২০২৬ সালে এসে ইন্টারনেটে কোনও পুরুষ স্ক্রল করলেই তার সামনে হাজির হচ্ছে চুল ধরে রাখার শত শত বিজ্ঞাপন। সাপ্লিমেন্ট, স্প্রে, রেড-লাইট মাস্ক কিংবা দুপুরের খাবারের বিরতিতে স্ক্যাল্পে প্লাজমা ইনজেকশন দেওয়ার পিআরপি থেরাপি; সবখানেই ‘আসল ফলাফলের’ চটকদার প্রতিশ্রুতি। অনেকে আবার চুল প্রতিস্থাপনের (হেয়ার ট্রান্সপ্ল্যান্ট) জন্য পাড়ি জমাচ্ছেন তুরস্কে।
চুল পড়ে যাওয়াকে যখন একটি ‘দূর করার মতো রোগ’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে, ঠিক তখনই এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে একদল তরুণ। ওষুধ, পিআরপি থেরাপি কিংবা পরচুলার পেছনে হাজার হাজার ডলার খরচ না করে তারা বেছে নিচ্ছেন ট্রিমার বা ক্ষুর। চুল লুকিয়ে রাখার জেদ ছেড়ে মাথা ন্যাড়া করে তারা হাজির হচ্ছেন বিভিন্ন উৎসব, গেট-টুগেদার কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে। ‘বল্ড ক্যাফে’, ‘বল্ড ব্রো’ কিংবা রেডডিটের কয়েকটি পেজ এখন এই ন্যাড়া মাথার মানুষদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। যেখানে শুধু রেডডিটের এক পেজেই রয়েছে প্রায় ৫ লাখ ফলোয়ার।
এই উদ্যোগের অন্যতম মুখ এবং বল্ড ক্যাফে’র প্রতিষ্ঠাতা ৩৫ বছর বয়সী হ্যারি জেমস বলেন, চুল প্রতিস্থাপনের যে জোয়ার এসেছে, এটি তার বিরুদ্ধে এক স্বাভাবিক প্রতিরোধ। অনেক পুরুষের জীবনে চুল পড়ে যাওয়াটাই প্রথম এমন একটি ঘটনা, যার ওপর তাদের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সেখানে মাথা ন্যাড়া করে ফেলাটা একটি সাহসী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।
অথচ বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটর জানাচ্ছে, ২০২৫ সালে কেবল আমেরিকাতেই চুল পড়ার চিকিৎসায় ১৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য বিক্রি হয়েছে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. জেরি শাপিরো জানান, ফিনাস্টেরাইড বা মিনোক্সিডিলের মতো ওষুধ চুল ধরে রাখতে সাহায্য করলেও এগুলো আজীবন ব্যবহার করতে হয় এবং সবার ক্ষেত্রে সমান কাজ করে না। উপরন্তু, ফিনাস্টেরাইডের মতো ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে।
এই খরুচে ও কৃত্রিম পদ্ধতির বিপরীতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে নিজেকে মেনে নেওয়ার এই ধারাকে বলা হচ্ছে ‘বল্ডম্যাক্সিং’। মাথা ন্যাড়া করার আগে নিজের চুলের একটি প্রতীকী শেষকৃত্যের আয়োজন করেছিলেন ৩২ বছর বয়সী সংগীতশিল্পী রবার্ট ক্যাপ্রন। বন্ধুরা মিলে মোমবাতি জ্বালিয়ে তার সুন্দর চুলের দিনগুলোর ছবি প্রিন্ট করে এই বিদায় অনুষ্ঠান করেন। ন্যাড়া হওয়ার পর ফিলডেলফিয়ায় তিনি একটি টাক উৎসবের আয়োজন করেন, যেখানে ৪৫ জন মানুষ অংশ নেন। যাদের মাথায় চুল ছিল, সংহতি জানাতে তাদের কৃত্রিম টাকের ক্যাপ পরানো হয়েছিল।
ম্যানহাটনের সেলুন ফ্রেন্ড অব অ্যা বারবার-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক মিগুয়েজ জানান, গত পাঁচ বছরে পুরুষদের মধ্যে মাথা ন্যাড়া করে দাড়ি রাখার প্রবণতা দারুণভাবে বেড়েছে। ন্যাড়া মাথায় অনেককে আরও তরুণ ও দীর্ঘকায় দেখায়। তিনি মনে করিয়ে দেন, ডোয়েন ‘দ্য রক’ জনসন কিংবা জেসন স্টেথামের মতো হলিউডের শীর্ষ নায়কেরাও কিন্তু টাক মাথার। মাথা ন্যাড়া করার পর অনেক পুরুষের আত্মবিশ্বাস এতটাই বেড়ে গেছে যে তারা চাকরিতে বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন কিংবা ক্ষতিকর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছেন।
২৫ বছর বয়সী কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জেমস স্টোলিস গত বছরের ৪ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার এক পাহাড়ের চূড়ায় উঠে মাথা ন্যাড়া করে তার ‘স্বাধীনতা’র ঘোষণা দেন। স্টোলিস বলেন, ‘সব শেষ। চুল নিয়ে আর কোনও দুশ্চিন্তা নেই আমার।’
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

শখ করে চুল ‘ধূসর’ করার হিড়িক!
কাজ না করে আয় করাই এখন নতুন ‘আমেরিকান স্বপ্ন’
এবার ‘মন ভালো’ করবে নাইকির জুতো!







