X
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪
৪ আষাঢ় ১৪৩১

ছেলের দোষী সাব্যস্ত হওয়া বাইডেনের নির্বাচনে কেমন প্রভাব ফেলবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ জুন ২০২৪, ২২:৫৮আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ২২:৫৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন অস্ত্র ক্রয় মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আগ্নেয়াস্ত্র কেনার সময় মাদকাসক্তি নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া তার বাবা প্রেসিডেন্ট বাইডেনের জন্য বড় একটি ব্যক্তিগত আঘাত হতে পারে। পিতৃতান্ত্রিক বাইডেন পরিবার একাধিক ট্র্যাজেডি ও ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছে। কিন্তু এখন তার জীবিত ছেলে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত এবং কারাদণ্ডের মুখে রয়েছেন। এই রায় নভেম্বরে নির্বাচনে ভোটারদের প্রার্থী বাছাইয়ে তেমন প্রভাব ফেলবে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যালটে বাইডেনের নাম থাকবে, তার ছেলে হান্টারের নয়। ছেলের অপরাধের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কোনও যোগসূত্রের প্রমাণ নেই। জনমত জরিপে বড় কোনও আভাস পাওয়া যায়নি যাতে মনে হতে পারে জনগণ এই বিচার খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

বিচারের শুরুতেই বাইডেন একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন দ্বৈত বাধ্যবাধকতার মুখে রয়েছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট লিখেছিলেন, "আমি প্রেসিডেন্ট, কিন্তু আমি একজন বাবাও।" তিনি লিখেছিলেন, ছেলের প্রতি তার সমর্থন রয়েছে এবং ছেলের জন্য তিনি গর্বিত। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না।

বাইডেন হয়ত এই বিচার নিয়ে কথা বলতে চাননি। কিন্তু তার ছেলের আদালত কক্ষের নাটক কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে। যদিও তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ও পুনর্নির্বাচিত হওয়ার নির্বাচনি প্রচারণায় রয়েছেন। হান্টারের সাজা এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। এই মাসের শেষের দিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কের আগে হয়ত এটি বাইডেনের মনোযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

গত সপ্তাহে ফ্রান্সে ডি-ডে স্মরণ অনুষ্ঠানে বাইডেন বলেছিলেন, ছেলেকে ক্ষমা করতে নিজের কর্তৃত্বকে কাজে লাগানোর কথা ভাবছেন না তিনি। তিনি আরও বলেছিলেন, জুরিদের রায় তিনি মেনে নেবেন। যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও এবারের নির্বাচনে তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানবিরোধী। ট্রাম্প নিজের বিরুদ্ধে রায়কে দুর্নীতিগ্রস্ত ও জালিয়াতির বলে দাবি করেছেন।

ট্রাম্পের বিচার একটি দলীয় বিবাদে পরিণত হয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা ট্রাম্পের সমর্থনে বিচার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু হান্টারের রায় ভিন্ন অনুভূতি জন্ম দিচ্ছে। এতে বাইডেনের পরিবারের অন্ধকার সময়ের সমাপ্তির শুরু। ওই সময়ের যন্ত্রণা পরিবারটিকে ভুগতে হয়েছে।

মস্তিষ্কের ক্যান্সারে ভাই বিউ আক্রান্ত থাকার সময় হান্টার মাদকে ঝুঁকে পড়েছিলেন। মাদকাসক্তির সঙ্গে তার লড়াই ও পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কে এর প্রভাবের যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতি হান্টারের আত্মজীবনী, ক্ষুদে বার্তা, ই-মেইল, ছবি ও ঘনিষ্ঠদের সাক্ষ্যে উঠে এসেছে।

বিচার চলাকালে ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনসহ হান্টারের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা তার পেছনে বসেছিলেন। এদের মধ্যে তার স্ত্রী মেলিসা কোহেন বাইডেনও ছিলেন। বিচারের বিরতিতে তারা তাকে আলিঙ্গন করতেন বা হাত ধরে সমর্থন দিতেন। তার সৎবোন অ্যাশলে আইনজীবীর শেষ বক্তব্যের সময় কেঁদেছিলেন।

পূর্বের বিবৃতিতে জো বাইডেন বলেছিলেন, "আমাদের পরিবার অনেক ঝামেলার মধ্য দিয়ে গেছে। আমি ও জিল হান্টার ও আমাদের পরিবারের পাশে থাকব ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে।"

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী নিজের শেষ যুক্তিতে বলেছিলেন, "যেমন প্রমাণ হাজির করা হয়েছে তা বিচ্ছিরি ও ব্যক্তিগত। এই প্রমাণ যথেষ্ট। হ্যান্ডগান ক্রয়ের সময় হান্টার ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যাচার করেছেন।"

শেষ পর্যন্ত সব জুরিও এতে সম্মত হয়েছেন। এই দোষী সাব্যস্তের রায়ের অর্থ হলো প্রেসিডেন্ট প্রথম স্ত্রীর বেঁচে থাকা একমাত্র ছেলেকে হয়ত কারাগারে যেতে হবে। প্রায় ৫০ বছর আগে বাইডেনের প্রথম স্ত্রী নবজাতক মেয়েকে নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন।

হান্টার বাইডেন এখন সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু বিচারক তার সাজা ঘোষণার পরও আইনি জটিলতার অবসান হবে না। ১.৪ মিলিয়ন ডলার আয় কর পরিশোধের ব্যর্থতার অভিযোগে আরেকটি মামলাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেপ্টেম্বরে এই মামলার বিচার শুরু হতে পারে। নির্বাচনের মাত্র দুই মাস আগে এই বিচারে আদালতকক্ষে হয়ত এবারের মতো আবেগের প্রকাশ দেখা যাবে না। প্রেসিডেন্টের জন্য ওই বিচারটি রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। হান্টারের বিদেশি বাণিজ্য ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্কের বিষয়টি বাইডেনের রিপাবলিকান সমালোচকদের নজরে রয়েছে সব সময়।

মাদকাসক্তি ও এর পরিণতি হয়ত অনেক মার্কিন নাগরিকের জীবনে এসেছে। কিন্তু আর্থিক অনিয়ম ও কর জালিয়াতির মতো অভিযোগ ভোটারদের মনে কম সহানুভূতি তৈরি করতে পারে।

 

/এএ/
সম্পর্কিত
গাজায় শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৭
তাইওয়ান প্রণালিতে চীনা সাবমেরিন, নজর রাখছে তাইপে
জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর বাড়ির সামনে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
সর্বশেষ খবর
দুই উপজেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ, সিসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল
দুই উপজেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ, সিসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল
আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তেমন অভিযোগ আসেনি: ওবায়দুল কাদের
আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তেমন অভিযোগ আসেনি: ওবায়দুল কাদের
গাজায় শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৭
গাজায় শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৭
সেন্টমার্টিন সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে: বাহাউদ্দিন নাছিম
সেন্টমার্টিন সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে: বাহাউদ্দিন নাছিম
সর্বাধিক পঠিত
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ দ্বারপ্রান্তে, ভারতীয় জ্যোতিষের ভবিষ্যদ্বাণী
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ দ্বারপ্রান্তে, ভারতীয় জ্যোতিষের ভবিষ্যদ্বাণী
মাংস কেনা-বেচার ঈদ মোহাম্মদপুরে
মাংস কেনা-বেচার ঈদ মোহাম্মদপুরে
বাড়ি ফিরে পেতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ফুটপাতে দিদারুল
ঈদের দিনে অনশনবাড়ি ফিরে পেতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ফুটপাতে দিদারুল
থমথমে ‘তুফান’, অন্তর্জালে ‘দরদ’ মুগ্ধতা
থমথমে ‘তুফান’, অন্তর্জালে ‘দরদ’ মুগ্ধতা
২৪ বছর পর রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ায় পুতিন
২৪ বছর পর রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ায় পুতিন