বছরে মাত্র দুই মাস থাকে যে বরফ নগরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫১

পৃথিবীতে এমন কিছু চমৎকার জায়গা আছে যার স্থায়ীত্ব মাত্র কয়েক দিন, এরপরই তা বিলীন হয়ে যায় সম্পূর্ণভাবে। প্রতি শীতকালে চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হারবিনে হিমায়িত এক নদী থেকে কেটে আনা হাজার হাজার বরফের খণ্ড দিয়ে তৈরি করা হয় দুর্গ, প্রাসাদ ও নজরকাড়া সব ভাস্কর্য। আর বসন্তের আগমন ঘটলেই এই পুরো শহরটি গলে বিলীন হয়ে যায়। যারা জীবনে ভিন্নধর্মী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা খুঁজছেন, তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থান পাওয়ার যোগ্য এই বরফ নগরী।

চীনের অন্যতম শীতলতম অঞ্চল হেইলুংচিয়াং প্রদেশের রাজধানী হলো এই হারবিন। প্রতি শীতে এখানকার তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়া শিল্পী ও প্রকৌশলীদের জন্য বরফ ও তুষার দিয়ে আস্ত একটি শহর গড়ার নিখুঁত পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলেই গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম বরফ ও তুষারভিত্তিক থিম পার্ক ‘হারবিন আইস অ্যান্ড স্নো ওয়ার্ল্ড’। এর অসাধারণ দিকটি হলো, এখানে দৃশ্যমান বিশাল সব বরফের দুর্গ, দৈত্যাকার স্লাইড, টানেল কিংবা বিশ্বের বিখ্যাত সব স্মৃতিস্তম্ভের বরফ প্রতিকৃতি সবই সাময়িক। তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করলেই এই হিমায়িত শহরটি ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়, যা পরবর্তী শীতে আবার নতুন করে তৈরি করা হয়।

দিনের বেলা হারবিনের রূপ চমৎকার হলেও আসল জাদু শুরু হয় সূর্যাস্তের পর। অন্ধকার নামতেই হাজার হাজার রঙিন এলইডি বাতি স্বচ্ছ বরফের কাঠামোগুলোকে নীল, গোলাপি, সবুজ ও বেগুনি রঙে আলোকিত করে তোলে। এই আলো ঝলমলে রাস্তা দিয়ে হাঁটার অনুভূতি যেন কোনও কাল্পনিক সিনেমার দৃশ্যে রূপ নেয়। আর এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতেই প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আলোকচিত্রী ও পর্যটকেরা এখানে ছুটে আসেন।

ইনস্টাগ্রামে ছবি দেওয়ার মতো চমৎকার দৃশ্যের পাশাপাশি হারবিনে পর্যটকদের জন্য রয়েছে দারুণ সব অভিজ্ঞতা। দর্শনার্থীরা বিশাল এই বরফ নগরী ঘুরে দেখার পাশাপাশি ‘সান আইল্যান্ড সিনিক এরিয়া’র বিশাল তুষার ভাস্কর্যগুলো উপভোগ করতে পারেন। এছাড়া বরফের স্লাইড ও স্কেটিংয়ের মতো বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিতে মেতে ওঠার সুযোগ তো রয়েছেই। কনকনে ঠান্ডায় দিন কাটানোর পর শরীর গরম করতে এখানকার ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু ‘দংবেই’ খাবারের স্বাদ নেন পর্যটকেরা।

চৈনিক ও রুশ সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিশ্রণ এই শহরটিকে কেবল একটি বরফ উৎসবের চেয়েও বেশি সাংস্কৃতিক মাত্রা দিয়েছে। উনিশ শতকের শেষের দিকে এবং বিশ শতকের শুরুতে চাইনিজ ইস্টার্ন রেলওয়ে নির্মাণের পর এই শহরের দ্রুত বিকাশ ঘটে, যা বিশেষ করে রাশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের মানুষকে এখানে বসতি গড়তে আকর্ষণ করেছিল। সেই বহুমাত্রিক অতীতের ছাপ আজও এখানকার স্থাপত্য, গির্জা ও খাবারে স্পষ্ট।

সাধারণত আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে ডিসেম্বরের শেষ বা জানুয়ারির শুরুতে এই ‘হারবিন ইন্টারন্যাশনাল আইস অ্যান্ড স্নো ফেস্টিভ্যাল’ শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত চলে। তবে জানুয়ারি মাসকে এখানে ভ্রমণের জন্য সেরা সময় মনে করা হয়, কারণ এ সময় ভাস্কর্যগুলোর নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হয় এবং তীব্র শীতের কারণে সেগুলো তার জমকালো রূপ ধরে রাখে। যেহেতু এই সময়ে হারবিনের তাপমাত্রা প্রায়ই মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়, তাই থার্মাল ইনার, বিশেষ বুট জুতো, গ্লাভস ও শীতের গরম কাপড় সাথে রাখা আবশ্যক। হাড়কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করে প্রতি বছর লাখো দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করা এই ক্ষণস্থায়ী ও চোখধাঁধানো নগরীটি পর্যটকদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর সবচেয়ে অবিস্মরণীয় গন্তব্যগুলোর কয়েকটি আসলে খুবই ক্ষণস্থায়ী হয়।

সূত্র: এনডিটিভি

/এএ/
সম্পর্কিত
অস্ত্র সমর্পণে ইরানি গোষ্ঠীগুলোকে নতুন সময় দিলো ইরাক
ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রার্থী ‘ট্রাম্প’, ‘ওবামা’, কেন জানেন?
যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে আরও কঠোর জবাবে প্রস্তুত ইরান, অনিশ্চিত কূটনীতি
সর্বশেষ খবর
৯ গোলে হেরে যা বললেন বাংলাদেশ কোচ
৯ গোলে হেরে যা বললেন বাংলাদেশ কোচ
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিনের পোস্ট, স্কুলছাত্র কারাগারে
সার্বিয়াকে হারিয়ে স্বস্তির জয় জার্মানির
সার্বিয়াকে হারিয়ে স্বস্তির জয় জার্মানির
রোনালদোকে ছাড়াই ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে হারালো পর্তুগাল
রোনালদোকে ছাড়াই ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে হারালো পর্তুগাল
সর্বাধিক পঠিত
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘বের করে দিলেন’ রুবিও
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
এলপিজি: বেশি দামে বিক্রি হলে কঠোর ব্যবস্থা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
‘আম্মার উড়ে আসা নেতা’, কার ওপর গজব পড়ার কথা বললেন উমামা
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বের হয়ে যা বললেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
বিএনপির রাজনীতিতে যেভাবে উত্থান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির
বিএনপির রাজনীতিতে যেভাবে উত্থান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির