ব্রাজিল উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরিচালিত দুই সপ্তাহের এক সামুদ্রিক অভিযানে ৩১টি সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতির প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের ধারণা, এত কম সময়ে এতগুলো নতুন প্রজাতি খুঁজে পাওয়া এবং তাদের শনাক্ত করার ঘটনাটি একটি রেকর্ড হতে পারে। আর এই অভাবনীয় সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলী দলের তৈরি করা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যার ডাকনাম ‘স্কুইড’। এই প্রথম কোনও জাহাজে বসেই লেজার প্রযুক্তির মাধ্যমে অণুজীবের জীবন্ত ত্রিমাত্রিক কোষেদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ও কঙ্কাল গঠনের প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল ও জাপানের দুই ডজন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ এই জরিপটি পরিচালনা করেন। স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি’র প্রধান বিজ্ঞানী ডক্টর কারেন অসবর্ন বলেন, এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ছিল। সমুদ্রের মধ্যবর্তী স্তরটি এমন সব অবিশ্বাস্য প্রাণীতে ঠাসা, যাদের সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি।
সমুদ্রের তলদেশ এবং সূর্যের আলো পৌঁছায় এমন উপরিভাগের মধ্যবর্তী এই অঞ্চলটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাসস্থান (প্রায় ৯০ শতাংশ), অথচ এটিই সবচেয়ে কম অন্বেষণ করা হয়েছে।
নতুন আবিষ্কৃত ৩১টি প্রজাতির মধ্যে রয়েছে কাঁকড়া ও লবস্টারের দূরসম্পর্কের আত্মীয় এক ধরনের ক্রাস্টেসিয়ান (অ্যাম্ফিপড), একটি দ্রুতগামী গসামার ওয়ার্ম বা কৃমি, ৯টি জেলিফিশ, জেলিফিশ ও প্রবালের গোত্রীয় ৭টি সাইফনফোর, সাঁতার কাটার জন্য ঝিলমিলে লোমযুক্ত ৭টি কম্ব জেলি, ৪টি লার্ভাসিয়ান-যা ব্যাঙাচিসদৃশ প্রাণী যা মিউকাসের ঘরে বাস করে এবং মেরুদণ্ডহীন প্রাণীদের চেয়ে মানুষের বেশি কাছাকাছি এবং খালি চোখে দেখা যায় এমন দুটি বিশাল এককোষী রাইজারিয়ান।
বিজ্ঞানীরা এই অভিযানকে সমুদ্রের স্তরের বিন্যাসের সঙ্গে তুলনা করেছেন। রাতের বেলা গভীর সমুদ্রের প্রাণীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে খাবারের সন্ধানে উপরিভাগে চলে আসে, যা সমুদ্রের কার্বন শোষণে বড় ভূমিকা রাখে।
এই প্রসঙ্গে ডক্টর অসবর্ন বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মানবজাতি এ পর্যন্ত যা খুঁজে পেয়েছে তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। সমুদ্রের বিশাল প্রাণিজগত জীবনের নানা প্রতিকূলতার সমাধান করছে নিজস্ব ও অদ্ভুত উপায়ে। আমরা তাদের যত ভালোভাবে বুঝব, ততই নতুন কিছু শিখতে পারব।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

টাক মাথা উদযাপন করছেন তরুণেরা
তীব্র গরমেও কেন এসি ব্যবহার করতে পারছে না ইউরোপ
বছরে মাত্র দুই মাস থাকে যে বরফ নগরী







