্দ্র দেরিতে খুলেছে, আইওয়া ও মিশিগানে উড়োকলে ভুয়া তথ্য দেওয়া হয়েছে, ওহাইয়ো, পেনসিলভানিয়া, জর্জিয়া ও টেক্সাসের মতো ব্যাটলগ্রাউন্ড অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি কাউন্টিতে মেশিন ও সফটওয়্যারে জটিলতা দেখা দেয়।
সাইবার সিকিউরিটি সংস্থা ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত কোনও সন্দেহজনক কার্যক্রমের ইঙ্গিত ছিল না।
টানটান উত্তেজনার নির্বাচনি প্রচারের ফলে উভয়দলের ভোটাররা ফলাফলের জন্য উন্মুখ থাকলেও ভোটের রাতে তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েকদিনও অপেক্ষা করা লাগতে পারে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরও লাখ লাখ মেইল-ইন ভোট বা ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট ভোট গণনায় বিলম্ব ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দোদুল্যমান বা ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্য বলে পরিচিত উইসকিনসন ও পেনসিলভানিয়ায় এই ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেশি।
পেনসিলভানিয়ার ভোটের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে দেরি হতে পারে বলে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন গভর্নর টম উলফ। নর্থ ক্যারোলাইনাতেও ভোটের ফল প্রকাশের সময় ৪৫ মিনিট পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে ফল প্রকাশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন সব কেন্দ্র বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ফল ঘোষণা করা হবে না বলে জানিয়েছে বিবিসি।
তবে গুরুত্বপূর্ণ ও দোদুল্যমান কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোটের গতির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে মঙ্গলবার রাতে। এতে কিছুটা হলেও আভাস পাওয়া যাবে হোয়াইট হাউজের দৌড়ে কে এগিয়ে রয়েছেন, ট্রাম্প না বাইডেন।
ট্রাম্প কিংবা বাইডেন, নির্বাচনে যিনি হবেন তাকে শতাব্দীর ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করতে হবে। যে মহামারিতে স্কুল ও বাণিজ্য বন্ধ এবং আসন্ন শীতে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনবিসি নিউজের আগাম বুথ ফেরত জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৭ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা মনে করেন ট্রাম্পের চেয়ে বাইডেন ভালোভাবে করোনা মহামারি মোকাবিলা করতে পারবেন। প্রায় অর্ধেক অংশগ্রহণকারী মনে করেন দেশের অর্থনীতি ভালোভাবে আগাচ্ছে এবং ৩২ শতাংশ চান দৃঢ় নেতা।








