বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের কাছে বেদনাদায়ক হার এবং লিওনেল মেসির চোখের জলের রেশ কাটতে না কাটতেই বৈশ্বিক ক্ষোভের মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। খেলোয়াড়দের আগ্রাসী আচরণ, পুরনো বর্ণবাদী গান এবং সমর্থকদের আচরণকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে ঘিরে ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত আর্জেন্টাইনরা। তাদের অভিযোগ, পুরো দেশকেই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খলনায়ক বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফাইনাল শেষে স্পেনীয় ফুটবলার ও স্টাফদের ওপর আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের হামলা, ২০২৪ সালের একটি পুরোনো ভিডিওতে ফরাসি খেলোয়াড়দের নিয়ে করা বর্ণবাদী গান এবং এক কৃষ্ণাঙ্গ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে এক আর্জেন্টাইন ভক্তের গালাগাল করার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর জেরে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও স্যামুয়েল এল জ্যাকসন এবং এরিক অ্যান্ড্রে-র মতো হলিউড তারকারা আর্জেন্টিনাকে ‘বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ’ বলে খোঁচা দেন। এমনকি মার্কিন কংগ্রেসেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে কোনও কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড় না থাকা নিয়ে আলোচনা গড়ায়।
এমন পরিস্থিতি দেখে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘তারা আসলে আমাদের ওপর হিংসা করে। কারণ আমরা প্রায় সব কিছুতেই সেরা।’
তবে আর্জেন্টাইনরা সব অভিযোগ অস্বীকার করছেন না। তারা খেলোয়াড়দের সহিংস আচরণ এবং বর্ণবাদী মন্তব্যের নিন্দা জানালেও, পুরো দেশ ও সমাজকে এভাবে এককাতারে দাঁড় করিয়ে কাঠগড়ায় তোলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
আর্জেন্টিনার খ্যাতনামা সাংবাদিক পেদ্রো রোসেমব্লাট কটাক্ষ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের তারকা এবং সাধারণ মানুষেরা আজ আন্তর্জাতিক বিচারকের আসনে বসেছেন, যাদের নিজেদের ইতিহাসই বর্ণবাদ, যুদ্ধ ও উপনিবেশে ভরা।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে গবেষক দানিয়েল শ্টেইনগার্ট জানান, আর্জেন্টিনায় অভিবাসী বা অন্য দূরবর্তী বর্ণের প্রতি বিদ্বেষ যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স বা স্পেনের চেয়েও অনেক কম।
একই সঙ্গে ইদেন্দিতাদ মারন নামের একটি আদিবাসী অধিকার সংগঠন জানায়, আর্জেন্টিনায় বর্ণবাদ থাকলেও তা অন্য দেশের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। তাই বলে পুরো জাতিকে একটি নেতিবাচক ফ্রেমে বন্দি করা একেবারেই অনুচিত।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

পানিপুরির উদ্ভাবক কি মহাভারতের দ্রৌপদী
ভারতের ‘চকলেট শহর’ কোনটি
জেন-জিদের সংসার ভাঙছে এআই







