কমলার পরাজয়: যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারীদের আরেকটি বড় ধাক্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ নভেম্বর ২০২৪, ২২:০২ আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ২৩:০১

মার্কিন রাজনীতিতে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার পথটি আরও একবার বন্ধ হলো। দ্বিতীয়বারের মতো কোনও প্রধান রাজনৈতিক দলের মনোনীত নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনে হেরে গেলেন। মঙ্গলবার রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের পরাজয় একদিকে মার্কিন রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতাকে তুলে ধরেছে, অন্যদিকে এটি মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৬ সালে ট্রাম্পের কাছেই হিলারি ক্লিনটনের পরাজয়ের কথা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

হ্যারিসের পরাজয়ের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এডিসন রিসার্চের এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সমীক্ষায় দেখা গেছে, নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাবও প্রভাবিত করেছে। অক্টোবরে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের ৫৫ শতাংশ মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্রে লিঙ্গবৈষম্য একটি বড় সমস্যা। ১৫ শতাংশ ভোটার এমনটাও জানিয়েছেন যে তারা কখনোই একজন নারী প্রেসিডেন্টের পক্ষে ভোট দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৩টি দেশের সরকারপ্রধান নারী। যদিও ১৯৯০ সাল থেকে ক্রমান্বয়ে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রকট। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ৫১ শতাংশ নারী এবং ৪২ শতাংশ বিভিন্ন বর্ণের জাতিগোষ্ঠী হলেও সরকারি প্রতিনিধিত্ব এবং পেশাগত ক্ষেত্রে নারীরা এখনও অনেক পিছিয়ে রয়েছেন।

কমলা হ্যারিসের পরাজয় মার্কিন রাজনীতিতে নারীদের ভবিষ্যৎ পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে। নারীর প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং ক্ষমতার আসনে তাদের অন্তর্ভুক্তির বাধাগুলো দূর করতে আরও রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তা উঠে আসছে।

কংগ্রেস ও গভর্নর পদে নারীর অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২২-২৪ সালের কংগ্রেসে মোট সদস্যের ২৮ শতাংশ নারী, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া, ২৫ শতাংশ আইনপ্রণেতা নিজেদের কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্পানিক, এশীয় আমেরিকান, আমেরিকান ভারতীয়, আলাস্কান নেটিভ বা মিশ্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আমেরিকান নারীদের রাজনৈতিক অবস্থানের উন্নতির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তারা এখনও নেতৃস্থানীয় পদে ব্যাপকভাবে অনুপস্থিত।

১৯৭৫ সালে ইলা গ্রাসো যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ৪৯ জন নারী গভর্নরের পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু এদের মধ্যে মাত্র তিন জন নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন, যারা শ্বেতাঙ্গ ছিলেন না।

হোয়াইট হাউজের দরজায় এখনও বাধা

এখন পর্যন্ত নির্বাচিত প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট পুরুষ। যদিও ২০০৮ সালে বারাক ওবামা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনে জিতলে, হ্যারিস প্রথম নারী এবং প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী প্রেসিডেন্ট হতেন। ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন ছিলেন ২০১৬ সালে প্রধান দলের মনোনীত প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। তিনি জনপ্রিয় ভোটে জিতেও ইলেক্টোরাল কলেজে পরাজিত হন। হ্যারিস ছিলেন প্রথম নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট। যিনি ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

বেতন বৈষম্য

২০ শতকে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে কিছু উন্নতি হলেও ২১ শতকে বেতন বৈষম্য দূরীকরণে অগ্রগতি কমেছে। ১৯৮২ সালে নারীরা পুরুষদের প্রতিটি ডলারের বিপরীতে ৬৫ সেন্ট উপার্জন করতেন। ২০০২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ সেন্টে। ২০২৩ সালে পূর্ণকালীন কর্মজীবী নারীরা পুরুষদের প্রতি ডলারের বিপরীতে ৮৪ সেন্ট উপার্জন করছিলেন।

শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য

জাতীয় শিক্ষা কেন্দ্রের তথ্যানুসারে, ১৯৮১ সাল থেকে নারীরা পুরুষদের তুলনায় স্নাতক ডিগ্রির হার বেশি অর্জন করছে। ২০১৯ সালে নারীরা উচ্চশিক্ষিত শ্রমশক্তির অধিকাংশ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন এবং কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে এই প্রবণতা আরও তীব্রতর হয়েছে।

মাতৃত্বজনিত মৃত্যুহার

উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মাতৃত্বজনিত মৃত্যুহার সর্বোচ্চ এবং এই মৃত্যুহার ৮০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে মাতৃত্বজনিত মৃত্যুহার শ্বেতাঙ্গ নারীদের তুলনায় তিনগুণ বেশি। এ বৈষম্যের কারণ হিসেবে সিডিসি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কাঠামোগত বৈষম্য এবং চিকিৎসা প্রদানকারীদের পূর্বনির্ধারিত ধ্যান-ধারণার দিকে আঙুল তুলেছে।

 

/এএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ইয়েমেনে হুথিদের হামলায় নিহত ৭৩
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
কানাডার আলবার্টা প্রদেশে নির্বাচনে মার্কিন ডানপন্থিদের শোচনীয় পরাজয়
সর্বশেষ খবর
নদী পার করার কথা বলে নৌকায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩
নদী পার করার কথা বলে নৌকায় তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩
দেশ গড়তে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশ গড়তে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রবাসী ছেলের ঘরে ঠাঁই হলো ৮৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের
প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রবাসী ছেলের ঘরে ঠাঁই হলো ৮৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের
বিতর্ক সামলাতে পদত্যাগ: সরকারের অস্বস্তি কাটছে কি?
বিতর্ক সামলাতে পদত্যাগ: সরকারের অস্বস্তি কাটছে কি?
সর্বাধিক পঠিত
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
ইশরাকের পদত্যাগের পরই ‘ক্ষমতা’ নিয়ে স্ত্রীর বার্তা
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, দুইপক্ষ এক হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে গাড়ি থামালেন প্রধানমন্ত্রী, দিলেন উপহার
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
ওআইসির কাশ্মির প্রস্তাবের নিন্দা ভারতের
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত
পদত্যাগ করানো সরকারের প্যারাসিটামল থেরাপি: হাসনাত