চলমান ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি রূপ নিয়েছে এক বিশাল ‘আমেরিকা দর্শনে’। বিশ্বজুড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি কিছুটা মিশ্র, ঠিক তখনই দেশটির ২৫০তম জন্মদিনের প্রাক্কালে এই টুর্নামেন্ট মার্কিন সাংস্কৃতিক প্রভাব প্রদর্শনের এক বিশাল সুযোগ হয়ে উঠেছে।
মাঠের বাইরে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা বোস্টনে স্কটিশ সমর্থকদের আগমন। স্কটল্যান্ডের ফুটবলপ্রেমীরা বোস্টন শহরটিকে যেমন ভালোবেসে ফেলেছেন, স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের আপন করে নিয়েছেন।
স্কটিশ সমর্থকেরা স্থানীয় বিখ্যাত স্যাম অ্যাডামস ব্রুওরির সব বিয়ার পান করে শেষ করে ফেলেছেন। পেনওয়ে পার্কে তারা যে ফুটবল উন্মাদনা দেখিয়েছেন, তা ছিল চোখে পড়ার মতো; এমনকি এক ছোট বালক সেখান থেকে একটি স্মারকও সঙ্গে করে নিয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, এই সমর্থকরা খেলা শেষে স্টেডিয়ামও পরিষ্কার করছেন।
এক স্কটিশ সমর্থক তো ম্যাসাচুসেটসের টানটনের একটি মার্কিন জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রের চমৎকার রিভিউ দিয়ে বসেছেন।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে আগামী ২৪ জুন ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে এই স্কটিশ সমর্থকরা পরে মিয়ামি সফর করবেন। বোস্টনের মেয়র মিশেল উ ইতোমধ্যে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক অংশীদারত্বের ঘোষণা দিয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
জার্মানির ফুটবলপ্রেমী ফ্রেডি’র স্বল্প বাজেটে আমেরিকা ভ্রমণের গল্প এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। মার্কিন স্টেডিয়াম, খাবার ও এমনকি গ্যাস স্টেশনগুলো নিয়ে তার মুগ্ধতা কোটি কোটি মার্কিনীর হৃদয় জয় করেছে। একজন মুক্তমনা পর্যটকের চোখে মার্কিনীরা এখন নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করছে।
অন্যদিকে, একটি মেক্সিকান রেস্তোরাঁয় ফ্রিতে দেওয়া চিপস ও সালসা নিয়ে এক জাপানি সমর্থকের কাব্যিক বার্তা ইতোমধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভিউ কুড়িয়েছে। তিনি লিখেছেন, আমার দেশে আতিথেয়তা হলো একধরনের ঋণ। প্রতিটি উপহার সেখানে একটি বাধ্যবাধকতা তৈরি করে, যা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে আবেগের সুদে ফিরিয়ে দিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু এখানে, আপনি রাতের খাবারের বিল পরিশোধ করতে পারবেন কি না তা প্রমাণ করার আগেই উপহার চলে আসে। এটি কোনও অ্যাপেটাইজার নয়, এটি একটি ঘোষণা: আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি। এবার খাওয়া শুরু করুন।
স্কটিশদের মতো জাপানি সমর্থকরাও খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার ঐতিহ্য ধরে রেখে সবার মন জয় করছেন।
সবকিছু অবশ্য এত সুখকর নয়। যেমনটা আগেই ধারণা করা হয়েছিল, আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ইউরোপের কিছু সমর্থক বেশ ভুগছেন। ইংল্যান্ডের এক সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আমাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। আমি কেবল বিশ্বকাপের জন্য এখানে নামলাম এবং গরমের ব্যাপারে তারা এত দিন যা বলেছিল, তা পুরোপুরি সত্যি ছিল।
আটলান্টায় বসবাসরত প্রথম প্রজন্মের হাইতিয়ান ইভ ডমিনিক গত সপ্তাহান্তে হাইতি ও স্কটল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটি দেখতে বোস্টনে এসেছিলেন। তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপ অন্য যেকোনও বিশ্বকাপের চেয়ে আলাদা। সব জায়গা থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসছে এবং তারা কেবল আনন্দ করতে এসেছে। ফুটবল আসলে এটাই করে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস









